কিওটো প্রোটোকল তার সময় পার করেছে, আর এই প্রোটোকলের পরবর্তী সময়ে টিকে থাকা – একটা আনুষ্ঠানিক ব্যাপার. এই ধরনের সিদ্ধান্তেই বিশেষজ্ঞরা পৌঁছেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে কাঠামো সংক্রান্ত কনভেনশনের পক্ষ গুলির অষ্টাদশ সম্মেলনের শেষে. দোহ শহরে আলোচনার পরে তিনটি প্রধান সূত্র প্রকাশ করা হয়েছে: প্রোটোকল থেকে কানাডা ও জাপান বেরিয়ে যাচ্ছে, আর রাশিয়া নিজেদের উপরে এই চুক্তির দ্বিতীয় মেয়াদের সময়ের বাধ্যতা মূলক দায়িত্ব নিচ্ছে না. কিন্তু এটা স্বত্ত্বেও, এই প্রকল্প আগামী ২০২০ পর্যন্ত কাজ করবে.

কিওটো প্রোটোকল অনুযায়ী দেশ গুলি নিজেদের সামনে পাঁচ বছর সময়ের মধ্যে পরিবেশে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের বর্জন কমানোর দায়িত্ব নিয়েছিল শতকরা পাঁচ শতাংশ. প্রত্যেক পক্ষের জন্যই তৈরী করা হয়েছিল এই চুক্তিতে অংশগ্রহণের জন্য আলাদা শর্ত. পরিবেশ বান্ধব রাষ্ট্র গুলি নিজেদের কোটা উন্নতিশীল দেশ গুলিকে বিক্রী করতে পারত. তারই সঙ্গে একে অপরের সহযোগিতার উপায়ও তৈরী করা হয়েছিল, যখন এক রাষ্ট্র অন্য দেশে পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য বিনিয়োগ করতে পারত.

পাঁচ বছরের ফলাফল দেখে বলা যেতে পারে: পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হয়েছে, কিছু দেশ নিজেদের কোটা বিক্রী করে লাভও করেছে. কিন্তু এই প্রকল্প শিল্প বিষয়ে সেই সমস্ত দানবীয় আকৃতি দেশ যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের পক্ষ থেকে কোন সমর্থনই পায় নি. রাশিয়া পক্ষ থেকে ধারণা হয়েছে যে, বর্তমানের চুক্তি, যেখানে এই দেশ গুলি অংশ নিচ্ছে না, তা কোন অর্থ রাখে না. আর মস্কোর পক্ষ থেকে নিজেদের উপরে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই অবস্থান থেকেই নেওয়া হয়েছে, এটাই বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন.

যদিও সারা বিশ্বের কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নিষ্ক্রমণের হার কমানোর দাবী পালন ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সহজ ব্যবস্থা তৈরী করা গিয়েছিল, তবুও কিওটো প্রোটোকলের কাঠামো সুবিধাজনক নয়. এটা সেই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত যে, এই মডেল পুরানো হয়ে গিয়েছে, এই রকম মনে করে বিশ্ব বন্য প্রকৃতি তহবিলের আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে প্রকল্পের কোঅর্ডিনেটর আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন:

“কিওটো প্রোটোকল বর্তমানে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তাতে ১৯৯২ সালের হিসাব মতো উন্নতিশীল ও উন্নত দেশের সংজ্ঞা দেওয়া রয়েছে. এখন পরিস্থিতিই অন্য রকমের. আর এখানে দেওয়া সীমারেখা এতই কঠোর, যা বাদ দেওয়া যেতেই পারে না”.

আট বছর পরে কিওটো প্রোটোকলের জায়গায় নতুন আবহাওয়ার সংক্রান্ত চুক্তি গ্রহণের কথা রয়েছে. এর আগে পর্যন্ত দেশ গুলি পারস্পরিক ভাবে কাজ করবে, বর্তমানে থাকা আগের প্রোটোকলের চুক্তি গুলির ভিত্তিতেই. নতুন চুক্তির প্রকল্প তৈরী হওয়ার কথা রয়েছে ২০১৫ সালের মধ্যে.