পাকিস্তান প্রতি বছরে পঞ্চাশ থেকে সত্তর লক্ষ ডলার হারাচ্ছে দুর্নীতি ও কর আদায় করতে না পারার জন্য. এই বিষয়ে ইসলামাবাদে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন জাতীয় হিসাব পরীক্ষক ব্যুরোর সভাপতি ফাসি বোখারি. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

ফাসি বোখারি বলেছেন যে, দেশে ১৮ কোটি জনগনের মধ্যে কর দিচ্ছেন গত দুই তিন বছর ধরে মাত্র ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ. যারা কর দিচ্ছেন না, তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশের লোকসভা ও রাজ্যসভার ৪৪৬ জন সদস্যদের মধ্যে তিনশ জন ও বহু বর্তমান মন্ত্রী সবার মন্ত্রীও. এমনকি রাষ্ট্রপতি জারদারি নিজেও আর্থিক এই নিয়মানুবর্তিতা মানছেন না. তাঁকে শুধু কর না দেওয়ার বিষয়েই সন্দেহ করা হচ্ছে না, এমনকি তিনি নিজে সুইজারল্যান্ডের কোম্পানীগুলির কাছ থেকে পাওয়া ঘুষের অর্থও বহু লক্ষ ডলার কালো থেকে সাদা করেছেন. কিন্তু রাশিয়ার মস্কো শহরের কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ মনে করেন না যে, তিনি এই কারণে কখনও জবাবদিহি করতে বাধ্য হবেন, তাই বলেছেন:

“এখন যে, পাকিস্তানের মন্ত্রীসভা রাষ্ট্রপতির সম্বন্ধে মামলা আবার করে চালু করার বিষয়ে সায় দিয়েছে, তা স্রেফ এটাই বলে দিচ্ছে যে, পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থার একটা জয় হয়েছে. কিন্তু একই সঙ্গে এর মানে এই নয় যে, আসিফ আলি জারদারির উপরে আসন্ন ভবিষ্যতে ক্ষমতা চ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, তিনি শান্তি নিয়েই নিজের মেয়াদ কাটিয়ে যেতে পারবেন”.

২০০৭ সালে নেওয়া অ্যামনেস্টি সংক্রান্ত আইনে প্রায় ৪ হাজার মামলা আট হাজার উচ্চ পদস্থ পাকিস্তানী লোকের বিরুদ্ধে, যাদের দুর্নীতির কারণে অভিযুক্ত করা হয়েছিল ও কর না দেওয়ার কারণে ধরা হয়েছিল, তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল.

দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যান্ডাল আর তারই সঙ্গে রাজনৈতিক উচ্চ পদস্থ লোকদের কর না দেওয়া সম্বন্ধে খবর প্রকাশ পাকিস্তানের বর্তমানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল গুলির উপরেই বেশী করে আঘাত করেছে, ফলে তা নতুন রাজনৈতিক শক্তি, যেমন ইমরান খানের দলের প্রতিপত্তি বাড়াতেই সাহায্য করবে. তাই আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে.

দেশের বাইরেও এটা পাকিস্তানের ছবিকেই ম্লান করেছে, অহরহ স্ক্যান্ডাল, ইসলামাবাদের কর সংক্রান্ত সংশোধন করতে না চাওয়া, খুবই বেশী করে পাকিস্তানকে যারা ঋণ দেয়, তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে. ইসলামাবাদকে ধার ও সহায়তা দেওয়া আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে. “যখন পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ লোকরাই নিজেদের আয় থেকে কর দিতে চায় না, তখন আমরা কেন তাদের খোরাক যোগাতে বাধ্য হব” – বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন.