সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ ও বিদেশের বিরোধী পক্ষ নিজেদের মধ্যে চুক্তিতে আসা নিয়ে আবার করে চেষ্টা করেছে. রোমে তিরিশটিরও বেশী সিরিয়ার বিদেশী পক্ষের সংস্থা নিয়ে সম্মেলন চলছে. মস্কো এই সম্মেলনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছে, এই আশা নিয়ে যে, এই সাক্ষাত্কারের সময়ে দামাস্কাসের বিরোধী পক্ষের জন্য সম্ভব হবে একটা সকলের উপযুক্ত মঞ্চ নির্মাণের ও তা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে.

সিরিয়াতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য জাতীয় কোঅর্ডিনেশন কমিটি এই সম্মেলনের আহ্বান করেছে. এটা সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের একটি মধ্য পন্থী গোষ্ঠী. কমিটি মনে করে যে, এই সঙ্কটের সমাধান এখনও রাজনৈতিক ভাবেই করা সম্ভব ও বিদেশী হস্তক্ষেপ ছাড়াই. এই মঞ্চে অবস্থান করেই, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, রোমে আলোচনা করা হচ্ছে. এটা প্রাচ্য বিশারদ ও বিশেষজ্ঞ সৈদ গাফুরভকে একটা সাবধানী আশাবাদ নিয়ে এই ফোরামের প্রভাব সিরিয়ার সঙ্কট থেকে বের হওয়া সম্বন্ধে করতে দিয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

“যে কোন ক্ষেত্রেই এই সম্মেলনের একটা ওজন রয়েছে. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ এখানে লোকরা আসবেন ও সেই বিষয়ে সমঝোতা করবেন যে, তারা কি ধরনের গ্যারান্টি প্রশাসনের কাছ থেকে চাইবেন. সরকার এই নিয়ে একটা দর কষাকষি করবে ও খুব সম্ভবতঃ শেষ অবধি মেনেই নেবে. যদি এটা হয়, তবে এটা হবে সেই সব শান্তি প্রস্তাবে অনীহা প্রকাশ করা বিরোধীদের একঘরে করার মতো আরও একটা পদক্ষেপ”.

সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধ চলছে, আর এটা সেখানে সহমত খোঁজাকে কষ্টকর করে দিচ্ছে, এই রকম মনে করে নিকট প্রাচ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

“বিরোধী পক্ষের একটা অংশ সত্যই আলোচনা করতে চায়, তারা চায় যে, নতুন সিরিয়া বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই উন্নতি করুক. কিন্তু খুবই বেশী ওজন বর্তমানে সেই গোষ্ঠীর, যারা বাইরের হস্তক্ষেপের দিকেই ঝুঁকেছে, তারা জোর করে যেমন বাশার আসাদকে, তেমনই সমস্ত ধর্মের বিষয়ে সংখ্যালঘুদের, যাদের তারা বিধর্মী মনে করে, তাদের শারীরিক ভাবেই ধ্বংস করে এই প্রশাসনকে হঠিয়ে দিতে চায়”.

অবশ্যই, এই ধরনের লোকরা রোমের সংযুক্ত সম্মেলনে যোগ দিতে আসে নি – আর তারা এর ফলাফলকেও মানবে না, সে যাই হোক না কেন. কিন্তু সিরিয়ার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব শুধু আলোচনার মাধ্যমেই, এটাই জোর দিয়ে বলেছেন সৈদ গাফুরভ. তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সিরিয়ার অনেক লোকই বর্তমানের প্রশাসনকে সমর্থন করে. আর তাদের মতামতকে উপেক্ষা করা চলতে পারে না.

রোমের সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা এই দুই দিন ব্যাপী আলোচনাকে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিরোধীদের সংযুক্ত সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসাবেই দেখছেন. তা করার পরিকল্পনা রয়েছে খুবই আসন্ন সময়ে কায়রোতে. আর যদি সেই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে এটা দামাস্কাসের জন্য একটা বাড়তি উত্সাহের কারণ হবে, যাতে শেষমেষ বিরোধী পক্ষের সঙ্গে বাস্তবিক আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়. আর এটা, নিজের পক্ষ থেকে এই সঙ্কট মুক্ত হওয়ার জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ হতে পারে.