২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া পশ্চিমকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে বার্ষিক আভ্যন্তরীণ উত্পাদনে, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ও নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে. এই বিষয়ে বলা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বিভাগের রিপোর্টে. বিশ্বের শক্তি কেন্দ্র সরে যাওয়া নিয়ে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

এই রিপোর্টের লেখকরা বলেছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির স্বাস্থ্য বহুলাংশেই নির্ভর করবে পশ্চিমের ঐতিহ্য অনুযায়ী উন্নত দেশ গুলির চেয়ে উন্নতিশীল দেশ গুলিতে বিকাশের উপরেই. আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটবে খুব সম্ভবতঃ, উন্নতিশীল দেশ গুলিতে, কারণ আন্তর্জাতিক কোম্পানী গুলি সেই সমস্ত দ্রুত উন্নতিশীল দেশ গুলিতেই বেশী করে উপস্থিত রয়েছে, যেমন চিন, ভারত ও ব্রাজিল.

অনেকদিন ধরেই স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, বিশ্বের শুধু অর্থনৈতিক নয়, এমনকি রাজনৈতিক কেন্দ্রই এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া নামক জার্নালের প্রধান সম্পাদক ফিওদর লুকিয়ানভ বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বিভাগের জাতীয় পরামর্শ সভা কোন আমেরিকা আবিষ্কার করে নি এই কথা বলে যে, আন্তর্জাতিক ভর কেন্দ্র, প্রধানতঃ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হলেও, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দিকেই সরে যাচ্ছে. এটা অনেকদিন আগে থেকেই সাধারন জায়গায় পরিণত হয়েছে, আর তারা শুধু এখন এই প্রবণতাকেই সমর্থন করছে, যা এখন রয়েছে. চিন ও ভারত নিজেদের অর্থনীতির পরিমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যে ছাড়িয়ে যেতে পারে, তা সকলেই জানে. অন্য ব্যাপার হল যে, সর্বমোট অর্থনীতির পরিমান – অর্থাত্ আভ্যন্তরীণ গড় বার্ষিক উত্পাদন – এটা শুধু একটা মাত্র সূচক, অন্য সূচক হল – জনপ্রতি উত্পাদিত দ্রব্যের পরিমান. এখানে অবশ্যই আজকের মতই ২০ বছর বাদেও চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ কাউকেই ছাড়িয়ে যেতে পারবে না, কারণ তাদের জনসংখ্যা বিশাল ও বেশীর ভাগ লোকই গরীব. সেই ধরনের সমৃদ্ধির স্তর তাদের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব নয়, আর এটা নিজের থেকেই একটা প্রশ্নের উদয় করে যে, এই ধরনের মডেল কতটা স্থিতিশীল. কোন রকমের অর্থবহ মূল্যায়ণ করার জন্য এই রিপোর্ট খুবই কম কিছু দেবে. তা স্বত্ত্বেও, বোঝা গিয়েছে যে, বিশ্বে শক্তির ভর কেন্দ্র পাল্টাবেই”.

ভারত ও চিনের ক্ষমতার বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ২০২০ সালের মধ্যেই ভারত চিনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, যাদের বিকাশের গতি ধীরে হলেও কমবে. এই রিপোর্টের লেখকরা বলেছেন যে, বহু পুরনো স্মৃতি হিসাবেই রয়ে যাবে বর্তমানের বার্ষিক শতকরা আট থেকে দশ শতাংশ চৈনিক উন্নয়নের হার. এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে আমেরিকার লোকদের মতে, জনসংখ্যা. চিনের কর্মক্ষম জনসংখ্যা ২০১৬ সালে তার সবচেয়ে বেশী সংখ্যা ৯৯কোটি ৪০ লক্ষে পৌঁছবে আর তারপরে কমতে থাকবে. ২০৩০ সালেই তা হবে ৯৬ কোটি ১০ লক্ষ লোক. একেবারে উল্টোটা ঘটবে ভারতের সঙ্গে. প্রায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে. কর্ম ক্ষম বয়স বেড়ে যাবে গড়ে ৩২ বছর অবধি, কিন্তু তা হবে অন্যান্য সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশ গুলির মধ্যে প্রথম দশটির চেয়ে কম.

এই রিপোর্টে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০৩০ সালের পরে ভারতে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ভোগের পরিমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের লোকদের মোট ভোগের পরিমানের চেয়ে বেশীই হবে, যা চিনে হবে না. কিন্তু এটা হতে পারে যেমন ভারতে, তেমনই চিনেও শুধু সেই ক্ষেত্রে যদি এই দেশ গুলি নিজেদের জল, বিদ্যুত ও খাদ্য সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করতে পারে ও বেশী করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারে, যা তাদের অর্থনীতিকেই বিকশিত হতে দেবে. যদি ভারত ও চিন নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা গুলি সমাধান করতে পারে, তবে এটা তাদের ২০৩০ সালে বিশ্বে প্রধান স্থান গুলি দেবে. এটা আর গরীব দেশ থাকবে না, যা তারা সারা ইতিহাস ধরেই ছিল, আর এমন দেশে পরিণত হবে, যাদের বিত্তবান মধ্যবিত্ত শ্রেনী রয়েছে.

যে কোন ক্ষেত্রেই ইউরোপের নিজেদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে অপারগ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে চিন ও ভারত দেখা যাচ্ছে অনেক বেশী পছন্দসই.