মস্কো শহরে বড় রুশ ব্যবসায়ী ইভগেনি কাস্পেরস্কির ছেলেকে কিডন্যাপ করা নিয়ে শোরগোল হওয়া মামলার শুনানী শুরু হয়েছে. গত বছরের এপ্রিল মাসে বহু দেশে বিখ্যাত কাস্পেরস্কি ল্যাবরেটরীর মালিকের উত্তরাধিকারীকে অপহরণ করা হয়েছিল. যারা অপহরণ করেছিল, তারা বন্দীর জন্য মুক্তি পণ দাবী করেছিল তিরিশ লক্ষ ডলার.

সব শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের মার্চ মাসে, যখন টেলিভিশনে দেখানো হয়েছিল কম্পিউটারের জন্য অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম তৈরীর কোম্পানীর কাস্পেরস্কি ল্যাবরেটরীর স্রষ্টা ইভগেনি কাস্পেরস্কির সম্বন্ধে সিনেমা, তখন সাভেলেভ পদবি ধারী পিতা ও পুত্র জানতে পেরেছিল যে, ফোর্বস জার্নালের মতে ব্যবসায়ীর সম্পত্তির দাম একশ কোটি ডলারের সমান. সাভেলেভ বংশের বাবা ও ছেলে ঠিক করেছিল এই ধরনের ধন সম্পদ তাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার দরকার রয়েছে. তাদের আবার এই কাজের জন্য সহযোগী লোকও জুটে গিয়েছিল.

কয়েকদিন ধরে সাভেলেভ পিতার নেতৃত্বে এই দলের লোকরা ব্যবসায়ীর ছেলের উপরে নজর রেখেছিল. ২০ বছরের ইভান পড়ত মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কাজ করত প্রোগ্রাম লেখক হিসাবে. সেই কাজের জায়গায় যাওয়ার পথেই তাকে জোর করে গাড়ীতে তুলে নিয়ে পালানো হয়েছিল, তার চোখ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল আর হাতে পরান হয়েছিল হাতকড়া. সেই ছয় দিন, যখন অপহরণকারীরা মুক্তি পণ নিয়ে কথাবার্তা বলেছিল, তখন ইভানকে আটকে রাখা হয়েছিল মস্কো উপকণ্ঠের এক বাড়ীতে আটকে রাখা হয়েছিল. বিশেষ বাহিনীর লোকরা ২৪শে এপ্রিল ইভান কাস্পেরস্কিকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল. যখন তারা বন্দীর অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল, তখন দুই সাভেলেভ ও তাদের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল.

এই ধরনের অপরাধ, যেমন মানুষ অপহরণ করা, রাশিয়াতে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে প্রসার পেয়েছিল. তখন সোভিয়েত দেশ পতনের পরে, নতুন রাশিয়াতে সামাজিক– রাজনৈতিক ব্যবস্থা সহজ ছিল না. তা অনেক দিন আগেই একেবারেই পাল্টো গিয়েছে: মানুষ অপহরণ হওয়ার ঘটনা এখন খুবই কম. কিন্তু সব সময়েই কিডন্যাপিংয়ের সঙ্গে যুক্ত লোকদের কাজ মুক্তি পণ পাওয়া নয়, এই কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় বিশ্লেষণ ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের প্রধান রুসলান মিলচেঙ্কো বলেছেন:

কাজ হল – লোকের আত্মীয়কে অপহরণ করা, যাতে তার উপরে চাপ সৃষ্টি করা যায়. নানা কারণেই এটা করা হয়ে থাকে: মুক্তি পণ চাওয়া, ব্যবসায় নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করা, কোন পদাধিকারীকে তার পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য করা.

0কাস্পেরস্কির ক্ষেত্রে অপরাধীদের লক্ষ্য ছিল শুধু মুক্তি পণ পাওয়া. কিন্তু খুবই বোধগম্য নয় যে, এই কাণ্ডের বীরেরা কি আশা করেছিল. বর্তমানে পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর লোকরা এই ধরনের অপরাধ প্রতিহত করা শিখেছে. তাই এই বদমাশ লোকদের অ্যাডভেঞ্চার শেষ হয়েছে তাদেরই জন্য খুবই মর্মান্তিক ভাবে. যদি আদালত রায় দেয় যে, সাভেলেভরা ও তাদের সহযোগী এই অপহরণ ও মুক্তি পণ চাওয়ার বিষয়ে কাজ করেছে, তবে প্রত্যেক অভিযুক্তকেই দশ বছরের বেশী সময় ধরে কারাবাসে থাকতে হতে পারে. আর তার ওপরে আবার ইভগেনি কাস্পেরস্কি দাবী করেছেন, তাঁকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১২ কোটি রুবল দিতে হবে, অর্থাত্ সেই তিরিশ লক্ষ ডলারের সমান অর্থই.