মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট রাজ্যের নিউ টাউনে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে শুক্রবার ভোরে বন্দুকধারীর অতর্কিত গুলিতে ২৭ জন নিহত হয়েছে. পরে বন্দুকধারী নিজেকে গুলি করে আত্বহত্যা করেন. নিহত অধিকাংশ শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর.

স্থানীয় পুলিশ জানায়, হামলাকারী হচ্ছেন ২০ বছর বয়সী আদাম লানজা. তাঁর ছোড়া গুলিতে নিহতদের মধ্যে রয়েছে তাঁর মা ও পরিচর্চা শিক্ষকসহ ৫ জন. মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা পুরো দেশে ৪ দিনের শোক দিবস ঘোষণা করেছেন.

প্রধান যে প্রশ্নটি আমেরিকা এখন করছে তা হচ্ছে, আর কত এভাবে চলতে থাকবে?. কানেকটিকাটে বন্দুকধারীর এ হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটিই প্রথম নয়. এর পূর্বে ভার্জিনিয়ায় ২০০৭ সালে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্লাসে এক শিক্ষার্থীর গুলিতে ৩২ জন নিহত হয়েছিল. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৯ সাল থেকেই নিয়মিত এ ধরণের হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে. শুধুমাত্র ওবামার সময়ই ৫ বার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্দুকধারীর হামলা হয়. তবে এ যাবতকালে এলিমেন্টারি স্কুলে ওই ট্রাজিডীর মত ঘটনা আমেরিকা আর কখনও দেখে নি.

এ ঘটনার পরই বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে জাতির উদ্দেশ্যে এক বিবৃতি দিয়েছেন. তিনি বলেন, আমেরিকাকে অনেকটা নিয়মিতভাবেই এ ধরণের ট্রাজিডি ঘটনা সইতে হচ্ছে. এ সময় ওবামা নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি. তার কন্ঠস্বরও থেমে যাচ্ছিল. ওবামা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “দেশ হিসেবে আমরা অনেকবার এ ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি. ঠিক যেমন নিউ টাউনের স্কুল, অরিগোনের শপিং মল, ভিসকোনসিনের চার্চ, আভরোরের সিনেমা হল কিংবা শিকাগোর কোন সড়ক- এসবই হচ্ছে আমাদের শহর ও এলাকা. এ সব শিশু হচ্ছে আমাদের শিশু. আমাদের সবাইকে আত্বার সম্মিলন ঘটাতে হবে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে. তা রাজনীতির উর্ধে থাকতে হবে.”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, প্রকৃত পদক্ষেপ বলতে ওবামা কি সিদ্ধান্তের কথা বলতে চাচ্ছেন এবং তা অনুমোদন করার জন্য তিনি প্রস্তুত?. গত ৪ বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র বিক্রি আইন অনেক কঠোর করা যেমন হয়েছে, ঠিক তেমনি আমেরিকার অনেক রাজ্যে এর বিরোধীতা করা হয়.

উন্মুক্ত অস্ত্র বিক্রির সক্রিয় বিরোধীতা করে আসছেন এমন একজন হচ্ছেন নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবের্গ. তিনি শুক্রবারের ওই ঘটনার পরই এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরণের গনহত্যা যে পুনরায় কোন শিশু পরিচর্চা কেন্দ্রে হবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই. সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও এখন যথেষ্ট নয়. এ সমস্যা নিরসণে রাষ্ট্রপতির উচিত হবে কংগ্রেসে গঠনমূলক আইন উথাপন করা.

এদিকে কানেকটিকাট রাজ্যের ওই ট্রাজেডির ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমীর পুতিন ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনসহ বিভিন্ন দেশের নেতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন.