বুধবার পাকিস্তানের সর্বত্র পোলিও রোগের প্রতিষেধক খাওয়ানো মুলতুবি রাখা হয়েছে. যে সব চিকিত্সাকর্মীরা ঐ কাজে নিয়োজিত ছিল, তাদের কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে. ‘ইউনিসেফে’র শিশু তহবিলের মুখপাত্র মাইকেল কোলম্যান এই সম্পর্কে জানিয়েছেন. এই বিষয়ে সবিষদে জানাচ্ছেন আমাদের পর্যবেক্ষক গেওর্গি ভানেতসোভ.

টীকা দেওয়ার কাজ পাকিস্তানে শুরু হয় সোমবারে ‘ইউনিসেফে’র তত্ত্বাবধানে. তারপরে পরেই দেশে একসারি হামলায় এখনো পর্যন্ত অন্ততঃ ৯ জন প্রাণ হারিয়েছে. মাস দুয়েক আগে উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরস্তানেও একইভাবে শিশুদের টীকা দেওয়া বানচাল করে দেওয়া হয়েছিল.

আপাততঃ চিকিত্সাকর্মীদের হত্যা করার দায়ভার কেউ গ্রহণ করেনি. তবে জানা গেছে, যে উগ্রপন্থী ইসলামী তালিবরা টীকা দেওয়ার বিরূদ্ধে. চিকিত্সাকর্মীদের হত্যাকান্ডে গোটা বিশ্ব জনসমাজ প্রচন্ড ক্ষুব্ধ. অগাস্ট মাসে পাকিস্তানে বৃটিশ চিকিত্সক খালিলা ডেইলাকে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করার প্রতিবাদে রেডক্রশ সে দেশে ত্রাণ সাহায্য বিলি করা স্থগিত রেখেছে. মস্কোস্থিত স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মী আজদার কুর্তভ উল্লেখ করছেনঃ ---

পাকিস্তানে ইদানীং স্বরাষ্ট্র ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে উথাল-পাথাল চলছে. সেনাবাহিনী দেশের শাসনক্ষমতা থেকে সরে গেলেও দেশ কিছুতেই গণতন্ত্রের দিকে স্থিতিশীল পদক্ষেপ নিয়ে এগোতে পারছে না. পাকিস্তানকে নিরন্তর ভাবে নাড়া দিয়ে চলেছে গুপ্ত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির হামলা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীদের ওপর. ইদানীং টালমাটাল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলির কর্মীদের ওপর হামলা চলছে আরও ঘন ঘন.

এই ক্ষেত্রে সর্বনাশ ঘটিয়েছে সি.আই.এর কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়া পাকিস্তানের চিকিত্সক শাকিল আফ্রিদির কাহিনী, যে আব্বোতাবাদ শহরে শিশুদের মধ্যে পোলিও রোগের প্রতিষেধক বিলি করার দায়িত্ব পেয়েছিল. ওসামা বিন লাদিনকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে সেটা কম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনি.

এদিকে পাকিস্তান বিশ্বে এখনো একটা দুষ্কর দেশ, যেখানে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হয়. গত বছরে পাকিস্তানে এক দশকের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক শিশু পোলিও রোগে আক্রান্ত হয় – ১৯৮ জন. বিশেষতঃ ভুক্তভোগী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, যেখানে দেশের মধ্যাঞ্চলের তুলনায় জীবনযাত্রার মান বেশি নীচু ও চরমপন্থী ইসলামীদের প্রভাবও সেখানে প্রবল.

অনেকেই ওখানে এই আজগুবি কথায় বিশ্বাস করছে, যে সরকার নাকি এভাবেই টীকা দিয়ে পুশতুদের নপুংসক বানাতে চাইছে, যাতে তাদের বংশবৃদ্ধি না হয়. অন্যরা পশ্চিমী দুনিয়াকে দুষছে এই বলে, যে তারা মুসলমানদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে. সেজন্য অনেক পরিবার চিকিত্সাকর্মীদের বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না. সে সবক্ষেত্রে চিকিত্সকদের পুলিশের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে. সেই জন্য প্রায়শঃই শিশুদের পোলিও খাওয়ানোর সরকারী কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে বলপ্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায় ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাতে আরো বেশি ক্ষুব্ধ হয়.

পোলিও খাওয়ানোর কর্মসূচীর চূড়ান্ত লক্ষ্য হল পাকিস্তানে মোটামুটি ৩ কোটি ৪০ লক্ষ পাঁচবছরের কমবয়সী শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়া. যদি অদূর ভবিষ্যতে পোলিওর প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ আবার নতুন করে শুরু না হয়, তবে পাকিস্তান সম্মুখীন হতে পারে এই সাংঘাতিক রোগের মহামারীর.