রাশিয়া থেকে যাওয়া প্রতিনিধি এই প্রথমবার বিশাল আন্তর্জাতিক কোরান পাঠের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে পেরেছে. বাহরিনে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় সেরা হাফিজের খেতাব পাওয়ার জন্য ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন. বিচারকদের মতে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে এক রুশ নাগরিককেই, যে উত্তর ককেশাসের দাগেস্তান রাজ্যের ১৪ বছরের ছেলে বিলিয়াল আবদুলহালিকভ.

রাশিয়ার মুফতির সভার কর্মী হজরত বৈশেভ, আমাদের সংবাদদাতাকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, কেন এত অল্প বয়সী ছেলেকে রাশিয়ার মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে এক মর্যাদাময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করতে ভরসা করে পাঠানো হয়েছে. তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা গুলিতে রুশ মুসলিমদের আয়োজন ও অংশগ্রহণের প্রশ্ন নিয়ে দেখাশোনা করে থাকেন, তিনি বলেছেন:

“বিলিয়াল সারা রাশিয়ার প্রতিযোগিতায় এর মধ্যেই বিজয়ী হয়েছিল, আর আমরা বাইরের দেশের প্রতিযোগিতায় শুধু তাদেরই পাঠিয়ে থাকি, যারা হয় রাশিয়ার ভিতরের প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়ার মতো জায়গা পেয়েছে, নয়তো যা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের মধ্যেই হয়ে থাকে, তাতে পুরস্কার পেয়েছে. তাছাড়া, বিলিয়াল আগে সৌদি আরব ও কুয়েইত দেশের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে. তবে এটা সত্য যে, সেখানে সে পুরস্কার পাওয়ার মতো জায়গা পায় নি, কিন্তু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছে. আর তার ফলেই বাহরিনে প্রথম স্থান নিতে পেরেছে. আমরা ওর জন্য খুবই খুশী”.

বিলিয়াল যে পুরস্কার পেয়েছে, তাতে শুধু মস্কো শহরের রাশিয়ার মুফতি সমাজেই আনন্দ করা হয় নি, বরং সবার আগে হয়েছে তার নিজের রাজ্য দাগেস্তানেই. এই রাজ্যের রাজধানী মাখাচকালা শহরের বিমান বন্দরে বিজয়ীকে স্বাগত জানাতে শুধু তার নিজের গ্রামের লোকরাই আসেন নি, বরং প্রশাসনের লোকরাও এসেছিলেন, ছিলেন এই রাজ্যের মুসলিম ধর্মীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও, তাছাড়া ঐস্লামিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলির শিক্ষকরা. আমাদের সংবাদদাতাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ধর্ম শাস্ত্র ইনস্টিটিউটের রেক্টর মাগোমেদ-জাগিত সাদিকভ বলেছেন:

“বিলিয়াল তার নিজের গ্রামেই কোরান পাঠ করতে শিখেছিল. তার শিক্ষকও সেই গ্রামের মানুষ. দাগেস্তান রাজ্যে বহু যুগ ধরেই ধর্ম পাঠের ব্যবস্থা ও কোরান শেখার ব্যবস্থা ছিল. বোধহয়, সেই কারণেই দাগেস্তানের লোকরা প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাচ্ছে”.

সেই পরীক্ষা, যা সম্মানের সঙ্গে বিলিয়াল পার হতে পেরেছে, তা ছিল খুবই কঠিন: পাঁচ দিন ধরে এই প্রতিযোগিতা হয়েছে. প্রথম দিন গুলিতে অংশগ্রহণকারীরা কোরানের বিষয়ে প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়েছে, আর তার পরে হেফজ করাতে অংশ নিয়েছে. এখানে সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিযোগী ছিল তিরিশ বছর বয়সের.

দাগেস্তানের লোকরা বলেছেন যে, ১৪ বছরের কোরান পাঠক বিলিয়াল এমন করে স্পষ্ট ও সুরেলা গলায় কোরান পড়ে, যা শুনলে যেন মনে হয় যে, হজরত মহম্মদের সঙ্গী ও প্রথম ঐস্লামিক ইতিহাসের মুয়াজ্জীন বিলাল নিজেই পাঠ করছেন. বর্ণনা অনুযায়ী তিনি এত সুন্দর কন্ঠস্বরের অধিকারী ছিলেন যে, লোকে তাঁর কোরান পাঠের জন্য আহ্বান বা কোরান পাঠ শুনলেই কেঁদে ফেলত.

দাগেস্তানের লোকরা ঠিক বা ভুল – এটা আপনারা নিজেরাই শুনে দেখতে পারেন, ১৪ বছরের বিলিয়াল আবদুলহালিকভ কি ভাবে পবিত্র আয়াত পাঠ করেছে:

0রাশিয়ার লোকের প্রথম সাফল্যের পরে দ্বিতীয় হতে পারে: এই দিন গুলিতে লিবিয়াতে, প্রথমবার দেশের প্রশাসন বদলের পরে কোরান পাঠের প্রতিযোগিতা হচ্ছে. রাশিয়াকে এখানেও দাগেস্তানের এক ব্যক্তি পেশ করছে – জিব্রাইল হাজিমোহামেদভ.