রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সোমবারে তাঁর অছিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন. ক্রেমলিনের তথ্য সম্প্রচার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ব্যক্তিরা সকলেই তাঁকে সক্রিয়ভাবে গত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে সমর্থন করেছেন. এই আস্থাভাজন ব্যক্তিদের তালিকায় প্রায় ৫৫০ জন ব্যক্তি দেশের নানা এলাকা থেকে রয়েছেন.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সেই মতের সঙ্গে একমত হতে পারেন নি যে, দেশে বিরোধী মনোভাব কমে আসছে কোন এক রকমের “স্ক্রু টাইট: দেওয়ার ফলে. তিনি মনে করেন যে, নির্বাচনের প্রচারের আগের সময় গুলিতেসারা বিশ্বেই প্রতিবাদী সক্রিয়তা বেড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে. পুতিন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের বিরোধ সক্রিয়তা দেখতে পাওয়া গিয়েছিল লোকসভা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ে. পুতিন বলেছেন, “আমি মনে করি যে, রাশিয়ার যে কোন নাগরিকই নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রাখেন ও তার জন্য যে কোন রকমের উপলব্ধ আইন সঙ্গত মাধ্যমেরই ব্যবহার করতে পারেন”. তাঁর মতে, রাশিয়ার বেশীর ভাগ লোকই ভালোর দিকে পরিবর্তন চান, কিন্তু কেউই বিপ্লব চান না. দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়াতে তা চলতেই থাকবে, আর তা শুধু ক্ষমতার উচ্চ স্তরের অলিন্দেই নয়, এমনকি সামাজিক স্তরেও. রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে বলেছেন যে, দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই করা কঠিন হচ্ছে এই কারণে যে, দেশের পরিবর্তনের সময়ে বাজার অর্থনীতির প্রতি নিয়মের কাঠামো তৈরী করা হয় নি বলেই. পুতিন ঘুষ দেওয়া নেওয়া বন্ধ করার বিষয়ে প্রধান মনে করেন শাস্তির অমোঘ সম্ভাবনাকেই. দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের সময়ে প্রয়োজন হবে খুবই কঠোর ভাবে তাড়াহুড়ো না করে ও পরম্পরা মেনেই কাজ করার, কারণ, যদি যথেষ্ট পরিমানে প্রমাণ হাজির না করেই বিচারের রায় দেওয়া হয়, তবে রাশিয়া ১৯৩৭ সালেই ফিরে যাবে. এই রকমই মনে করেন পুতিন. তিনি যোগ করেছেন যে, দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পরিষেবার কাজ হবে সব সময়েই আইনের কাঠামোর মধ্যে থাকা. রাশিয়া আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিতে বাধ্য, আর তার একমাত্র শর্ত হল দেশের স্বার্থকে রক্ষা করা, কিন্তু বিদেশী সহকর্মীদের স্বার্থের সঙ্গে তুলনা করেই তা করা উচিত্ হবে, ঘোষণা করেছেন রুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি. তিনি সেই মতের সঙ্গে সহমত হতে পারেন নি যে, বিশ্ব বর্তমানে এক মেরু বিশিষ্ট হচ্ছে. তাঁর মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকেই চেষ্টা করছে রাশিয়ার উপরে চাপ দিতে. “বিশ্ব অর্থনীতির অন্য ধরনের কাঠামো বিন্যাস হচ্ছে, নতুন নেতাদের উদ্ভব হচ্ছে, প্রাথমিক ভাবে ব্রিকস দেশ গুলিই”, - বলেছেন পুতিন.