রাশিয়ার পাইলট চালিত মহাকাশযান “সইউজ” মহাকাশচারীদের নিয়ে বুধবারে বৈকনুর মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকে রওয়ানা হয়েছে. আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে এই যানের সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে ২১শে ডিসেম্বর. এবারের মহাকাশচারীদের দলে রয়েছেন রাশিয়া থেকে কম্যান্ডার রমান রমানেঙ্কো, কানাডা থেকে ক্রিস হলফিল্ড আর আমেরিকা থেকে টমাস মাশবিয়র্ন.

মায়া ক্যালেণ্ডারে নাকি বলা হয়েছে, এই রকম একটা “পৃথিবী ধ্বংস” হওয়ার দিনটিতেই পাইলট চালিত মহাকাশ যানের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছনোর কথা. কিন্তু যাঁরা এই মহা বিশ্বকে জয় করতে চলেছেন, তাঁরা এই সম্বন্ধে এমনকি ভাবেনও না. তাঁদের প্রধান কাজ – আগামী সময়ে কক্ষপথের স্টেশনের সঙ্গে নিখুঁত ভাবে যুক্ত হওয়া. তা হবে একটা জয়ন্তী সংযোগ – সংখ্যায় দেড়শো তম. এই বারের অভিযাত্রীদের বিশেষত্ব হল – তিন জনই নতুন নন, তাঁরা আগেও মহাকাশ যাত্রা করেছেন, এই কথা উল্লেখ করে মহাকাশচারীদের প্রস্তুতি কেন্দ্রের তথ্য সম্প্রচার দপ্তরের মুখপাত্র ইরিনা রোগভা বলেছেন:

“ওঁরা সকলেই আগে মহাকাশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রাখেন. সহকর্মীদের চেয়ে রমান রমানেঙ্কোর এই অভিজ্ঞতা বেশী দিনের. তিনি মহাকাশে ছিলেন ২০০৯ সালের মে থেকে ডিসেম্বর মাসে. ক্রিস হলফিল্ড এর আগেও দুবার শাটলে চড়ে মহাকাশে গিয়েছেন, অর্থাত্ অল্প সময়ের জন্যে. আর টমাস মাশবিয়র্ন এর আগে একবার শাটলে চড়ে মহাকাশে গিয়েছেন. এই অভিযাত্রী দলের সাঙ্কেতিক ডাকনাম – “পাল”. মহাকাশের কক্ষপথে তাঁরা কাজ করতে চলেছেন প্রায় দেড়শো দিনের জন্যে”.

“সইউজ” মহাকাশযানের কম্যান্ডার – এক বংশ পরম্পরায় মহাকাশের অভিযাত্রী. তাঁর পিতা ইউরি রমানেঙ্কোর একটি অভিযান এখনও বিশ্বের মহাকাশে অবস্থানের ইতিহাসে দৈর্ঘ্যের দিক থেকে রেকর্ড সময়ের হয়ে রয়েছে. তিনি ১৯৮৭ সালে আলেকজান্ডার আলেকসান্দ্রভের সঙ্গে একত্রে মহাকাশ স্টেশন “মিরে” ছিলেন ৩২৬ দিন.

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অভিযাত্রী দলকে অনের কাজ করতে হবে, তার মধ্যে খোলা মহাকাশে দুইবার বের হওয়াও রয়েছে. শুধু রাশিয়ার এক্তিয়ারে থাকা বৈজ্ঞানিক কাজকর্মের মধ্যেই আছে প্রায় ৪০টি পরীক্ষা. এই অভিযাত্রীরা আবার চারটি রুশ ও তারই সঙ্গে আমেরিকা ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের তরফ থেকে পাঠানো মালবাহী মহাকাশ যান স্টেশনে গ্রহণ করা ও তার থেকে মাল ওঠানো নামানো করতে হবে. মহাকাশের কাজকর্ম থেকে অবসরের সময়ে এই অভিযাত্রীরা ঠিক করেছেন অংশতঃ সঙ্গীতে সময় ব্যয় করার. এই তিন জনই খুব ভালবাসেন গিটার বাজাতে, আর ক্রিস হলফিল্ড এমনকি ঠিক করেছেন মহাকাশে কয়েকটি গান রেকর্ড করার.

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এর মধ্যেই ১৪ বছর রয়েছে. এই বছর গুলিতে সেখানে পৃথিবীর ১৫টি দেশ থেকে ২০০ মানুষ গিয়ে থেকেছেন.

আগামী বছরে রাশিয়ার এই স্টেশনের জায়গায় পাঁচটি ব্লকের সঙ্গে আরও একটি ল্যাবরেটরী যোগ করা হবে. তার পরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আরও দুটি রুশ মডিউল যোগ করা হবে. রাশিয়া, কানাডা, ইউরোপ, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কাজ করা উচিত হবে কম করে হলেও ২০২০ সাল পর্যন্ত.