নয়াদিল্লীতে রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে ‘রেডিও রাশিয়া-২০১২’ ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে. ঐ ক্যুইজ ছিল ইন্দো-রুশী সহযোগিতার ওপরে. ৮ই-৯ই ডিসেম্বর দুইদিন ব্যাপী ‘রেডিও রাশিয়া’র ভারতীয় শ্রোতাদের ক্লাবগুলির সম্মেলনের আওতায় আয়োজিত হয়েছিল ঐ পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান. সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল আমাদের বেতারকেন্দ্রের শ্রোতাদের ১৫০টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা, আমাদের ভারতীয় শরিক ‘ফিভার-১০৪ এফএম’ এর কর্তাব্যক্তিরা. সম্মানীয় অতিথির ভুমিকায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর কাদাকিন.

প্রথণ পুরস্কার – ইলেকট্রনিক ট্যাবলেট. জিতেছেন গুজরাট রাজ্যের অরিহন্ত নগরের স্কুলশিক্ষক ও সেখানকার ‘ওয়ার্ল্ড রেডিও লিসেনার্স’ ক্লাবের সভাপতি নানজি জানজানি. আমাদের সংবাদদাতাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে দিলখোলা হাসি দিয়ে নিজের আনন্দ গোপন না করে তিনি বললেন – ক্যুইজের প্রশ্নাবলী সহজ ছিল না. কিন্তু উত্তর তৈরি করতে গিয়ে আমি রাশিয়া সম্পর্কে এত নতুন সব তথ্য জানতে পারলাম! ভারতবর্ষের সাথে তার ঐতিহাসিক যোগাযোগ, আজকের দিনে আমাদের দুদেশের সহযোগিতা, অদূর ভবিষ্যত নিয়ে তাদের ব্যাপক পরিকল্পনা. এই সবকিছুরই গল্প আমি আমার শিক্ষার্থীদের করি. ---

যে স্কুলে আমি পড়াই, সেখানকার পড়ুয়ারা ভারতের বিভিন্ন ভাষায় ‘রেডিও রাশিয়া’ সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান সম্মন্ধে ওয়াকিবহাল, সেগুলো শোনে. আর আমি চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের রাশিয়া সম্পর্কে জ্ঞানের বহর বৃদ্ধি করতে, রাশিয়ার শিল্প, সংস্কৃতি, আজকের দিনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্মন্ধে তাদের জানাতে. আমরা ইন্দো-রুশী সংযোগের প্রতি নজর রাখি, তা নিয়ে আলোচনা করি. সম্প্রতি দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘মস্কোর দিন’ উত্সবের সাফল্য সম্পর্কেও আমরা জানি.

নয়াদিল্লীর বাসিন্দা জয়ন্ত চক্রবর্তীও ক্যুইজ প্রতিযোগিতার অন্যতম পুরস্কার প্রাপক. তাকে পুরস্কারস্বরূপ অর্পণ করা হয়েছে এমপি-৩ প্লেয়ার সমেত এফএম ট্র্যানজিস্টার. “আমার এটারই দরকার ছিল” – সোল্লাসে তিনি বলে উঠলেন. “নতুন ট্র্যানজিস্টারে এখন থেকে শুনবো ‘ফিভার-১০৪ এফএম’ নিবেদিত ‘রাশিয়া থেকে ভালোবাসা জানিয়ে’ নামক অনুষ্ঠান. ঐ অনুষ্ঠানগুলো রেডিও রাশিয়া সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর সাথে মানানসই. আমার বয়স ৫০ বছর অতিক্রম করেছে, কিন্তু ভাবতে পারেন এই বয়সে আমি রুশী ভাষা শিখতে শুরু করেছি! দেখছি, যে ‘রেডিও রাশিয়া’ ও ‘ফিভার-১০৪ এফএমের’ সাহায্যে সেটা তেমন কঠিন কিছু নয়. ---

জয়ন্ত চক্রবর্তী বলে চলেছেন – আমি ৭০-এর দশক থেকেই মস্কো থেকে সম্প্রচারিত বেতার অনুষ্ঠান শুনে আসছি. আর ইদানীং রোজ আপনাদের বাংলা, হিন্দি ও উর্দু ভাষার সাইটগুলোতে ঢুকি. আমার পরিবার, মানে স্ত্রী দীপা ও ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ছেলে জয়দীপ সানন্দে নিয়মিত ‘রেডিও রাশিয়া’র অনুষ্ঠান শোনে, সাইটগুলো পড়ে. আমার ছেলের এই হবির দোসর হয়েছে তার বন্ধুবান্ধবরা. আমি অত্যন্ত আনন্দিত, যে জানুয়ারী মাস থেকে ‘রেডিও রাশিয়া’ ইংরাজি ও স্থানীয় ভাষাগুলির সম্মিলিত সাইট চালু করতে চলেছে. এটা তারিফযোগ্য.

রেডিও রাশিয়ার অনুষ্ঠানাদি ও সাইটে বসানো তথ্যাবলী নিয়ে আলোচনা, প্রস্তাব ও গঠনমুলক সমালোচনা – এই সবকিছুই চমত্কার ভাবে মিলে গিয়েছিল সম্মেলনের মুল স্রোতের সাথে. আমাদের বেতারকেন্দ্রের তরুন ও সক্রিয় পাঠক ও শ্রোতারা তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জানিয়েছে. তাদেরই একজন দিল্লী থেকে প্রকাশিত উর্দু ভাষায় সবচেয়ে বেশি প্রচারিত সংবাদপত্র ‘আওয়াম এক্সপ্রেসে’র সম্পাদক ৩০-বছর বয়সী আমীর আজমি. একগাল হেসে তিনি বলছেন – “আমরা কয়ের প্রজন্ম ধরে ‘মস্কো রেডিও’ শুনছি. আমার মা-বাবা ঐ সব অনুষ্ঠান শুনতেন. আমি সানন্দে তাদের ঐতিহ্য বজায় রেখেছি”. ---

আমীর আজমি ব্যাখ্যা করে বলছেন – “আওয়াম এক্সপ্রেসের জন্য আমি রেডিও রাশিয়ার শ্রোতাদের ক্লাবগুলির সপ্তম সম্মেলনের ওপর মেটেরিয়াল সংগ্রহ করছি. আমাদের কাগজ রাশিয়ার ঘটনাবলী সম্মন্ধে খবরাখবর দেয়. ‘রেডিও রাশিয়া’র সাইট আমাদের জন্য আপনাদের দেশ সম্পর্কে খবর পাওয়ার অন্যতম প্রধান উত্স. আমরা ক্লাবগুলিকে ও শ্রোতাদের ‘অল ইন্ডিয়া লিসেনারস নেট ওয়ার্কে’ যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিতে চাই. আমি নিজে কর্মসচিব এই সুদূরপ্রসারিত নেট ওয়ার্কের, যা সারা দেশজুড়ে বিস্তৃত. ঐ নেট ওয়ার্ক ব্যবহারকারীরাও নিশ্চয়ই ‘রেডিও রাশিয়া’ ও তার শ্রোতাদের সম্মন্ধে জানতে উত্সুক”.

আমরাও এই প্রস্তাব সমর্থন করছি ও আমাদের সাইটগুলোতে বিস্তারিতভাবে এই বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতে প্রস্তুত.

৯ই ডিসেম্বর নয়াদিল্লীর রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে সমাপ্ত ‘রেডিও রাশিয়া’র শ্রোতাদের ক্লাবগুলির সম্মেলন সুসম্পন্ন হয়েছে. সেখানকার ফোটো অ্যালবাম আপনারা পেয়ে যাবেন আমাদের বেতারকেন্দ্রের বিভিন্ন সাইটে.