২০১২ সালকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সন্ত্রাসবাদের স্থিতিশীলতার বছর.চরমপন্থী সংগঠন গুলির সক্রিয়তা সাধারণের চেয়ে বেশী হয় নি আর বিভিন্ন দেশের বিশেষ প্রতিরক্ষা বিভাগ গুলি জানিয়েছে, যে, তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার. একটাই কিন্তু খুবই জাজ্বল্যমান ব্যতিক্রম রয়েছে – সিরিয়া. সেখানে অন্তর্ঘাত শান্তিপ্রিয় জনগনের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে অহরহ, কিন্তু পশ্চিমে সেটাকে দেখেও না দেখার ভাব করা হচ্ছে.

সন্ত্রাসবাদের সমস্যা নিয়ে আধুনিক বিশ্বে বহু শত গবেষণা হয়েছে. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এখনও এই বিষয়ে কোন সর্বজনীন সংজ্ঞা প্রস্তাব করতে সক্ষম হন নি. সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে কোন ধরনের প্রতিরোধের ব্যবস্থা সবচেয়ে সফল সেই প্রশ্ন নিয়েও কম মতভেদ নেই. “রেডিও রাশিয়ার” পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যাদের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগই মনে করেন যে, সন্ত্রাসবাদীদের প্রধান লক্ষ্য – শান্তিপ্রিয় মানুষদের মধ্যে একটা আতঙ্কের সৃষ্টি করা ও তৈরী হওয়া সমাজ ব্যবস্থাকেই ভেঙে দেওয়া. এই ধারণার সঙ্গে একমত হয়ে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার কনোভালভ বলেছেন:

“নতুন রকমের যুদ্ধ নিয়ে বলতে পারা যায়, তা সেই জন্যেই করা হচ্ছে যাতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিজেদের জনগনকে রক্ষা করার বিষয়ে অপারগ হওয়ার প্রমাণ দেওয়ানো, অর্থনৈতিক যোগাযোগ ভেঙে দেওয়া, বাজার ব্যবসার সমস্ত কাঠামোর উপরেই আঘাত করার জন্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপরেও. যখন বুনো লোকরা, আত্ম সংরক্ষণের কোন ইচ্ছাই যাদের নেই, তারা যখন উন্নত সভ্যতাকে আক্রমণ করছে, তখন এই আক্রমণ সফল হতেই পারে”.

একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, বিগত সময়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ভোল পাল্টানো শুরু হয়েছে. আরব বসন্তের সঙ্গেই এই রূপান্তর যুক্ত. সেই সমস্ত চরমপন্থী লোক, যারা শান্তিপ্রিয় জনগনের বিরুদ্ধে সামরিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে বিব্রত হত না, তারা বর্তমানের প্রশাসন গুলির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শুরু করছে.এবারে তারা নিজেরাই ক্ষমতায় আরোহণ করতে চাইছে. আর এখনও বুঝতে পারা যাচ্ছে না, যে, তাদের কোন ইতিবাচক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, অথবা তারা আগের মতই শুধু ধ্বংস করতেই আগ্রহী. বিশ্ব ইতিহাসে এই রকমের সন্ত্রাসবাদীদের সম্পূর্ণভাবেই পুনর্জন্মের উদাহরণ রয়েছে, বলে উল্লেখ করে সামরিক বিশেষজ্ঞ পাভেল ফেলগেনহাউয়ের বলেছেন:

“সন্ত্রাসবাদ – এটা রাজনৈতিক লড়াইয়ের পদ্ধতি. এমন হয় যে, সন্ত্রাসবাদীরা ক্ষমতায় আসতে পেরে শেষমেষ রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিণত হয়. যদি অন্য কোনও সম্ভাবনা থাকে, তবে তারা তা ব্যবহার করে. আয়ারল্যান্ডে যেমন, প্রাক্তন সন্ত্রাসবাদীরা রাজনীতিবিদ হয়েছে, তারা আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সামরিক বাহিনীর সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে এখন পার্লামেন্টে অধিবেশন করছে”.

কিন্তু কোন গ্যারান্টি নেই যে, নিকটপ্রাচ্যের সন্ত্রাসবাদীরা, যারা নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রামী বলে দেখাতে চাইছে, তারা কোন রকমের উপযুক্ত রাজনীতিবিদ হতে পারবে. ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর সভাপতি লিওনিদ ইভাশভের মতে, রাশিয়া বর্তমানে সিরিয়াতে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদীদের ক্ষমতাসীন প্রশাসন হওয়ার মর্যাদা পেতে দিচ্ছে না. আর এটা, নিজের পক্ষ থেকে লিবিয়ার “স্বাধীনতা মার্কা চিত্রনাট্য” পুনরাবৃত্তি হতে দিচ্ছে না, যা উল্লেখযোগ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, যারা এই লিবিয়ার বিপ্লবকে সমর্থন করেছিল, তাদের জন্যই এই দেশে নিজেদের রাষ্ট্রদূতের জীবন দিয়ে দাম দিতে হয়েছে.