রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমের এক্তিয়ারে “রাশিয়ার বৈদেশিক নীতি সংক্রান্ত ধারণা” নামে একটি প্রকল্প এসেছে, যা প্রস্তুত করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি পুতিনের নির্দেশে. বাস্তবে এই দলিল – দেশের বৈদেশিক রাজনীতির একটি সোপান, যার উপরে নির্ভর করে ২০১৮ সালের আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্যন্ত দেশে কাজকর্ম করা হবে.

এই দলিলের একটি ভিত্তি মূলক বার্তা হল- রাশিয়াকে বর্তমানের একেবারেই অস্থিতিশীল বিশ্বে নিজেদের পররাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরায় ঢেলে সাজাতে হবে. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে “সমস্ত রাষ্ট্রের জন্যই নিরাপত্তার অবিভক্ত চরিত্র ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে না দেওয়া”. আর আন্তর্জাতিক অধিকারের ভিত্তি মূলক নীতি গুলিকে তাচ্ছিল্য করার ফলেই রাষ্ট্র গুলির মধ্যে সম্পর্ক ভারসাম্য নষ্ট করছে.

অস্থিতিশীলতার অন্যান্য বাস্তব কারণ গুলি- বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট, রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভূমিকাকে অবজ্ঞা, সীমান্ত পার হয়ে আসা হুমকি যেমন সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচার. এই সমস্ত পরিস্থিতিতে রাশিয়া তার বিরল ভূ-রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে “স্থিতি সৃষ্টিকারীর” ভূমিকা নিতে পারে.

মস্কো এই ক্ষেত্রে তৈরী রয়েছে পরবর্তী কালে সক্রিয়ভাবে সেই সমস্ত জোট যেমন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, ব্রিকস, স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা পরিষদ ও যৌথ নিরাপত্তা সংস্থার বিকাশ নিয়ে কাজ করবে. আর প্রাথমিক ভাবে পররাষ্ট্র নীতিতে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের এলাকায় সমাকলনের কাজ করবে, এই রকম মনে করে রাজনীতিবিদ পাভেল দানিলিন বলেছেন:

“প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের পরিসরে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের ও অন্যান্য দেশের ভূমিকা বৃদ্ধি পাবে. ধারণাতে এই বিষয়ে যথেষ্ট বিশদ করে বলা হয়েছে. আমি মনে করি যে, সমাকলনের উদ্যোগ বেশী করেই সক্রিয় হবে. প্রাথমিক ভাবে এখানে কথা হচ্ছে অর্থনৈতিক সমাকলন নিয়েই. সেই সমস্ত দেশ, যারা এটা করতে যাবে, তারাই নানা রকমের সুবিধা পাবে, তার মধ্যে রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যেও”.

প্রসঙ্গতঃ, দেশ গুলির মধ্যে সমাকলন প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের এলাকায় একেবারেই অন্যান্য বড় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে বাদ দেয় না – এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশ গুলির সাথে, লাতিন আমেরিকার সাথে, আফ্রিকা ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের সাথেও. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যা বলা যেতে পারে তা হল যে, মস্কো তাদের কাছ থেকে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে রাশিয়ার বিরুদ্ধে করা হবে না বলে আইন সঙ্গত নির্দিষ্ট গ্যারান্টি দাবী আদায় করতে চেষ্টা করবে, আর তারই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অধিকার রক্ষা মেনে চলা নিয়েও দাবী করবে, তার মধ্যে – সার্বভৌম দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা. এই পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়েও মনে করা যেতে পারে. রাশিয়া এই দেশের উপরে সামরিক আঘাত করা হতে পারে বলে খুবই উদ্বিগ্ন. যদি এটা হয় তবে তার পরিণতি হতে চলেছে বিপর্যয়ের সমান. তার সত্যিকারের প্রসার এখন ধারণা করাও সম্ভব নয়. মস্কোতে মনে করা হয় যে, এই সমস্যা সমাধান করা দরকার শুধু শান্তি পূর্ণ পথেই. তারই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক রাষ্ট্রের মর্যাদা পাওয়াও মস্কোর পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়.

সব মিলিয়ে, আর এই প্রকল্প থেকে এটাই ধারণা হিসাবে নির্গত হয়েছে যে, “রাশিয়া ঠিক করেছে পরবর্তী কালেও নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশ্ব ও আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় ও গঠনমূলক ভাবে অংশগ্রহণ করেই বজায় রাখতে চায়”. এই প্রসঙ্গে মস্কো এর পরেও রাষ্ট্রসঙ্ঘের বদলে কিছু জোট করতে উদ্যোগ নেবে না. রাশিয়া নিজেদের সহকর্মী দেশ গুলির স্বার্থ বোঝা ও হিসাবে নেওয়ার চেষ্টা করবে – কিন্তু একই সঙ্গে অন্যদের কাছ থেকে রাশিয়ার নিজেদের স্বার্থ হিসাবের মধ্যে আনার কথাও চেয়েছে. পররাষ্ট্র নীতির কাজের প্রকৃতি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল, সেটা হবে “নরম ভাবে শক্তি প্রয়োগ”. যা একই সঙ্গে নাগরিক সমাজ, তথ্য প্রযুক্তি যোগাযোগ, মানবিক ও অন্যান্য ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক পদ্ধতির সংমিশ্রণে তৈরী হবে.