আগামী বছর গুলি রাশিয়া ও সারা বিশ্বের জন্যই আমূল পরিবর্তনের সময় হতে চলেছে – ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, তিনি জাতীয় সভার উদ্দেশ্যে নিজের বক্তৃতা দিয়েছেন. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কথামতো, বিশ্ব এখন এমন একটা দ্রুত পরিবর্তনের যুগের সামনে উপস্থিত হতে চলেছে, যখন এমনকি অভিঘাত হওয়াও সম্ভব. এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্র গুলির মধ্যেও প্রতিযোগিতা অনিবার্য.

ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, নতুন শতকের প্রথম ১২ বছরে রাশিয়া যথেষ্ট সাফল্য দেখাতে পেরেছে. দেশের মজবুত হওয়া ও পুনর্স্থাপনের বিষয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পার হওয়া সম্ভব হয়েছে. কিন্তু এই নতুন বিকাশের অধ্যায়ে নতুন সমস্ত হুমকির সামনেও পড়তে হচ্ছে. আর সাফল্য পাওয়া সম্ভব হবে প্রাথমিক ভাবে দেশের জনগনের অগ্রগতির ইচ্ছার উপরে নির্ভর করেই, তাই রুশ রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন:

“আমাদের বর্তমানের কাজ হল এক সমৃদ্ধ ও সুখী রাশিয়া সৃষ্টি করা. এই প্রসঙ্গে আমাদের বোঝা উচিত্ হবে যে, আগামী বছর গুলি হতে চলেছে একেবারেই পরিণতির ও এমনকি দিক বদলেরও. আর তা শুধু আমাদের জন্যই নয়, বাস্তবে সারা পৃথিবীর জন্যই, যা এখন এক দ্রুত আমূল পরিবর্তনের অধ্যায়ে পা দিতে চলেছে, আর হতে পারে এমনকি অভিঘাত, সংঘাতেরও. বিশ্বের বিকাশ আরও বেশী করেই অসমঞ্জস হয়ে পড়ছে. অর্থনৈতিক, ভূ-রাজনৈতিক ও প্রজাতিগত দ্বন্দ্বের জন্য নতুন ভিত্তি তৈরী হচ্ছে. রসদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠোর হচ্ছে, এখানে বিশেষ করে উল্লেখ করব যে, শুধু ধাতু বা খনিজ গ্যাস বা তেলের জন্যই নয়, বরং প্রাথমিক ভাবে মানবিক সম্পদের জন্য, বুদ্ধির জন্যই. কে এগিয়ে যেতে পারবে আর কে হবে বাইরে থেকে যাওয়া আর একই সঙ্গে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই নিজের স্বাতন্ত্র্য হারাবে, তা নির্ভর করবে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষমতার উপরেই নয়, বরং প্রত্যেক জাতির নিজেদের মানসিক শক্তির উপরেই, তাদের ভিতরের শক্তি, আবেগ এবং তাদের পরিবর্তনের দিকে গতির প্রকৃতির উপরে”.

প্রাথমিক কাজের তালিকায়, যা আজ রাশিয়ার সমাজের সামনে রয়েছে, তাতে পুতিন গুরুত্ব দিয়েছেন দুর্নীতি মোকাবিলা বিষয়ে, তিনি বলেছেন:

“আমরা দুর্নীতির উপরে আক্রমণ চালিয়ে যাবো, যা আমাদের জাতীয় উন্নতির রসদকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে. কোন ব্যবসায়িক কাঠামোরই আমাদের দেশের প্রশাসন, আইন প্রণয়ন ও বিচার ব্যবস্থার কোন রকমের স্তরের সঙ্গে নৈকট্যকে ব্যবহার করতে পারা উচিত নয়”.

ভ্লাদিমির পুতিন আহ্বান করেছেন দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীদের ব্যয়ের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই দাবী যেন সমস্ত রকমের দায়িত্বের পদে থাকা লোকদেরই স্পর্শ করে, তার মধ্যে দেশের প্রথম সারির নেতারাও রয়েছেন, যেমন আছেন মন্ত্রীসভার সদস্য, পার্লামেন্ট সদস্য ও আদালতের কর্মীরাও, আর তারই সঙ্গে তাদের কাছের আত্মীয়রাও. দেশের প্রধান একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের ও রাজনীতিবিদদের বিদেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, শেয়ার ও বণ্ডের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার স্বপক্ষে নিজের মত দিয়েছেন.

রাশিয়া আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে একেবারেই সম্পূর্ণভাবে নিজেদের খাদ্যের বিষয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে চলেছে, আর তার পরেই বিশ্বের এক বৃহত্তম খাদ্য সরবরাহকারী দেশ হতে বাধ্য, বলেই মনে করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন. সারা বিশ্বেই খাদ্যের বিষয়ে চাহিদা দ্রুত বেড়ে চলেছে, বিশেষ করে উন্নতিশীল দেশ গুলিতে. আর রাশিয়া ভাগে পড়ে বিশ্বের কৃষি উপযুক্ত জমির অর্ধেকেরও বেশী- শতকরা ৫৫ ভাগ. “এটা আমাদের জন্যই খুলে দিয়েছে বিপুল নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত”, - জাতীয় সভায় বক্তৃতা দিতে এসে দেশের প্রধান এই ঘোষণা করেছেন.

রাষ্ট্রপতির বাত্সরিক এই বক্তৃতার এই নিয়ে প্রায় দুই দশক হতে চলেছে – যা দেশের আইন প্রণয়ন ও তা কার্যকরী করার জন্য সরকারের সঙ্গে একত্রে আলোচনার একটি উপায়. বাস্তবে এই বক্তৃতা – এক পরিকল্পনা মূলক দলিল, যাতে দেশের প্রধান নিজের ধারণা প্রকাশ করে থাকেন দেশের ও সমাজের ভবিষ্যত উন্নয়নের সম্ভাবনার পরিকল্পনা নিয়ে. বর্তমানের জাতীয় সভার এক ঘন্টা কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পরে ভ্লাদিমির পুতিনের এবারের মেয়াদে প্রথম বক্তৃতা এবং সব মিলিয়ে নবম.