ওয়াশিংটন মরোক্কো দেশে সাক্ষাত্কারের সময়ে তথাকথিত “সিরিয়ার বন্ধুদের” এক উপহার এনে দিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি কিছুদিন আগে দোহা রাষ্ট্রের রাজধানী কাতার শহরে তৈরী সিরিয়ার বিরোধীদের জোটকে সিরিয়ার জনগনের একমাত্র আইন সঙ্গত প্রতিনিধি বলে স্বীকার করে নিয়েছেন. কিন্তু সিরিয়া সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যাচ্ছে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্রগুলি, আর তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সিরিয়ার প্রশ্নে সহমত হতে পারছে.

“সিরিয়ার বন্ধুদের” আন্তর্জাতিক ক্লাবে সেই সমস্ত লোকরাই রয়েছে, যারা সব মিলিয়ে আর অংশতঃ সিরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের প্রশাসনের পতন ও এই দেশের বর্তমানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে. “সিরিয়ার বন্ধুদের” ক্লাব তৈরী করার জন্য একেবারে সরাসরি যোগ দিয়েছে ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র.

কিছু দিন আগে পর্যন্তও “সিরিয়ার বন্ধুদের” লক্ষ্য ছিল বাশার আসাদের প্রশাসনের পতন ঘটানোই, মনে করে বলেছেন মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাচ্য অনুসন্ধান শাখার অধ্যাপক নিকোলাই সুরকভ. কিন্তু মনে তো হয় না যে, এই বিভিন্ন রকমের মতাবলম্বী “বন্ধু” লোকদের কোন সম্মিলিত পরিকল্পনা রয়েছে, যদি বিরোধীদের পক্ষে জয়ী হওয়া সম্ভব হয়, তা হলেও, এই কথাই উল্লেখ করে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে নিকোলাই সুরকভ বলেছেন:

“তথাকথিত সিরিয়ার মিত্রদের আসাদ ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরে দেশে কি হতে চলেছে, তা নিয়ে তো মনে হয় না কোন রকমের মাথাব্যাথা রয়েছে. খুব বড় সম্ভাবনা রয়েছে যে, আসাদের উপরে বিজয়ের পরে বহু সংখ্যক গোষ্ঠী, যারা এখন সিরিয়ার বিরোধী পক্ষে রয়েছে, তারা নিজেদের মধ্যেই খুব বড় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে. ক্ষমতার জন্যই যুদ্ধ হবে, প্রত্যেকেই নিজের নীতিকে স্থাপন করতে চাইবে. তার ওপরে এদের মধ্যে রয়েছে চরমপন্থী মুসলিম লোক, যাদের একটাই নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে – সিরিয়াকে ঐস্লামিক রাষ্ট্রে পরিণত করা. কারণ সিরিয়ার বিরোধীদের প্রধান স্পনসর রাষ্ট্র গুলি হিসাবে প্রথম থেকেই এগিয়ে এসেছে পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলি”.

এরই মধ্যে, সিরিয়ার বিরোধীদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ ও তাদের পশ্চিমের “বন্ধুদের” পক্ষ থেকে সমর্থন স্বত্ত্বেও, বিদ্রোহীদের উপরে ভাগ্য প্রসন্ন হচ্ছে না কিছুতেই. বরং উল্টো, তাদের সামরিক সাফল্য খুবই বিতর্কিত, এই কথা উল্লেখ করে “রেডিও রাশিয়াকে” ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর উপ সভাপতি ভ্লাদিমির আনোখিন এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

“যদি কত গুলি রিপোর্ট ও মন্তব্য পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে বর্তমানে প্রকাশ করা হচ্ছে, তা দেখা হয়, তবে স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাবে, তা অনেক কমে গিয়েছে, আর এর অর্থ হল যে, বিদ্রোহীদের কাজকর্মে সুবিধা হচ্ছে না. মনে করিয়ে দিই যে, লিবিয়া সব মিলিয়ে প্রায় ছয় মাস টিকে থাকতে পেরেছিল. আসাদ এখনও গত বছরের মার্চ মাস থেকে ক্ষমতায় টিকেই আছেন, এটা দেড় বছরের বেশী সময়. আর তার মানে হল যে, তাকে দেশের জনগনই সমর্থন করছেন. আর সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ ভাবেই নিয়ন্ত্রিত ও তারা যুদ্ধেও সক্ষম”.

বাশার আসাদ একাধিকবার বিরোধী পক্ষকে প্রস্তাব করেছেন আলোচনায় বসার জন্য, বন্দী হওয়া জঙ্গীদের মুক্তি দিয়েছেন, কিন্তু এটা বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে কোন সুবিধা করে দেয় নি, আর তথাকথিত বন্ধুদেরও আলোচনায় উত্সাহিত করতে পারে নি. ভ্লাদিমির আনোখিন এই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন. “সিরিয়ার বন্ধুদের” মধ্যে অনেকেই দামাস্কাসের প্রশাসনের সঙ্গে কোন রকমের আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছতে চায় না, কিন্তু তারা খুবই সততার সঙ্গে নিজেদের দেওয়া আশ্বাস, যা তারা নিজেদের ক্লাব তৈরীর দিনে দিয়েছে, তা পালন করছে, আর সেটা হল সশস্ত্র জঙ্গীদের সাহায্য বাড়িয়ে যাওয়া.