বেনামে অন্যের নামে দুর্নাম দিয়ে যারা চিঠি লেখে তাদের ও যারা অন্যের স্বত্ত্ব চুরি করে তাদের ধরার জন্য রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে একটি ব্যবস্থা তৈরী করার জন্য বায়না দেওয়া হয়েছে, যা কোন লেখার লেখককে ও এমনকি স্থির করতে যে, কি রকমের মানসিক পরিস্থিতিতে সে এই চিঠি লিখেছে, তা ধরতে সাহায্য করবে. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন: ব্যবস্থা, যা এই ধরনের বেনামী লেখক ধরতে সাহায্য করে, তা এখনই রয়েছে. আর কারও লেখা দেখে তার মানসিক অবস্থা বোঝা খুবই কঠিন.

ইজভেস্তিয়া সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র দপ্তর এই কারণে ষাট লক্ষ রুবল (প্রায় দুই লক্ষ ডলার) খরচ করতে তৈরী হয়েছে, যাতে এই “অনুচ্ছেদ” নামের প্রোগ্রাম ব্যবস্থা তৈরী করা যায়. তা লেখক ও কি সে চুরি করেছে, তা ধরতে সাহায্য করবে. এই ধরনের ব্যবস্থা দিয়ে পুলিশ সাহিত্যে যারা অন্যের লেখা চুরি করে, তাদের ধরা ও যারা ইন্টারনেটে বেনামে চিঠি দেয়, তাদের ধরতে চায়. প্রথম পরীক্ষা মূলক ব্যবস্থা ২০১৩ সালেই করা হতে চলেছে.

গত শতকের মাঝামাঝি সময়েই লেখার যুক্তি বিন্যাস দেখে লেখককে নির্দিষ্ট করার ব্যবস্থা তৈরী হয়ে গিয়েছিল. তার পরে সেটা বহু বৈদ্যুতিন ব্যবস্থায় লাগানো হয়েছিল. তার নীতি ব্যাখ্যা করে সেন্ট পিটার্সবার্গের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সের্গেই শিরিন বলেছেন:

“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই এই ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়. তা এই ভিত্তিতেই তৈরী করা হয়েছে যে, কোন লেখক, কি ধরনের শব্দ, বাক্যের দৈর্ঘ্য ও কাঠামো সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করে থাকেন, তার উপরে. যদি লেখায় এমন কোন বাক্য দেখতে পাওয়া যায়, যা এই লেখকের সাধারন যে লেখার ধারা, তার থেকে আলাদা, তাহলেই এটা লেখকের নিজের লেখা কি না, তা নির্ণয় করার প্রয়োজন পড়ে. তার পরে এই বাক্য বিন্যাসকে ইন্টারনেটে একই ধরনের কোনও বাক্য বিন্যাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়ে থাকে, যে আসলে কে এর লেখক”.

বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের কথামতো, বহু রকমের প্রোগ্রাম বিভিন্ন ভাষাতে লেখা হচ্ছে, যা এই রকমের পরের লেখা চুরি করা ধরতে সাহায্য করছে. তা ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ করে শান্তি পূর্ণ প্রয়োজনেই – ছাত্রদের পড়াশোনার পরীক্ষা করে দেখার জন্য. প্রসঙ্গতঃ, এই সেপ্টেম্বর মাসেই প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ বেশ কিছু মন্ত্রণালয়কে সেই ধরনের ব্যবস্থা তৈরী করতে দেওয়ার কথা বলেছেন, যা রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে ডিপ্লোমা পাওয়ার জন্য ছাত্রদের লেখায় নকল ধরতে সাহায্য করবে.

আর লেখকের মানসিক অবস্থা বোঝার মত ব্যবস্থা তৈরী করা অনেক জটিল কাজ. চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এই ধরনের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী. তার ওপরে আবার সাফল্য নির্ভর করে শুধু প্রোগ্রাম যারা লিখছে, তাদের উপরেই নয়, বরং নির্দিষ্ট ভাষার বিশেষত্বের উপরেও. যেমন, ইংরাজী ভাষায় কম বেশী নির্দিষ্ট করেই প্রকাশিত রচনার পিছনের মানসিকতা বোধগম্য হয় ও লেখকের বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের প্রতি মনোভাবও প্রকট হয়. রুশ ভাষায় সেটা অনেক কঠিন, এই রকম মনে করে ইন্টারনেট – বিশেষজ্ঞ আন্তন মেরকুরভ বলেছেন:

“ইংরাজী ভাষা সহজ, তাই সম্ভাবনা রয়েছে কোন না কোন বিষয়ে লেখকের ধারণা বুঝতে পারার. রুশ ভাষায় অনেক বেশী ভূমিকা রয়েছে বিষয় ও তার প্রতি লেখার সময়ে সুর নিয়ে, যা কথা দিয়ে বর্ণনার যোগ্যই নয়. তাই এই ব্যবস্থা কম্পিউটার নির্ভর করে তৈরী করা খুবই কঠিন হবে”.

0জটিল – কিন্তু সম্ভব. এই ধরনের কাজকর্ম অনেক বেশী খরচের হতে পারে ও বেশ কয়েক বছর ধরেই বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন হতেও পারে.