১৯শে ডিসেম্বর সারা বিশ্বের চলচ্চিত্র পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে ক্যাথরিন বিজলোর ফিল্ম – ‘জিরো ডার্ক থার্টি’. ছবির বিষয়বস্তু হচ্ছে ‘১ নম্বর সন্ত্রাসবাদী’ ওসামা বিন লাদেনকে পাকড়াও করার বাস্তব কাহিনী. ঐ অভিযানে মূল ভুমিকা নিয়েছিল সি.আই.এর এক মহিলা গুপ্তচর. তার নাম এখনো ফাঁস করা হয়নি. সাংবাদিক গ্রেগ মিলারের সাথে আলাপ করে ‘রেডিও রাশিয়া’ ঐ অভিযানের ইতিপূর্বে অজ্ঞাত সব খুঁটিনাটি জানতে পেরেছে. মিলারই প্রথম সি.আই.এর গুপ্তচরটির সম্পর্কে তথ্যাবলী প্রকাশ করেছিলেন.

তবে আসা যাক ফিল্মটির কথায়. ক্যাথরিন বিজলো এই প্রথমবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিনী সৈনিকদের যুদ্ধ করা ও সামরিক অভিযানে সামিল হওয়া সম্মন্ধে ছবি তুলছেন না. অস্কারপ্রাপক ‘দ্য হার্ট লকার’ ফিল্মে মুখ্য ভুমিকায় ছিল মাইন সন্ধানকারীরা, যারা ইরাকে কাজ করেছিল. নতুন ফিল্মের নায়িকা আল-কায়িদার মূল পান্ডাকে খুঁজে বের করেছিল. সুপার এজেন্ট যে একজন মহিলা, সেটা বিজলোকে তাক করে দিয়েছিল. ---

আমি খুবই বিস্মিত হয়েছিলাম, এমনকি শিহরিত হয়েছিলাম. যদি গুপ্তচরটি এমনকি পুরুষ হতো, তাহলেও আমি ফিল্ম তোলার সংকল্প ত্যাগ করতাম না. কিন্তু আমি অসম্ভব রকম তাজ্জব বনে গেছিলাম ও গর্ববোধ করছি, যে সে হল একজন মহিলা.

আরো বেশি ঐ গুপ্তচরটি সম্পর্কে বলছেন ‘দ্য ইনটারোগেটরসঃ ইনসাইড দ্য সিক্রেট ওয়্যার এগেইনস্ট আল-কায়েদা’ নামক বইয়ের অন্যতম লেখক গ্রেগ মিলারঃ ---

সে ছিল তথাকথিত খবরাখবর আদানপ্রদানকারী. সে পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে আল-কায়িদা সম্পর্কে অন্য চরেদের দ্বারা সংগৃহীত তথ্যাবলী ঘাঁটাঘাঁটি করতো. একই সঙ্গে ঐ মহিলা এজেন্টদের সার্কিটে এমন লোকেদের সন্ধান করতো, যারা প্রয়োজনীয় লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে.

বিষদে খুব বেশি কারো জানা নেই. কিন্তু ‘এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী’কে পাকড়াও করার বৃত্তান্ত সবিস্তারে জানে সবাই. ২০০২ সাল থেকে আমেরিকার বিশেষ দপ্তরগুলি চরেদের মাধ্যমে বিন লাদেনের খোঁজ করছিল. সে স্বয়ং ১৯৯৮ সাল থেকেই ফোনে কথাবার্তা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল. চূড়ান্ত পর্বের অবসান ঘটে ২০১১ সালের ২রা মে পাকিস্তানের আব্বাতাবাদ শহরে ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’ নামক বিশেষ অভিযানের মধ্য দিয়ে.

গ্রেগ মিলারের গল্পের নায়িকাকে ২০১২ সালের বসন্তকালে আর্থিক পুরস্কার ও অসম সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য পদক অর্পণ করা হয়. এটা অন্যতম সেরা পুরস্কার. শুধু তখনই মহিলা আবেগপ্রবন হয়ে তার সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে খোলাখুলি লিখেছিলেন – “তোমরা আমার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে, তোমরা আমার সাথে পাল্লা দিতে. একমাত্র আমি একাই এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য”. এর ফলে প্রতিশ্রুত প্রোমোশন জুটলো না, আর সি.আই.এর ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সাড়াজাগানো অভিযানে মহিলা গুপ্তচরের ভুমিকার কাহিনী জনসমাজের কাছে অজ্ঞাতই থেকে গেল. তবে মিলার বলছেন – যখন হলিউড এই গল্প নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলো, তখন সি.আই.এ সেই সুযোগটা লুফে নিল. ---

এক কথায় তারা ফিল্মটির নির্মাতাদের স্বাগত জানিয়ে লালকার্পেট বিছিয়ে দিয়েছিল. চিত্রনাট্য লেখককে সিআই.এর অফিসে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হল, সে শুধু আলোচ্য মহিলার সাথেই নয়, অন্যান্য গুপ্তচরদের সাথেও কথাবার্তা বলার সুযোগ পেয়েছিল. তারা তাকে এমনকি সেই গুপ্ত আশ্রয়স্থানটিও দেখিয়েছিল, যেখানে বিন লাদেনকে পাকড়াও করার খসড়া পরিকল্পনা পাকা করা হয়েছিল. সি.আই.এর শিখন্ডী লিওন প্যানেট্টার নির্দেশেই সেসব করা হয়েছিল.

তবে অনতিবিলম্বেই ফিল্মের প্রতি সি.আই.এর নিজস্ব মনোভাব বদলে যায়. বিজলো ফিল্মে বেশি জোর দিয়েছিলেন অত্যাচারের উপর, য়ে সব তার মতে ছিল অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ দিক. সি.আই.এর বক্তব্য – এটা মিথ্যা. বোঝা যাচ্ছে, যে ফিল্মটি তাদের সন্তুষ্ট করেনি. আরও বলছেন এই প্রসঙ্গে গ্রেগ মিলারঃ ---

তারা আশা করেছিলেন, যে একটি বীরত্বব্যঞ্জক ফিল্ম তোলা হবে, যেখানে গুপ্তচর বিভাগের কর্মকান্ডকে উজ্জ্বল করে প্রতিভাত করা হবে. কিন্তু যখন তারা ছবিটি সম্মন্ধে বিষদে জানতে পেরেছে, মোটেই তারা খুশী হয়নি. ফিল্মের শুরুতে দেখানো হচ্ছে সি.আই.এর কারাগারে অত্যাচারের হৃদয়বিদারক দৃশ্য. সি.আই.এর মধ্যেই মতদ্বন্দ ছিল এই নিয়ে, যে চলচ্চিত্রকারদের সাথে কতখানি সহযোগিতা করা যেতে পারে.

ফিল্মটি, তার পরিচালক ও সিক্রেট সার্ভিসের সাথে তার যোগাযোগকে ঘিরে কেচ্ছার একশেষ. ফিল্মের প্রধান নায়িকার কেরিয়ারে এর কি প্রভাব পরবে, সেটা অনুমান করা শক্ত. তার সাংবাদিকদের সাথে বাক্যালাপ করা নিষেধ. সি.আই.এ এই বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে অস্বীকার করছে. গ্রেগ মিলার সবশেষে স্বীকার করছেন, যে মহিলা গুপ্তচরটি সম্পর্কে বিষদে জানা ছিল খুবই কষ্টকর, কারন সে ছত্রছায়ার আড়ালে কাজ করতো ও সি.আই.এ এই বিষয়ে কোনোকিছু জানাতে অনিচ্ছুক.