রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, নিজস্ব উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নতুন ধাপে প্রবেশ করছে রাশিয়া। এই তথ্যটি প্রতিটি রুশি এবং পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়াই তার সরকারের অন্যতম একটি উদ্দ্যেশ্য। গত ১২ ডিসেম্বর ফেডারেল পরিষদের বার্ষিক সভায় তিনি এ কথা বলেন। পুতিন আরও জানান, বিশ্বের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন গ্লোবাল সম্পদের হাহাকার। প্রধান আলোচ্য তা গ্যাস বা তেল নিয়ে নয় বরং মানব সম্পদ। রাশিয়ার জন্য দরকার ব্যাপক পরিবর্তন যার দ্বারা এ সমস্যা মোকাবেলা করা যাবে।

পরিবর্তন তা আসছে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে। অর্থনীতি, সামাজিক এবং সেই সাথে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই পরিবর্তনের ছোয়া লাগবে। তবে সব কিছুর উপরে রাষ্ট্রের সাথে জনগনের সম্পর্ককে ভ্লাদিমির পুতিন বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তা শ্লোগানের মধ্যে নিহিত নয় বরং প্রকৃত কার্যক্রমে তা রয়েছে। যখন জনসাধারণ দেখতে পায় যে, দেশের শহর, অঞ্চল ও গ্রামগঞ্জের প্রতিটি নাগরিকের কাছে উন্নয়ন পৌছে যায় তখনই সামাজিক মতামতের গুরুত্বের হিসেব বেড়ে যায়। রাষ্ট্র জাতি বর্ন ভেদাভেদ করে না। দরকার প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার ভোগ করা।

রাষ্ট্রপতির বানীর অধিকাংশই ছিল রাশিয়ার অভ্যান্তরীণ বিষয় নিয়ে। তবে সমাপনী অংশে পুতিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যের প্রধান সারমর্ম হচ্ছে বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক নতুন গতি নিয়ে শুরু হবে। রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার মূল ভিত্তি হচ্ছে গনতন্ত্র। একে বাদ দিয়ে পুতিন অন্য কিছু দেখছেন না।

রাশিয়া ও পুরো বিশ্বের জন্য যে নতুন হুঁশিয়ারি অপেক্ষা করছে বলে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্প্যানিস রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মানুয়েল পারু। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “পুতিন একদম ঠিক কথা বলেছেন। বিশ্বে এখন বহুমাত্রিক পরিবর্তন ঘটছে। মূল কথা হচ্ছে বিশ্বায়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী দেশের ক্ষমতা হারানো নিয়ে। নতুন নতুন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে প্রাচ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। নতুন ব্যাবসা-বানিজ্যের সেন্টার তৈরী হচ্ছে।

বিশ্ব এখন বহুমুখী রুপ নিয়েছে এবং তা প্রকৃত অর্থে সম্ভব হয়েছে রাশিয়া, ইউরোপ ও চীনের কারণেই। নতুন এ সম্ভাবনা অতীতের ভূল পুনরাবৃত্তি ঘটাবে না যা ঘটেছিল যুগস্লোভিয়ায়।“

অন্যদিকে সার্বিয়ার রাষ্ট্র বিজ্ঞানী গাস্তিমীর পাপোভিচ রুশ রাষ্ট্রপতির ফেডারেল পরিষদের বানীর ব্যখ্যা দিয়েছেন। তিনি মূলত পুতিনের বহিঃরাজনৈতিক মতধারার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “পুতিনের ঘোষণা আমাদের অঞ্চলের জন্য অনেক বেশী গুরুত্ব বহন করছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত। যারা নিজেদের বিশ্ব নেতা বলে মনে করছে তাদের পুনরায় তা হতে দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ নিয়েই কথা হচ্ছে না বরং পুরো বিশ্বকে নিয়ে। বর্তমানে কিছু ঐক্যমতের পার্থক্য রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা নিয়েও তা দেখা যাচ্ছে। সংকটময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারে দক্ষিন আমেরিকা। ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণ তা রাশিয়াকে গনতান্ত্রিক মূলধারার মধ্য থেকেই সমাধান করা উচিত হবে, তা কোন সুর্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নিয়ে হওয়া উচিত নয়।“

ভ্লাদিমির পুতিন মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ৯০ এর দশকে যে অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছিল রুশ অর্থনীতি তা পুরোটাই কাটিয়ে উঠেছে জনগন। ওই সময় প্রতিবছর রাশিয়ায় জনসংখ্যা ১০ লাখ করে হ্রাস পেয়েছিল। রুশিরা স্থিতিশীলতাকে বিশ্বাস করেছে তা অন্তত জন্মহার থেকেই প্রমাণ পায়। রাশিয়ায় জন্মহার বৃদ্ধি হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে জনগন ভবিষ্যত শিশুর জন্যই বেঁচে থাকতে চায়। তাই পুতিন নিশ্চত করেই বলেন, “জীবনের দীর্ঘ সম্ভাবনা পরিহার না করে বর্তমান সুখী জীবণের ফল ভোগ করুন।“