সারা বিশ্ব জুড়েই ২০১৩ সালে সাইবার অ্যাটাকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে, প্রসঙ্গতঃ এটা হবে লক্ষ্য স্থির করেই করা অ্যাটাক ও সরকারি সব কাঠামোর থেকে পাওয়া বায়না থেকেই. এই ধরনের একটা সিদ্ধান্ত অ্যান্টি ভাইরাস তৈরী করা কোম্পানী কাস্পেরস্কি ল্যাবরেটরীর পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বিশ্ব আগামী ২০ বছরে সাইবার ক্ষেত্রে বিশ্ব যুদ্ধের সম্মুখীণ হতে চলেছে.

কাস্পেরস্কি ল্যাবরেটরীর বিশ্লেষকদের মতে আগামী বছরে অনেকটাই বাড়বে সরকারি সংস্থা থেকে সাধারণের জন্য প্রকাশের অযোগ্য তথ্য চুরি, আর তারই সঙ্গে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানীর তথ্য চুরি করা. সাইবার অ্যাটাকের সামনে পড়তে চলেছে খুবই সংবেদনশীল সব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য, যেমন গৃহ পরিষেবার নানা বিষয় অথবা পরিবহন ব্যবস্থা.

গুগল সংস্থার মতো বা ফেসবুকের মতো সাইবার ক্ষেত্রে অতিকায় সাইটের পক্ষে বিপুল সংখ্যক তথ্য নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা বাড়বে একেবারেই চলতি সময়ে. আবার একই সময়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে জাতীয় সরকার গুলির পক্ষেও তাদের নিজেদের নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রায় বন্ধনহীণ ক্ষমতা পাওয়া সম্ভব হবে. কিন্তু নাগরিকরাও প্রশাসনকে পাল্টা উত্তর দিতে পারে.

আই টি ক্ষেত্রের পুরো এলাকাই বর্তমানে খুবই বিপজ্জনক হয়ে রয়েছে আমাদের উন্নয়ন ও তথ্যের সমাজের গতি প্রকৃতি সংক্রান্ত বিষয়ে. এই কথা রেডিও রাশিয়াকে উল্লেখ করে এক সাক্ষাত্কারে তথ্য প্রতিরক্ষা জোটের সভাপতি গেন্নাদি এমেলিয়ানভ বলেছেন:

“আমার এই কথা বলার কারণ হল যে, তথ্য সমাজের নীচেই একটা মাইন পাতা হচ্ছে. আমরা যদি প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিই, তবে এটা সম্পূর্ণ বিপর্যয় হতেই পারে. কারণ যখন আমরা সকলেই এই ধরনের তথ্য প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ব আর তারা হঠাত্ করেই বন্ধ হয়ে যাবে, তখন আসলেই একটা বিপর্যয় হবে. এই রকমের একটা তুলনার কথা চিন্তা করে দেখুন যে, সর্বত্র বিদ্যুত বিভ্রাট হয়েছে. এই ধরনের ক্ষেত্রে বিপদ এই জন্যই যে, তা আর্থিক ও বিনিয়োগের বিষয়ে সহজেই করা যেতে পারে. যথেষ্ট হবে স্রেফ ভাল মগজ থাকাই, যারা এই ধরনের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে সব বুঝতে পারে”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ পরিষেবা দেশের জাতীয় গুপ্তচর বিভাগকে নিজেদের পক্ষ থেকে বাইরের দেশে থেকে করা সাইবার হুমকি সম্বন্ধে রিপোর্ট পাঠিয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে. “সাইবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয় দেখানোর মতো জায়গা হয়েছে চিন”, এই খবর দিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস. রাশিয়া, ফ্রান্স, ইজরায়েল ও অন্যান্য দেশ সাইবার গুপ্তচর বৃত্তি করেই থাকে, কিন্তু এতটা বিশ্বাস ঘাতক ও চতুর ভাবে নয়, যা করে চিন. অন্তত, রাশিয়া নিয়ম করে আমেরিকার কোম্পানী গুলির গোপন খবর চুরি করছে না নিজেদের দেশের ব্যবসার সুবিধার জন্য.

তারই মধ্যে ডিসেম্বরের প্রথম তারিখ গুলিতে আন্তর্জাতিক সাইবার সিকিউরিটিস এশিয়া ২০১২ ফোরামের অংশগ্রহণকারীরা একমত হয়েছেন এই ধারণাতেই যে, বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হল যে, সরকার গুলি কিছুতেই একমত হতে পারছে না কাকে সাইবার সন্ত্রাস ও অপরাধ বলা হবে তা নিয়ে. বেশ কিছু দেশের সরকারই নানা রকমের খারাপ করে দেওয়ার মতো ভাল প্রোগ্রাম লেখার জন্য অর্থ জোগাচ্ছে, যাতে পরে সাইবার যুদ্ধ করা সম্ভব হয়. চাই এখন কেউই গ্যারান্টি দিতে পারে না যে, এই ধরনের কাজ পরবর্তী কালে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পড়বে না, যারা ভাইরাসকে পাল্টে দিয়ে নিজেদের লক্ষ্যে ব্যবহার করবে. সুতরাং আজ নিজেদের সাইবার জালেই জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর রয়েছে এবং একটা ক্লিক করেই সারা সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেওয়া যেতে পারে.