রাশিয়া নিজেদের পূর্ব সাইবেরিয়া- প্রশান্ত মহাসাগর ধরনের খনিজ তেলকে নতুন বিশ্ব ব্র্যান্ডের মর্যাদা পাওয়ার উপযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের জেনারেল ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ফেইগিন পূর্ব সাইবেরিয়া থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত খনিজ তেল সরবরাহের জন্য পাইপ লাইনের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনের প্রাক্কালে. এটা হতে চলেছে ডিসেম্বর মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যেই.

দ্বিতীয় দফায় তৈরী পাইপ লাইন পশ্চিম ও পূর্ব সাইবেরিয়ার খনিজ তেল উত্পাদন ক্ষেত্র থেকে প্রিমোরস্ক অঞ্চলের কজমিনো বন্দর অবধি এই পাইপ লাইন খোলা হচ্ছে. ২০০৯ সাল থেকেই সেখানে খনিজ তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল রেল লাইনে ও তা পাঠানো হচ্ছিল ট্যাঙ্কার ভর্তি করে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বাজারে. ডিসেম্বরের শেষ দশ দিন থেকে রেল লাইনের বদলে এখানে তেল ভরা হবে পাইপ লাইন থেকেই. তার ফলে রপ্তানীর ক্ষেত্রে ক্ষমতা বছরে দেড় থেকে বেড়ে পাঁচ কোটি টন খনিজ তৈল জাত পদার্থ হতে চলেছে. আরও দেড় কোটি টন খনিজ তেল চিনকে বিক্রী করা হয় স্কোভোরোদিনো থেকে মোহে পর্যন্ত যাওয়া পাইপ লাইন দিয়ে. সব মিলিয়ে এই প্রকল্পের তেল পরিবহনের ক্ষমতা বছরে আট কোটি টন – খুবই বড় একটা ঘোষণা করার মতো পরিমান, যা সাইবেরিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের খনিজ তেলকে আলাদা বিশ্ব ব্র্যান্ড বলে স্বীকার করানোর মতো ব্যাপার. ইউরোপের ব্রেন্ট ও আমেরিকার ডব্লিউটিআই এবং রাশিয়ার উরালস ব্র্যান্ডের মতই এটাও একটা আলাদা ব্র্যান্ডের মর্যাদা পেতেই পারে, এই রকম মনে করে ভ্লাদিমির ফেইগিন বলেছেন:

“আট কোটি টন – এটা খুবই বিশাল পরিমান, যা দিয়ে দুটি পাইপ লাইনে খনিজ তেলের রপ্তানীর বিষয়ে নানা রকমের রাস্তা বদল করা সম্ভব. এই বিশাল খনিজ তেলের পরিমান, যা এখনই বিদেশী সহকর্মী দেশ গুলির কাছে পৌঁছচ্ছে, তা এর মধ্যেই এই নতুন পূর্ব সাইবেরিয়া- প্রশান্ত মহাসাগর মার্কা খনিজ তেলের সম্বন্ধে সকলকে একটা ধারণা তৈরী করার সুযোগ দিয়েছে. ক্রেতারা লক্ষ্য করেছেন যে, এই খনিজ তেল, যা এই দিক থেকে পাওয়া যাচ্ছে – আর এটা পশ্চিম ও পূর্ব সাইবেরিয়ার তেল – তা উরালস ধরনের খনিজ তেলের চেয়ে গুণগত ভাবে উত্কৃষ্ট, তাতে আলাদা মিশ্রিত সালফারের পরিমান কম, তা বেশী পরিস্কার, তা আবার হাল্কাও. আর যেহেতু বিক্রী যোগ্য তেলের পরিমান বাড়ছে এবং এর পরেও তা বাড়তে থাকবে, তাই নতুন বিশ্ব মানের খনিজ তেলের উদ্ভবের সম্ভাবনা খুবই দ্রুত বাড়ছে”.

আজ রুশ – চীন সীমান্তে ও কজমিনো বন্দরে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইনস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পেরু থেকে আসা কোম্পানীরা রাশিয়ার এই তেল ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই মার্কা তেলের দামের মিশ্রণে তৈরী এক বিশেষ দামে কিনছে. এই দুটি ঐতিহ্য মেনেই করা খনিজ তেলের মার্কা, যা কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের সম্পূর্ণ চিত্র দিতে পারছে না. উত্তর সাগরে খনিজ তেলের সঞ্চয় কমে আসাতে ব্রেন্ট মার্কা খনিজ তেলের দাম বাড়ছে, আর উল্টো দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খনিজ তেলের পরিমান প্রচুর থাকায় ডব্লিউটিআই এর দাম কমছে. এই কারণ গুলিই এবং খুবই বড় মাপের রাজনৈতিক ও পরিবহন সংক্রান্ত ঝুঁকি থাকায় এশিয়ার দেশ গুলির পক্ষ থেকে আফ্রিকা ও নিকটপ্রাচ্য থেকে খনিজ তেল আমদানীর ক্ষেত্রে সেই ঘূর্ণির সৃষ্টি করেছে, যা এশিয়ার জ্বালানী বাজারে একটা মলিন চিত্র তৈরী করেছে.

চিনে ও অন্যান্য বহু এশিয়ার দেশে আগামী বছর গুলিতে খনিজ তেলের চাহিদা বেড়েই চলবে. তাই প্রয়োজন পড়েছে আন্তর্জাতিক ভাবে খনিজ তেলের নতুন এই ব্র্যান্ড তৈরীর, যা আঞ্চলিক বাজারের গতি বিধিও প্রতিফলিত করতে পারবে, আর তাদের জ্বালানী বিষয়ে চাহিদা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে. পূর্ব সাইবেরিয়া- প্রশান্ত মহাসাগর মার্কা খনিজ তেল – যা এশিয়াতেই উত্পাদন করা হচ্ছে, তা স্থানীয় গ্রাহকদেরই দেওয়া হচ্ছে ও তা এবারে এই ধরনের একটা আলাদা নমুনা তৈরীরই অধিকার রাখে.

0বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্র বহুদিন হয়েছে এশিয়াতে সরে এসেছে. আর রাশিয়া এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান জ্বালানীর চাহিদা পূরণ করার জন্য তৈরী রয়েছে, তার মধ্যে খনিজ তেলও রয়েছে. এখানে কথা হচ্ছে একেবারেই চুড়ান্ত ভাবে বিশ্বের খনিজ তেলের বাজার এশিয়াতে সরিয়ে আনার জন্য. এটা যেমন স্থিতিশীল সরবরাহের গ্যারান্টি দিতে পারে তেমনই বিশ্ব জোড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে হওয়া আচমকা দাম বাড়া কমার থেকে রেহাই দিতেও পারবে.