কৃষিবিজ্ঞানীরা ক্ষুধার সাথে সংগ্রাম করার স্কিম তৈরি করছেন. মুল আলোচ্যবিষয় হচ্ছে অমীমাংসিত প্রশ্নঃ পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর ক্ষুধা নিবৃত্ত করার জন্য কি শুধুমাত্র জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত খাদ্যের উত্পাদন করতে হবে, নাকি শুদ্ধ প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়েই চাহিদা পূরন করা যাবে? ৩০ বছর পরে আমাদের গ্রহের জনসংখ্যা আরও ২০০ কোটি বাড়বে. ইত্যবসরে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্যের সংস্থান ৭০ শতাংশ বাড়ানো অপরিহার্য.

ক্ষুধার সমস্যাকে বহু বিজ্ঞানী খাদ্যদ্রব্যের ঘাটতি নয়, তার অসম বন্টনের সাথে যুক্ত করছেন. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়াররা এর সাথে একমত নয়. তাদের মতে জিন রূপান্তরিত খাদ্য বিশ্ববাসীকে সক্রিয়ভাবে গ্রহণ করতে হবে. এই বিতর্কের শেষ নেই. জিন পরিবর্তিত খাদ্যের বিরুদ্ধবাদীদের মতে যে সব দেশে ওরকম খাদ্য ব্যাপকহারে উদরস্থ করা হচ্ছে, সেই দেশগুলি নিরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পর্যবসিত হচ্ছে. কারন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর জিন পরিবর্তিত খাদ্যের প্রভাব সম্মন্ধে এখনো যথেষ্টমাত্রায় জানা যায়নি. এই প্রসঙ্গে বলছেন জেনেটিক নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় এ্যাসোশিয়েশনের ডিরেক্টর ইলেনা শারোইকিনা. ---

মানব সমাজের জন্য দুই-তিন দশক – মুহুর্তমাত্র ও আমরা এখনই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি না. আমাদের জানা আছে, যে জিন পরিবর্তিত খাবার ছুঁচো ও ইঁদুরদের শরীরে চরম কুপ্রভাব ফেলে, বিশেষতঃ তাদের বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে.

তবে বিপরীত মতও আছে. যেমন রাশিয়ার দানাশস্যের প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের ডিরেক্টর ওলেগ রাদিন বলছেন ---

প্রথাগত শস্য উত্পাদনের জন্য ১৪ থেকে ২০ রকমের বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে. সে সবই ঢোকে আমরা যেসব খাবার খাই, তার ভেতরে. জিন পরিবর্তিত শস্য উত্পাদনের জন্যে লাগে মাত্র ১ থেকে ৩টি বিষাক্ত রাসায়নিক. অতএব, বিষ জমা হওয়ার দিক দিয়ে সেগুলি তুলনামুলকভাবে কম ক্ষতিকর. উপরন্তু ফসলের পরিমান ৩০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব.

বর্তমানে পৃথিবীতে ১৫ কোটি হেক্টরেরও বেশি জমিতে জিন পরিবর্তিত শস্যের ফলন হচ্ছে. এই জমির আয়তন রাশিয়ার আয়তনের এক-দশমাংশ, চীনের আয়তনের এক-ষষ্ঠাংশ, ভারতের ভুখন্ডের অর্ধেক, ৩টে ইরাক, ৪টে জাপান বা ১০টা বাংলাদেশের আয়তনের সমান. বৃহত্তম সব কৃষিজমিগুলো আমেরিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও চীনে অবস্থিত. শুধুমাত্র তৈরি খাবারেরই নয়, প্রযুক্তি, তৈরি বীজ, কীটনাশকের পেটেন্টেরও কেনাবেচা চলছে. এটা বিশাল ব্যবসা.

তবে তথাকথিত বিশুদ্ধ খাদ্যদ্রব্য উত্পাদনকারীরাও কম পয়সা রোজগার করছে না. গোটা বিশ্বজুড়ে এখন ফ্যাশানই হল বিশুদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করা. তার মানে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক খাদ্য, যা ভিটামিন সমৃদ্ধ ও কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার ব্যতীত তার উত্পাদন হয়. লোকে বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক খাদ্যদ্রব্য কেনার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত. জাতীয় জেনেটিক্যাল এ্যাসোশিয়েশনের অধ্যক্ষ আলেক্সান্দর বারানভ এই প্রসঙ্গে বলছেন ---

খাদ্যদ্রব্যের সংকট থাকা সত্বেও, বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক খাবারদাবারের চাহিদার মাত্রা আগের মতোই বিশাল. যেমন জার্মানীতে এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসী শুধু এরকম খাবারই খায়. রাশিয়াতেও এসবের বিপুল চাহিদা. দোকানের তুলনায় বাজারেই লোকে এইসব বেশি কেনে.

0তার মানে দাঁড়াচ্ছে এই, যে জেনেটিকরা ও বিশুদ্ধ খাদ্য সরবরাহকারীরা কেনাবেচার বাজারটা ভাগাভাগি করে নিয়েছে. প্রথম গোষ্ঠী দরিদ্র দেশগুলিতে খাদ্য সরবরাহ করে আর দ্বিতীয় দলের বাজার সেখানে, যেখানে খাদ্যদ্রব্যের ঘাটতি নেই. কিন্তু অভুক্তদের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে. তাছাড়া উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলির সামনে সমস্যা – কি খাওয়ানো হবে তাদের গবাদি পশুদের. আপাততঃ এই প্রতিযোগিতায় জেনেটিকরাই এগিয়ে আছে.