আমেরিকায় অস্ত্রবিপ্লব আসন্নপ্রায়. নিউটাউন শহরে ২০-বছর বয়সী অ্যাডাম ল্যান্স এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ২০টি শিশু ও ৭ জন প্রাপ্রবয়স্ক মানুষকে খুন করার পরে, দেখে মনে হচ্ছে, যে আমেরিকাবাসীরা তাদের অস্ত্র রাখার অধিকার ছাড়তে রাজি. অন্ততঃ কয়েক ধরনের অস্ত্রশস্ত্র. এমনকি অনেক রিপাবলিকানরা পর্যন্ত অস্ত্রবর্জনের স্বপক্ষে গলা মিলিয়েছে, যারা বরাবর অবাধে অস্ত্র কেনাবেচার স্বপক্ষে দৃঢ়মত পোষন করতো. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘রেডিও রাশিয়া’র নিজস্ব সংবাদদাতা রোমান মামোনভ এই বিষয়ে আমেরিকাবাসীদের মতামত শুনেছেন ও নতুন বাধানিষেধ জারি করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছেন.

আমেরিকার সংবিধানের ২ নম্বর সংশোধনী ধারা অনুযায়ী অস্ত্র রাখার অধিকারের গ্যারান্টি দেওয়া আছে. আর তাই বিগত কয়েক দশক ধরে অবাধে অস্ত্রবিক্রয় নিয়ে সব কথাবার্তা আটকে গেছে দেশের মুল আইনের অপরিবর্তনীয়তার পাঁকে. কিন্তু সর্বশেষ জনমত সমীক্ষার ফলাফলে প্রকাশ, যে ৫৪ শতাংশ আমেরিকাবাসী অস্ত্র কেনাবেচার ক্ষেত্রে বাধানিষেধ কড়া করার স্বপক্ষে.

অস্ত্রবিরোধী প্রচার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশে জনপ্রিয় নিউ-ইয়র্কের নগরপাল মাইকেল ব্লুমবার্গ. দীর্ঘকাল ধরেই তিনি অস্ত্রশস্ত্রের কেনাবেচা সীমায়িত করার স্বপক্ষে বলে আসছেন ও কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন এই ক্ষেত্রে. ---

প্রথমতঃ, কংগ্রেসকে অস্ত্রক্রয়কারীদের খোঁজতল্লাস আবশ্যকীয় করার আইন সংকলন করতে হবে, যার সুবাদে আমেরিকায় কোনো পরিচয়পত্র ছাড়াই যে ৪০ শতাংশ অস্ত্র কেনা হয়, সে পথটি বন্ধ হবে. দ্বিতীয়তঃ, আক্রমনাত্মক অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সময় হয়েছে. সেরকম নিষেধাজ্ঞা ২০০৪ সাল পর্যন্ত বলবত ছিল. তাছাড়া কংগ্রেসের উচিত বড় কার্তুজের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা. এবং সর্বোপরি যেকোনো অস্ত্রশস্ত্র বহনকে অপরাধ বলে মেনে নেওয়া.

মাইকেল ব্লুমবার্গ তার বক্তব্যে সাংঘাতিক সংখ্যাতত্ত্ব পেশ করেছেন. তার কথায়, প্রতিদিন দেশে গুলিবিদ্ধ হয়ে গড়ে ৩৪ জন মারা যায়. তার মানে ওবামার ৪ বছর মেয়াদী শাসনকালে ৪৮ হাজার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারাতে পারে.

এখানে উল্লেখ করা দরকার, যে স্বয়ং ওবামা কিন্তু এখনো অস্ত্রশস্ত্রের কেনাবেচা সীমায়িত করার ব্যাপারে মুখ খুলছেন না. প্রথম ৪ বছরের শাসনকালে তিনি সযত্নে এই প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন, কারন এর রাজনৈতিক ঝুঁকি বড্ড বেশি. উপরন্তু অস্ত্রের লবি আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী.