বিশ্ববাসীর গড় বয়স বাড়ছে. জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে এই গ্রহের প্রতি ৯ জনের মধ্যে ১ জনের বয়স ৬০-এর উর্দ্ধে. পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন বার্ধক্যের সীমারেখা অতিক্রম করবে. যদি মানুষের গড় আয়ু আর ৩ শতাংশও বৃদ্ধি পায়, তবে পেনসন দেওয়া দ্বিগুণ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে. উন্নত দেশগুলিতে এই সমস্যা তীব্রতর. গড় বয়স বৃদ্ধির কারন ও এই সমস্যার সম্ভাব্য নিষ্পত্তি সম্পর্কে ‘রেডিও রাশিয়া’কে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা.

বর্তমানে পৃথিবীতে মোটামুটি ৭০০ কোটি লোকের বাস. এই সংখ্যা দুশো বছর আগেকার তুলনায় দ্বিগুণ. তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ইদানীং কমের দিকে. একবিংশ শতকের শুরুতে এই হার প্রায় ১ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে.

চিকিত্সাবিদ্যার ও জীবনযাত্রা মানের উন্নতি গড় আয়ু বাড়াচ্ছে. সবার আগে ইউরোপের উন্নত দেশগুলিতে, আমেরিকায়, জাপানে.

এই প্রক্রিয়ার দরুন পেনসন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ছে, প্রতিরক্ষার সামর্থ্য কমছে, পেনসন দেওয়ার জন্য বাজেটের উপর চাপ ক্রমবর্ধমান ও অর্থনীতির উন্নয়নের হার ক্রমশঃ কমছে. বিশেষজ্ঞ ইগর বেলোবরোদভের মতে উদ্ভূত পরিস্থিতির মুল কারন – জন্মদানের হারের পতন.

ইউরোপে যে বৃদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, সেটা ‘নীচের দিক থেকে’. এটা শুধু গড় আয়ুবৃদ্ধির কারনজনিত নয়. জন্মদানের হার কমার জন্যই. স্বাভাবিকভাবেই বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে.

জাপানে প্রচুর বৃদ্ধবৃদ্ধা – প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসীর বয়স ৬৫ বছরের উর্দ্ধে. ইউরোপে জার্মানী ও ইতালিতে এক-পঞ্চমাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি.

পুরুষ ও মহিলারা ক্রমশঃই বেশি করে কেরিয়ারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে. ইউরোপীয় পরিবার সাধারনতঃ একটি সন্তানেই সীমাবদ্ধ থাকে. সুতরাং মহিলাদের বাড়তি ভাতা দেওয়ার মতো এলেবেলে ব্যবস্থার মাধ্যমে জন্মদানের নীচুহারের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়. বেলোবরদভের মতে, মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন একান্তই দরকার.

সন্তানবিহীন জীবনধারার মতাদর্শ পশ্চিম ইউরোপের, বিশেষতঃ স্ক্যানডিনেভিয়ার দেশগুলির অধিবাসীদের মজ্জার এত গভীরে ঢুকে গেছে, যে ব্যবসার একটা পৃথক ধারাই সেখানে জন্ম নিয়েছে. অনেক হোটেলে, রেস্টুরেন্টে, এয়ারলাইন্সে শিশুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ.

অন্যদিকে খেয়াল রাখতে হবে, যে পৃথিবীর রসদও অপরিসীম নয়. এরকম স্বাভাবিক জন্মদানের হার কমার মানে হল এই, যে সভ্যতার বিকাশ শুরু হয়েছে নতুন খাতে. এই বিষয়ে দৃঢ়মত পোষন করেন সামাজিক ও অর্থনৈতিক রাজনীতির কর্মসূচী ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সের্গেই স্মিরনভ.

জনসংখ্যার সীমাবদ্ধতা আগামীদিনে আসবেই সারা পৃথিবীব্যাপী. এটা আদৌ বিয়োগান্তক নয়. মানুষের বদলে ব্যবহার করা হবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র. এটাই বৈজ্ঞানিক-প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ও মানব প্রজাতির বিকাশের সারমর্ম. আমরা যখন জনসমাজের আভ্যন্তরীন গঠনের খারাপ হালের কথা বলি, তখন ভুলে যাই মানব জাতির বিকাশের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটির কথা.

উন্নত দেশগুলি সর্বতোভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার রাস্তা খুঁজছে. ‘সক্রিয় দীর্ঘায়ুত্বে’র নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে. কোথাও কোথাও অবসরপ্রাপ্তির বয়সসীমা বাড়ানো হচ্ছে. বৃদ্ধদের হাফগ্রেডে কাজ করার জন্য বিবিধ কর্মসূচী নেওয়া হচ্ছে.