মস্কোতেও গোটা রাশিয়ার মতো জমিয়ে শীত পড়েছে. স্কেটিং ও স্লিপ খাওয়ার জন্য বরফ ঢালা হয়েছে, পার্কগুলিতে স্কি করার পথ বানানো হয়েছে, বরফের ছোট ছোট খেলার জায়গা বানানো হয়েছে. নগরী নিউ ইয়ার, বড়দিনের ছুটি ও সুদীর্ঘ শীতকালের জন্য তৈরি হচ্ছে. জমে যাওয়া ঠান্ডা সত্বেও শীতকাল বরাবর উপহার দেয় খুশির মেজাজ ও আনন্দদায়ক অপ্রত্যাশিত বিভিন্ন মুহুর্ত.

জারেদের ভূতপূর্ব বাসভবন, মস্কোর সুবিদিত ‘কলোমেনস্কোয়ে’ পার্কে শীতের মরসুম শুরু হল. নিউ ইয়ারের প্রাক্কালে পার্কটি রুপকথার এক কল্পজগতে পরিণত হয়েছে. ফারগাছগুলি সাজানো হয়েছে ঝলমলে সব খেলনা ও রংবেরংয়ের আলোর মালা দিয়ে. আঁধার নেমে এলেই গাছগুলি রামধনুর সাতরঙে ঝিলমিল করে ওঠে, সর্বত্র স্যুভেনির ও মুখরোচক স্ন্যাকস বিক্রি করা হচ্ছে. আর নববর্ষ উপলক্ষ্যে স্কুলের ছুটি চলার সময় খুদেদের জন্য ডিসেম্বরের শেষে – জানুয়ারির শুরুতে মজার মজার সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে সেখানে. সান্তা ক্লজ ও রুপকথার অন্যান্য রথী-মহারথীরা স্কুলপড়ুয়াদের উত্সব উপলক্ষ্যে অভিনন্দন জানাবে.

সংরক্ষিত মিউজিয়ামটি গাইডের সাথে প্রদক্ষিণ করার অভিজ্ঞতা অনন্যসাধারন. ওখানে যে থাকতেন রাশিয়ার সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীরা, বিদেশী কূটনীতিবিদদের সেখানে আপ্যায়ন করা হতো, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো. আজ সেইসব প্রাসাদ, গীর্জা, মিনার ও ভোজনকক্ষ ইতিহাসের স্মারকে পরিণত হয়েছে. হাজার হাজার লোক ওখানে যায় প্রাচীনকালের আদলে পুর্ণনির্মিত ঘোড়াশাল, ঘোড়ার গাড়ি রাখার গ্যারেজ সেকালের ঘোড়ার গাড়িগুলো সমেত, কামারশালা ও অন্যান্য দ্রষ্টব্য পরিদর্শন করতে.

উত্সবের দিনগুলিতে ভূতপূর্ব জারের প্রাসাদে ‘রুশী শীতকাল’ নামক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে. প্রদর্শণকারীরা জাঁকজমকপূর্ণ জারেদের সব মহলে ঢুকতে পারবে, ঘোড়ার গাড়িতে চড়তে পারবে.

‘কলোমেনস্কোয়ে’ শুধু মিউজিয়ামই নয়. বিশাল মেট্রো শহরের মাঝে এটা অপূর্ব সুন্দর একটি রুশী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন. চোখজুড়ানো বীথি, মনমাতানো ওকগাছের ঝাড়, চড়াই-উতরাই ও ঝর্ণা. বাচ্চাবুড়ো সবাই উল্লসিত হয় স্কেটে চড়ে সবেগে ঢালুতে নামার সময়. শীত পড়ার আগে উতরাইগুলোতে নিরাপদে স্কেটিং করার জন্য বরফ সমান করা হয়েছে ও মাউন্টেন স্কি করার জন্য পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে.

আর রাশিয়ায় স্কেট ছাড়া কি শীতকাল কল্পনা করা যায়! মস্কোর অধিকাংশ পার্কের মতো ‘কলোমেনস্কায়াতে’ও বিশাল স্কেটিং আরেনা বানানো হবে. সঙ্গীতের মুর্চ্ছনা, উত্সবে সাজা আলোর ঝিকিমিকি, চোখের পাতার ওপর পড়া পেঁজা তুলোর মতো বরফের কণা. অসাধারন সুন্দর ও রোমান্টিক. বোধহয় এমন শীতেরই প্রতীক্ষায় রয়েছে মস্কোবাসী ও নগরীর অতিথিরা. এবং যারা কখনো রাশিয়ায় আসেনি, তারাও বোধহয় এমন ছবিই তাদের কল্পনার চোখে দ্যাখে.