চীন ও আমেরিকার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার বিরূদ্ধে বাধানিষেধ জারি করার প্রশ্নে গুরুতর মতভেদ ঘটছে. তাই জাতিসংঘের কূটনীতিজ্ঞরা মনে করছেন, যে এই বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষনাপত্র গ্রহণে বিলম্ব হতে পারে. নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনামা অগ্রাহ্য করে রকেট নিক্ষেপ করাটাকে অজুহাত হিসাবে নিয়ে আমেরিকা পিয়ং-ইয়ংয়ের উপর চাপ বাড়াতে উত্সুক. চীনে মার্কিনী রাষ্ট্রদূত গ্যারি লক স্বীকার করেছেন, যে তার দেশ চীন সহ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য দেশগুলির সাথে এই প্রশ্নে কড়া ঘোষনাপত্র গ্রহণ করার জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে. তবে তিনি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন, যে আমেরিকার এহেন উদ্যোগকে চীন সমর্থন করছে না. গতকাল চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রক ঘোষনা করেছে, যে “জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত পরিমিত ও সুবিবেচনাসমৃদ্ধ, যাতে কোরিয় উপদ্বীপে পরিস্থিতি জটিলতর না হয়ে যায়”. অত্যাধিক কড়া পদক্ষেপ নিলে সেটাই ঘটবে. জাতিসংঘের একজন কূটনীতিজ্ঞ সাংবাদিকদের বলেছেন, যে চীন এরকম একগুঁয়েমি করতে থাকলে কোনো ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেটে যাবে. ‘ইন্টারফ্যাক্স’ সংবাদসংস্থা উল্লেখ করছে, যে উপরন্তু এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, যে চীন আদৌ এই প্রশ্নে কোনোরকম ব্যবস্থাগ্রহণের স্বপক্ষে সায় দিতে রাজি হবে.

২০১২ সালের এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথে পাঠানোর একটি ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল. ডিসেম্বরে তারা আবার চেষ্টা করে পৃথিবীর কক্ষপথে একটি যোগাযোগের উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম হয়. উপগ্রহটি পাঠানো হয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনামাকে অগ্রাহ্য করে. এখন নিরাপত্তা পরিষদ প্রত্যুত্তরে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করছে.