স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনের রকেট বাহিনী আজ আরও একটি জন্মদিন পালন করছে – ১৭ই ডিসেম্বর ২০১২ সালে এই বাহিনীর ৫৩ বছর হল. রাশিয়ার অন্যান্য সামরিক বাহিনীর মধ্যে তারা নিজেদের প্রয়োজনের কারণেই আলাদা রকমের: কখনোই যুদ্ধে না লিপ্ত হওয়া, যদিও এমতবস্থায় সদা সর্বদা যুদ্ধের জন্যই প্রস্তুত থাকতে হয়. আজ রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনের রকেট বাহিনী অন্যান্য পারমানবিক ত্রয়ীর বাহিনীদের সঙ্গেই পরম্পরা মেনে নবীকরণ করা হচ্ছে – কিন্তু এই বাহিনী ২০২০ সালে কি রকমের হতে চলেছে?

রকেট বাহিনী রাশিয়ার সামরিক ক্ষমতার একটি প্রধান অঙ্গ, এই রকম মনে করে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও “জাতীয় প্রতিরক্ষা” জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনের রকেট বাহিনী – দেশের স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক শক্তির খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, আর তাদের সদা সর্বদা যুদ্ধের জন্য তৈরী থাকা রুশ প্রজাতন্ত্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ. বর্তমানে এই বাহিনীর পরিকল্পনা মাফিক নবীকরণের কাজ চলছে, যা করা হচ্ছে নতুন কঠিন জ্বালানী চালিত আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট “আরএস – ২৪” “ইয়ারস” রকেট দিয়ে, যা একই সঙ্গে কূপ থেকে ও চলন্ত মঞ্চ থেকে ছোঁড়া সম্ভব”.

নির্দিষ্ট ভাবে স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনের রকেট বাহিনীর অংশ সম্বন্ধে বলতে গিয়ে উল্লেখ করা উচিত্ হবে যে, বর্তমানের ক্ষমতার নবীকরণ এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীতে করা হচ্ছে অনেকটাই মস্কোর তাপ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট ও ভোতকিনস্কি কারখানার ভাল কাজের সুবাদে – যারা আসলে এই আন্তর্মহাদেশীয় রকেট গুলি, অর্থাত্ “তোপল”, “তোপল – এম” ও “ইয়ারস” যথাক্রমে পরিকল্পনা ও নির্মাণ করে দিয়েছে.

তেইকভ ডিভিশন এই বাহিনীর প্রথম অঙ্গ, যারা সম্পূর্ণ ভাবে নতুন ব্যবস্থা দিয়েই তৈরী হতে পেরেছে. ৩৬টি উড়ানের যন্ত্র ও ৭০টিরও বেশী যুদ্ধের উপযুক্ত ব্লক – এটা এমন শক্তি, যা যে কোন বিরোধী পক্ষকেই ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট. একই সঙ্গে আজকের দিনের পরিস্থিতিতে যত না গুরুত্বপূর্ণ আঘাত করার শক্তি, তার থেকেও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি ও নিরাপদ অবস্থান.

স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনের রকেট বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা চলমান ব্যবস্থা গুলির গুরুত্ব অনেক বেশী পরিমানে বেড়ে গিয়েছে বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে তৃতীয় চুক্তি স্বাক্ষর করার পর থেকেই, যা এই ধরনের রকেটের থাকার জায়গা সংক্রান্ত বাধা নিষেধ প্রত্যাহার করেছে ও চলমান ব্যবস্থা গুলি কোথায় উড়ানের জন্য খোলা হবে, তা নিয়ে আর কোনও নিষেধ তৈরী করে নি. আগে থেকে বোঝা সম্ভব না হওয়ার জন্যই এই সুবিশাল কাজের উপযুক্ত এলাকার কোথা থেকে উড়ান চালু করা হবে, তা অনেকটাই কঠিন করে দিয়েছে আগে থেকে উড়ান লক্ষ্য করতে পারা ও তা আটকে দেওয়ার পথ. এই ভাবেই এই চলমান ব্যবস্থা আজ অনেক বেশী ভরসাযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে সেই ধরনের ব্যবস্থার চেয়ে, যা তৈরী করা হত বহু সহস্র টন কংক্রীট ও বহু অত্যন্ত পুরু ঢাল তৈরীর ইস্পাতের পাত দিয়ে তৈরী কূপ ধরনের যন্ত্র ব্যবস্থার চেয়ে.

“ইয়ারস” ব্যবস্থা আগামী দশকের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভাবে স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনে রকেট বাহিনীতে সোভিয়েত দেশের সময়ে তৈরী “তোপল” ব্যবস্থাকে বদল করে দেবে. যদি এই কাজ সফল হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রসারের পরিস্থিতিতে স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনে রকেট ব্যবস্থাকে যুদ্ধের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে কম করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে. এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বেশী কাজ স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক শক্তির জন্য যত না অর্থ দিয়ে সহায়তার উপরে নির্ভরশীল, তার থেকেও বেশী করে অন্য বিষয়ের উপরেই নির্ভর করবে. যতই এই ব্যবস্থা চলমান থাকুক না কেন, এই ধরনের ব্যবস্থার জন্য বেশী করে প্রতিরক্ষারই প্রয়োজন হবে. আর বর্তমানে কথা হওয়া দরকার সেই ধরনের নিরাপদ এলাকা তৈরী করা নিয়ে, যেখানে আকাশ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা বন্দোবস্ত দিয়ে চলমান রকেট ব্যবস্থা গুলিকে ভরসাযোগ্য ভাবেই আচমকা প্রথম আঘাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে.