“টাইমস অফ ইন্ডিয়া” ভারতীয় মদ প্রস্তুতকারক হরি খোডে যে প্রস্তাব করেছেন, তা প্রকাশ করেছে এই ভাবে যে, “টাটাগুনি” এলাকায় রোয়েরিখদের বাস ভবন ও জাদুঘরের সংলগ্ন ব্যবসায়ী তাঁর অধিকারের থেকে ৫০০ একর জমিতে শহরের জঞ্জাল ফেলার জন্য জায়গা করে দেবেন. এই খবরে রাশিয়াতে খুবই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে অবিলম্বেই. মস্কো শহরে আন্তর্জাতিক রোয়েরিখ ঐতিহ্য সংরক্ষণের পরিষদ তৈরী করা হয়েছে. সেই পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কূটনীতিবিদ ও প্রাক্তন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার লোসিউকভ. কূটনীতিবিদের পক্ষে উপযুক্ত ধৈর্য সহকারে তিনি এই সংবাদ বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ণ করে বলতে গিয়েও তাঁকে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফেলতে হয়েছে. রোয়েরিখ পরিবার, যাঁদের জীবন ভারতের সঙ্গেই জড়িত, তাঁরা বিশ্বের জন্য এক অমূল্য সম্পদ রেখে গিয়েছেন, এই কথাই মনে করিয়ে দিয়ে কূটনীতিবিদ বলেছেন:

“রোয়েরিখ পরিবারের ঐতিহ্য বহু সহস্র বিরল চিত্রের মধ্যে রয়েছে, হিন্দুস্থানের সংস্কৃতি নিয়ে লেখা প্রচুর বইতে রয়েছে, স্ভিয়াতোস্লাভ ও নিকোলাই রোয়েরিখের আঁকা ছবি বিশ্বের বহু বিখ্যাত জাদুঘর ও চিত্র শালায় রয়েছে. তা রয়েছে যেমন রাশিয়াতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ইউরোপের দেশ গুলিতে, আর, অবশ্যই ভারতেও, বাঙ্গালোর শহরের কাছে “টাটাগুনি” এলাকায় তাঁদের জমিদারীতে, যেখানে বহু বছর ধরেই স্ভিয়াতোস্লাভ রোয়েরিখ তাঁর সিনেমা অভিনেত্রী স্ত্রী দেবিকারাণীর সঙ্গে বাস করেছিলেন. আমরা বাঙ্গালোর থেকে আসা খবরে খুবই উদ্বিগ্ন. আমরা আমাদের সমস্ত সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, যাঁরা স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহে, বাল্টিক রাষ্ট্র গুলিতে, বালগেরিয়াতে, ভারতে আছেন ও যাঁরা বিশ্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণের বিষয়ে রোয়েরিখদের যত্নশীলতার ধারণাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ও বিশ্বের সমস্ত জায়গাতেই তাঁদের স্মৃতি বিজড়িত বস্তু গুলিকে রক্ষা করে চলেছেন. আর বর্তমানের এই পরিস্থিতিতে, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই পরিষদ গঠনের, যার প্রধান কাজ হবে রোয়েরিখদের উত্তরাধিকার গুলিকেই সংরক্ষণ করা”.

কিছুদিন আগেই ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে যে, কর্নাটক রাজ্যের এক প্রাক্তন রাজনীতিবিদ প্রস্তাব করেছিলেন টাটাগুনি এলাকায় রোয়েরিখদের জমিদারীকেই জঞ্জাল ফেলার জায়গায় পরিণত করার মতো ঘৃণ্য কাজের. তা সমাজের সব স্তরের পক্ষ থেকেই নিন্দিত হয়েছিল. ভারতের হাইকোর্ট দীর্ঘ সময় ধরে বিচারের পরে ২০১১ সালে সমস্ত রকমের বেআইনি অধিকার থেকে উদ্ধার করে “টাটাগুনি” এলাকায় জাদুঘর তৈরী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে.

রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভারতীয় গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান, ডক্টর তাতিয়ানা শাউমিয়ান বাঙ্গালোর থেকে আসা খবর নিয়ে নিজের আবেগকে লুকিয়ে রাখেন নি. এই ধরনের তথাকথিত উদ্যোগ একেবারেই আতঙ্কিত করে দেয়! – বলেছেন তিনি. এটা সেই জায়গা, যে টাটাগুনি জমিদারীতে রোয়েরিখদের বাসভবনে বহু বছর ধরেই সারা বিশ্ব, ভারত ও রাশিয়ার বহু বিখ্যাত সংস্কৃতি জগতের দিকপাল মানুষ এসেছেন, যেখানে বহু চিত্র প্রদর্শনী হয়েছে, আলোচনা হয়েছে বহু বৈঠক ও প্রদর্শনী নিয়ে, যা পরবর্তী কালে সাফল্যের সঙ্গে ভারতে, রাশিয়ায় ও অন্যান্য দেশে করা হয়েছে, রোয়েরিখদের, যাঁরা বাঙ্গালোরকেই বিখ্যাত করেছেন নিজেদের শৈলী দিয়ে, তাঁদের জায়গাকেই জঞ্জাল ফেলার জায়গা করতে হবে, এছাড়া কি আর কোন জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না?! তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আরও বলেছেন:

“রোয়েরিখরা ভারত ও রাশিয়ার মৈত্রী বৃদ্ধির জন্য খুবই বড় অবদান রেখেছেন – তাদের উত্তরাধিকার সেই ধরনের সাংস্কৃতিক ভাবে মূল্যবান বিষয়, যা রাশিয়া ও ভারতে মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে. রোয়েরিখদের সঙ্গে জড়িত সমস্ত কিছুর প্রতিই যথাযোগ্য মনোযোগ দেওয়া এমনকি দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের আলোচনার সময়ে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে. একেবারেই অমার্জিত, বন্য ও ঘৃণ্য প্রস্তাব, যা বাঙ্গালোরে করা হয়েছে, তা এই সব প্রস্তাবের যারা স্রষ্টা, তাদের যথেষ্ট সম্যক জ্ঞানের অভাবই স্পষ্ট করে দেয়, তাঁদের রোয়েরিখদের চিত্র, বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ড, সাহিত্যিক রচনার বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকারই প্রমাণ দিয়েছে. সেই গুলি বিরল ধরনের! আর আমরা বাধ্য আমাদের উত্তরাধিকারীদের জন্য এই পরিবারের সঙ্গে জড়িত সমস্ত কিছুই সংরক্ষণ করতে”.

0মস্কোতে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক পরিষদ, যা রোয়েরিখ পরিবারের উত্তরাধিকার যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণের জন্য তৈরী করা হয়েছে, তার প্রধান আলেকজান্ডার লোসিউকভ ঠিক করেছেন খুব শীঘ্রই ভারতের বাঙ্গালোরে যাওয়ার. আর সেখানের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করার, যে শহরকে এতটাই ভালবেসে রোয়েরিখ পরিবারের বিখ্যাত রুশ শিল্পী ভারতের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে যুক্ত হয়ে তাঁর ছবিতে এঁকেছিলেন.