কয়েকদিন আগে ভারতের হিন্দু সংবাদপত্র এক বড় প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে পারমানবিক অস্ত্র বিষয়ে এর বড় ভারতীয় গবেষক ও প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ লিখিত, তার নামও খুব ভয়ঙ্কর, “পাকিস্তানের যুদ্ধ সীমানায় অস্থিরতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া করা”. এই প্রবন্ধে এক বিশদ বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের পারমানবিক পরিকল্পনার বিকাশের আধুনিক প্রবণতা নিয়ে, প্রাথমিক ভাবে তার সামরিক অংশ নিয়েই. এই প্রবন্ধ এই কারণেই আগ্রহের সঞ্চার করে যে, তা বিগত বছর গুলিতে এশিয়ায় পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার অনেক ভিতরের শক্তির কারণ ব্যাখ্যা করে, এই রকম মনে করেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

আজ পাকিস্তান সর্বমোট পারমানবিক অস্ত্রের সংখ্যায় ভারতকে ছাড়িয়েছে. তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা নেই, তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, তা তুলনামূলক ভাবে ভারতের একশ হলে পাকিস্তানের একশ দশ, অর্থাত্ পাকিস্তানেরই বেশী. পাকিস্তান খুবই সক্রিয় ভাবে পারমানবিক অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও তৈরী করছে ও তাদের লক্ষ্যে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টাও করছে. বর্তমানে তারা পারমানবিক যেমন ভূমি থেকে ছোঁড়ার ব্যবস্থা ব্যবহার করে, তেমনই আকাশে ওড়া যুদ্ধ বিমান থেকেও এই ধরনের অস্ত্র নিক্ষেপ করাতে সক্ষম হয়েছে . বহু বিশ্লেষকদেরই মতে, পাকিস্তান আজ দ্বিতীয় পারমানবিক আঘাত হানার ক্ষমতা অর্জন করেছে.

কিন্তু এই প্রবন্ধের লেখকের প্রধান সিদ্ধান্ত হল যে, পাকিস্তানের পারমানবিক পরিকল্পনা আর ভারতের সঙ্গে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা সম্ভব নয়. তার লক্ষ্য অনেক দূর পর্যন্তই গিয়েছে – আর তা হল যে, প্রয়োজন পড়লে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আক্রমণের প্রত্যুত্তর দেওয়া.

এখানে সুবিধা হবে মনে করলে যে, কি থেকে সব শুরু হয়েছিল. ১৯৭৪ সালে ভারত প্রথম পারমানবিক বোমার পরীক্ষা করেছিল, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“খুবই স্বাভাবিক যে, এই ভঙ্গী পাকিস্তানের দিকে লক্ষ্য করে মোটেও করা হয় নি, যাদের শুধু সেই সময়ে পারমানবিক অস্ত্র তো ছিলই না, এমনকি তাদের নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনা ছিল একেবারেই ভ্রূণ অবস্থায়. এই পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল চিনকে দেখানো যে, ভারত তাদের সঙ্গে নিজেদের জন্য অপমানজনক যুদ্ধের আট বছর পরেই এমন শক্তি অর্জন করতে পেরেছে যে, আর তাদের সহজ শিকার বলে মনে করা যাবে না ও ভারত এখন থেকে তৈরী আছে আগ্রাসনের উত্তর দিতে.

কিন্তু এই ধরনের পরীক্ষা পাকিস্তানকে বাধ্য করেছিল নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনা সক্রিয় করার ও ১৯৯৮ সালে প্রথমে ভারত ও পরে পাকিস্তান সফল পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা করে. আর যদিও আইনত পারমানবিক রাষ্ট্রের মর্যাদা যেমন ভারত তেমনই পাকিস্তানের ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয় না, তবুও বাস্তবে দুই দেশই দীর্ঘ দিন হল পারমানবিক রাষ্ট্রের ক্লাবেই ঢুকে পড়েছে”.

পরবর্তী বছর গুলিতে ভারতের পারমানবিক পরিকল্পনা মুখ্যতঃ সেই দিকেই লক্ষ্য করে করা ছিল যে, যাতে চিনকে নিজেদের ক্ষমতা দেখানো যায়. এটা খুবই স্পষ্ট করে এই বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের অগ্নি – ৫ রকেটের সফল পরীক্ষা দিয়ে করা হয়েছে, যা চিনের দেশের ভিতরের যে কোন লক্ষ্যই ভেদ করতে সক্ষম হতে পারে. পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধের জন্য অন্য যে কোনও পুরনো মডেলের রকেটই যথেষ্ট ছিল.

পাকিস্তানের পরিকল্পনা বহু দিন ধরেই সেই লক্ষ্যেই করা হয়েছিল যে, যাতে ভারতকে আটকে রাখা যায়. কিন্তু বিগত বছর গুলিতে এই অঞ্চলে খুবই দ্রুত পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে. আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সামরিক অপারেশন, পাকিস্তানের জমিতে নিয়মিত মার্কিন ড্রোন বিমানের আক্রমণের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করা, তার ওপরে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত ভাবে রটনা যে, পাকিস্তানের পারমানবিক অস্ত্র যে কোন মুহূর্তেই সন্ত্রাসবাদীদের হাতে যেতে পারে, কারণ তা খুব একটা ভরসাযোগ্য ভাবে রাখা হয় নি, - এই সবই পাকিস্তানকে বাধ্য করেছে পাকিস্তানের প্রাথমিক গুরুত্বের বিষয়ে রদবদল করতে, তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“অবশ্যই, পাকিস্তানে কেউই গুরুত্ব দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে ভাবতে তৈরী নয় – এটা আত্মহত্যার সামিল. কিন্তু সেই সমস্ত দেশের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যেমন ইরাক, বা বিশেষ করে লিবিয়া যে, যারা নিজেদের থেকে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী থেকে নিজেরা নিরস্ত হয়েছে, তাদের উপরেই পশ্চিম গিয়ে হামলা করেছে, তার ফলেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকরা বাধ্য হয়েছে নিজেদের পারমানবিক অস্ত্রের ভাণ্ডারকেই বৃদ্ধি করতে”.

আর এখানেই প্রশ্নের উদয় হয়: প্রথমে কি আর কোথায় এই হিংসার উত্পত্তি? সেই সমস্ত দেশ কি দোষী, যেমন পাকিস্তান বা ইরান, যারা নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অস্ত্র প্রসার রোধকে অগ্রাহ্য করে বৃদ্ধি করছে, সেই বিষয়কে নিজেদের স্বাধীনতার বিষয়ে গ্যারান্টি বলে মনে করে? অথবা দোষ সেই সমস্ত শক্তির সঙ্গেই ভাগ করে নেওয়া উচিত্, যারা চেষ্টা করছে, নিজেদের ব্যবহারের নিয়ম মানতে বাধ্য করছে আর নানা রকমের “মানবিক অনুপ্রবেশের” সামনেও থামছে না তাদের জন্য অপছন্দের প্রশাসনকে বদলানোর জন্য?

দুঃখের বিষয় হল যে, শ্রী শরণ যে প্রবন্ধ লিখেছেন, তাতে এই প্রশ্নের উত্তর নেই.