২০২০ সালে উরালের শহর ইকাতেরিনবুর্গের পরিকাঠামো অনেকটাই বাল করে ফেলা হবে, কারণ এখানে বিশ্ব প্রদর্শনী এক্সপো আয়োজনের জন্য দাবী করা হয়েছে. আগামী বছর গুলিতে পরিকল্পনা রয়েছে এখানে নতুন রাস্তা তৈরী করার জন্য প্রসারিত ভাবে প্রকল্প নেওয়ারও তারই সঙ্গে পরিবহনের পরিকাঠামো তৈরী করার, ঐতিহাসিক ভবন গুলিকে সংস্কার করার ও নতুন হোটেল তৈরীর.

এক্সপো – এক বিশাল মাপের ঘটনা. ছয় মাস ধরে এই শহর, যারা প্রদর্শনী আয়োজন করবে, তা বিশ্বের রাজধানীতে পরিণত হবে. পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই প্রদর্শনীতে আসেন তিন কোটির বেশী মানুষ – যারা এতে অংশ নেন ও অতিথি হিসাবে দেখতে আসেন. বর্তমানে ইকাতেরিনবুর্গের পরিকাঠামো মাত্র বিশ লক্ষ অতিথির কথা ভেবে তৈরী করা হয়েছে. আগামী বছর গুলিতে তা ভাল করতেই হবে. এই কথা উল্লেখ করে স্ভেরদলোভস্ক রাজ্যের রাজ্যপাল ইভগেনি কুইভাশেভ বলেছেন:

“প্রদর্শনীর পরিকাঠামোর মধ্যে হোটেল, সহজ ভাবে পৌঁছনো যায় এমন সব গ্যালারি পড়ে. আমরা চাই, যাতে এই প্রদর্শনী শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বিভিন্ন দেশের কোম্পানী গুলি, যারা এখানে নিজেদের জিনিষ দেখাতে নিয়ে আসবেন, তারা যেন এখানেই প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরেও থেকে যান. আমাদের এলাকা – একটা শিল্পে উন্নত এলাকা, এখানে উচ্চ শিক্ষা কেন্দ্রও রয়েছে. এক্সপো আয়োজন করা এই শহরের জন্য একটা বড় গতি সঞ্চারের কাজ করবে. এটা ঠিক যে, এর জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে – পরিকাঠামো বিষয়ে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করার প্রয়োজন পড়বে”.

এটা খুব ভাল করেই ইকাতেরিনবুর্গের বাসিন্দারা বুঝতে পারেন আর তাই তারা সাময়িক অসুবিধাও মেনে নিতে রাজী রয়েছেন, এই কথা উল্লেখ করে শহরের ডেপুটি মেয়র আলেকজান্ডার ভীসোকিনস্কি বলেছেন:

“সব মিলিয়ে জনগন এই প্রদর্শনী আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবই ব্যক্ত করেছেন. অনেক জিনিষই, যা পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ তৈরী হওয়ার কথা, তা আগেই তৈরী হয়ে যাবে. তাই, অবশ্যই শহরের লোকে বুঝতে পারেন যে, সহ্য করতে হবে, যখন আমরা কোন না কোন কাজ শহরের রাস্তা ঘাটে শুরু করব”.

রাশিয়ার আবেদনের বিশেষত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে এক্সপো – ২০২০র আহ্বায়ক পরিষদের পর্যবেক্ষক সভার সভাপতি আর্কাদি চেরনেত্সকি উল্লেখ করেছেন যে, ইকাতেরিনবুর্গ – খুবই দ্রুত উন্নয়নশীল এক শহর, তিনি যোগ করেছেন:

“এই শহরের আলাদা হওয়ার মতো বিশেষত্ব হল যে, এটা উচ্চ প্রযুক্তির এলাকা, এটা খুবই সিরিয়াস এক বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা. আজ আমাদের শহরের প্রত্যেক সপ্তম বাসিন্দাই ছাত্র. আমরা তাই মনে করি যে, এটা ঠিক সেই রকমের পরিবেশ, যা প্রদর্শনীতে চারপাশ জুড়ে থাকা দরকার – একটা যৌবন, খোঁজ ও সৃষ্টির পরিবেশ”.

এক্সপো – ২০২০র রাজধানী বেছে নেওয়া হবে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ব্যুরোর সাধারন সভায় ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে. ইকাতেরিনবুর্গের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে তুরস্কের ইজমির শহর, সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর দুবাই শহর ও ব্রাজিলের সাও পাওলো শহর. রাশিয়া সব সময়েই বিশ্ব প্রদর্শনীর এক সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিল, কিন্তু কখনোই নিজেদের দেশে এই প্রদর্শনী আয়োজনের সুযোগ পায় নি.