প্রথম যে দিন ভাসমান পারমানবিক তাপবিদ্যুতকেন্দ্র ‘এ্যাকাডেমিক লোমোনোসভ’ বন্দর থেকে যাত্রা করবে, সেই তারিখটি জানা গেছে – ২০১৬ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর. শুধু রাশিয়ায় নয়, বিশ্বেই এটা হবে এধরনের প্রথম বিদ্যুতকেন্দ্র.

‘এ্যাকাডেমিক লোমোনোসভ’ – স্বল্পক্ষমতার পরিবহনযোগ্য বিদ্যুত উত্পাদনের ব্লক নির্মান সিরিজের মুখ্য প্রকল্প. আমেরিকায় প্রথম এরকম কেন্দ্র বানানোর চিন্তাভাবনা প্রকাশ করা হয়েছিল. কিন্তু সেখানে বিষয়টি বেশিদূর এগোয়নি যোগ্য কর্মীর ঘাটতি, বিশাল খরচা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে. রাশিয়ার জন্যে কিন্তু এটা বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প. দেশের সুদূরবর্তী অঞ্চল, যেমন দূরপ্রাচ্য ও সাইবেরিয়া, যারা দেশের মুল বিদ্যুত সরবরাহ পরিকাঠামোর সাথে সংযুক্ত নয়, তাদের বিদ্যুত সরবরাহ করার জন্য ঐ ধরনের বিদ্যুতকেন্দ্র উপযুক্ত.

গত শতাব্দীর ৯০-এর দশকে একসারি সোভিয়েত বিজ্ঞানী ভাসন্ত প্ল্যাটফর্মের ওপর রি-এ্যাকটর বানানোর উপযোগিতা সম্পর্কে বলতে শুরু করেন. ততদিনে এদেশে পারমানবিক সাবমেরিনে, বরফ কাটার জাহাজে, পারমানবিক যুদ্ধজাহাজে ছোটোখাটো আকারের রি-এ্যাকটর ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা যথেষ্ট পরিমানে অর্জন করা হয়েছিল. সুতরাং রাশিয়ায় ভাসমান পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র গড়ার জন্য আবশ্যকীয় সবকিছুই মজুত ছিল.

বিদ্যুতকেন্দ্র গড়ার কয়েকটি প্রকল্প পেশ করা হয়েছিল. অবশেষে ২০০৫ সালে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় এমন প্রকল্পকে, যেখানে পাল গতিবিহীন, জাহাজ নিজে থেকে নড়তে পারবে না. এমন প্ল্যাটফর্মের উপর বসানো হবে বরফ কাটা জাহাজে বসানো রি-এ্যাকটরের অনুরূপ ব্লক. জাহাজের দৈর্ঘ্য - ১৪৪ মিটার, প্রস্থ – ৩০ মিটার, প্লবতা সাড়ে একুশ হাজার টন জলের সমান. ভাসমান জাহাজ বানানোর কাজ শুরু করা হয় ২০০৭ সালের ১৫ই এপ্রিল. তখনই তার নামকরন করা হয় বিজ্ঞানী লোমোনোসভের নামে.

আঁচ করা হচ্ছে, যে বিদ্যুতকেন্দ্রটি সাগর ও বড় নদীগুলির উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে বিদ্যুত সরবরাহ করবে. আজকের দিনে এরকম ১১টা অঞ্চল নির্দ্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুতকেন্দ্রটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে.

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞেরা ইতিমধ্যেই ইঞ্জিনিয়ারিং ও জিওলজিক্যাল গবেষণায় নিয়োজিত হয়েছেন সেই সম্ভাব্য জায়গায়, যেখানে বিদ্যুতকেন্দ্রটিকে নোঙর করানো যেতে পারে. সেটা হচ্ছে রাশিয়ার সবচেয়ে উত্তরাঞ্চলীয় শহর পেভেক. ইতিপূর্বে তীরবর্তী সীমারেখা ও সমুদ্রের তলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরেও বাড়তি এখন গভীর নলকূপ খোঁড়া হচ্ছে, জলের নীচেকার মাটির তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে, নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে. নমুনাগুলোকে মস্কোয় পাঠানো হবে বিষদে নিরীক্ষা করার জন্য. বিজ্ঞানীরা পেভেক ছেড়ে গেলে সেখানে পৌঁছাবে স্থপতিরা. তারা পরবর্তী ধাপ – বিদ্যুতকেন্দ্রটি গড়ার ড্রয়িংয়ের খসড়া বানাবে.

আর সেন্ট-পিটার্সবার্গে শুরু হয়ে গেছে ‘এ্যাকাডেমিক লোমোনোলভ’ এর ভাবী নাবিককর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ. প্রত্যেক অপারেটরকে ২ বছর ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে. শিক্ষাপ্রাপ্তির শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে স্বাভাবিক কাজের সময় ও দুর্ঘটনা ঘটলে কি কর্তব্য – তার উপর থিয়োরিটিক্যাল ও প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে. ‘এ্যাকাডেমিক লোমোনোসভে’র প্রথম সওয়ারি দলকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বরফ কাটার রুশী পারমানবিক নৌবহরের নাবিকরা.