প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক মার্শাল-আর্ট কালারিপায়াত্তু আনা হযেছে ঈশ্বরের আপন ভূমি কেরালা রাজ্য থেকে. এর সম্পর্কে উল্লেখ আছে প্রাচীনকালের ইতিহাসে, লোকগাথা ও ‘রামায়ন’ ও ‘মহাভারতের’ মতো মহাকাব্যেও. ভারতীয় মার্শাল-আর্টের পরীক্ষাগার ‘থিয়েট্রিকা’র পত্তন করা হয় ২০০৬ সালে. শুনুন এই প্রসঙ্গে পরীক্ষাগারটির প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ পেওতর নেমভের বক্তব্য.

আমরা নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রুশী মেয়েদের দিয়ে কালারি লড়াই প্রদর্শন করানোর সিদ্ধান্ত নিলাম. ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ ও মহিলারা পৃথক পৃথকভাবে অনুশীলন করে. লড়াকুরা আত্মরক্ষায় আরও বেশি পারদর্শী হয়ে ওঠে, তাদের গতিবিধি আরও দ্রুত ও কুশলী হয়ে ওঠে. তারা শরীরকে বিরাম দিতে শেখে, শ্বাস-প্রশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে. কালারির লক্ষ্য হল – অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ও মস্তিষ্কে যৌবন ধরে রাখা শক্তির মাধ্যমে. আমাদের মুখ্য কর্তব্য হচ্ছে – সাহসী ও স্থিতধী পুরুষ ও মহিলাদের প্রজন্ম গড়ে তোলা.

মঞ্চে আবির্ভাব হল লম্বা বাঁশের লাঠি ও ছোট ডান্ডা হাতে চনমনে মেয়েদের. সঙ্গীতের তালে তালে তারা শরীর দোলাচ্ছে. কখনো তারা আচমকা একে অপরের দিকে লক্ষ্য করে ধেয়ে যাচ্ছে, কখনো বা কোনো ভঙ্গীমায় স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে. কালারিপায়াত্তু সম্পর্কে বলছেন অন্যতম শিল্পী তাতিয়ানা ইভানোভা. অন্যান্য মার্শাল-আর্টের থেকে কালারিপায়াত্তুর তফাত আছে. পুরোপুরি শিক্ষা সম্পন্ন করতে ১২ বছর সময় লেগে যায়. চারটি পর্বে শিক্ষা দেওয়া হয় ও তা বাহ্যিক আত্মপরিপূর্ণতা থেকে অন্দরে উন্নীত হয় – শারিরীক অনুশীলন থেকে প্রাণায়ামে.

দর্শকরা স্বচক্ষে কালারিপায়াত্তু দেখার সুযোগ পেলো. কালারি মনে পরিয়ে দিচ্ছিল রাশিয়ায় চর্চা করা হয় এমন সব মার্শাল আর্টগুলিকে. সেইজন্যেই রুশবাসীদের কালারিপায়াত্তুর প্রতি এত আগ্রহ. উপস্থাপনা দেখে তার অনুভূতি জানালেন স্ভেতলানা বীস্ত্রোভা.

আমি এই সান্ধ্যানুষ্ঠান ভীষনভাবে উপভোগ করেছি. আমি বহুবছর ধরে চর্চা করেছি ক্যারাটে ও সাম্বোর. আজ আমি যা দেখলাম, তা প্রত্যাশাবহির্ভূত. এই ভারতীয় মার্শাল-আর্ট সম্মন্ধে আমি খুব একটা জানতাম না আগে. সম্প্রতি একটা ক্রীড়া-পত্রিকায় এ সম্পর্কে পড়লাম, যেখানে বিশেষ করে আমার মনোযোগ আকৃষ্ট করলো লড়াকুদের রঙীন ফোটো ও হাতে অদ্ভুত অস্ত্র. আজকের উপস্থাপনায় রুশী মেয়েরা তাদের আভ্যন্তরীন অবস্থা মেলে ধরতে সমর্থ হয়েছে. মনে হয় রাশিয়াতেও প্রাচীন ভারতীয় মার্শাল আর্টটি বিকশিত হবে. এক্ষেত্রে বড় ভুমিকা পালন করছে জওহরলাল নেহেরু সংস্কৃতি কেন্দ্র ও তার ডিরেক্টর শ্রীমতি মধুমিতা ভগত. আমিও সানন্দে এই মার্শাল-আর্টের শিক্ষা নিতে ইচ্ছুক.

রুশী মেয়েদের দ্বারা প্রদর্শিত ভারতীয় মার্শাল-আর্টের উপস্থাপনা ছিল সত্যিকারের উত্সব. তাদের অনুষ্ঠান শুধু রুশী অনুরাগীদেরই নয়, মস্কোবাসী ভারতীয়দেরও খুব ভালো লেগেছে.