গুজরাটের প্রথম দফায় (শুরু হবে তেরই ডিসেম্বর থেকে) বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এই রাজ্য সর্ব ভারতীয় রাজনীতির ভারী রাজনীতিবিদদের তরফ থেকে প্রবল “কামান দাগানো” প্রচারের প্রস্তুতিতে আক্রান্ত হয়েছে. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমস্ত বৃহত্তম চরিত্ররাই এই রাজ্যে প্রচারের কাজে নেমেছেন. এটাতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই – কারণ এই রাজ্যের নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে একটা সর্বজনীন নির্বাচনের আগে শক্তি পরীক্ষার ভাগ্য নির্ধারক অধ্যায় হিসাবেই, যা ঠিক হয়ে রয়েছে আগামী ২০১৪ সালে.

গুজরাট রাজ্যের সংজ্ঞা বর্তমানের ভারতীয় রাজনীতির জন্য খুবই কঠিন হবে অতি মূল্যায়ণ করার. তা শুধু এই কারণেই নির্দিষ্ট করা হচ্ছে না যে, রাজ্য – মহাত্মা গান্ধীর জন্মস্থান বলে, আর এমনকি সেই সমস্ত অর্থনৈতিক সাফল্যের কারণেই নয় যা এই রাজ্য বিগত কয়েক বছরে লাভ করেছে. বরং সেই কারণেও যে, এই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল কি হবে ও রাজ্যের বর্তমানের মুখ্য মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি তাঁর নিজের পদে তৃতীয় বার থেকে যেতে পারবেন কি না. তার উপরেই অনেক খানি নির্ভর করছে সারা ভারত জুড়েই রাজনৈতিক শক্তির বিভাজন. নরেন্দ্র মোদী, বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির এক অন্যতম নেতা ও তাকে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের পরে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই দেখা হচ্ছে.

গত শুক্রবারে খুবই কড়া সমালোচনা করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোদীর কাজকর্ম নিয়ে নিন্দা বর্ষণ করেছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী. গুজরাট রাজ্যের সেই সমস্ত জায়গায়, যেখানে নানা প্রজাতির বসবাস, সেখানে তাঁর বক্তৃতার মূল কথাই হল যে, তিনি এই রাজ্যের প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্যকেই সন্দেহের চোখে দেখেন. সোনিয়া গান্ধী ঘোষণা করেছেন যে, প্রথমতঃ, এই সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রচুর পরিমানে সহায়তা পাওয়ার ফলে, আর দ্বিতীয়তঃ, এই রাজ্যের জনগনের মধ্যে অনেকেই রাজ্যে উত্পাদিত পণ্য ব্যবহারের সুযোগও পান না.

গুজরাট রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে রবিবারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ নিজেও যোগ দিয়েছেন. প্রধানমন্ত্রী আহ্বান করেছেন “রাজ্যকে বিভাজনের রাজনীতি থেকে রক্ষা করার ও নরেন্দ্র মোদী এবং তার প্রশাসনকে অভিযোগ করেছেন যে, তারা শুধু নিজেদের কাছের লোকদের জন্যই কাজ করছে ও সমাজের বহু সম্পূর্ণ সামাজিক গোষ্ঠীর স্বার্থকেই তাচ্ছিল্য করছে – প্রথমতঃ বিশেষ তালিকাভুক্ত বর্ণ ও প্রজাতির লোকের”.

মোদী নিজে উত্তর হিসাবে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বকে সেই কারণে দোষী সাব্যস্ত করেছেন যে, তারাই নিজেদের রাজনীতি আলাদা সামাজিক গোষ্ঠীকে সক্রিয় করার উদ্দেশ্য নিয়ে করছেন ও তারা রাজ্যের লোকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যা লঘু এই দুই ভোট ব্যাঙ্ক নীতি থেকে দেখছেন.

মোদী তাঁর মন্তব্যে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী জোর গলায় বলছেন যে, সংখ্যালঘু লোকরা গুজরাটে নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারেন না. খুবই দুঃখ ভরা হৃদয় নিয়ে, আমি তাঁকে ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হচ্ছি যে, গুজরাটে সংখ্যা গরিষ্ঠ ও সংখ্যা লঘু বলে মানুষকে ভাগ করা হয় না, আর রাজ্যের প্রশাসন কাজ করে রাজ্যের ছয় কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য”.

সোমবার থেকে এই রাজ্যে প্রচারের কাজে নামছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক ও দৃশ্যতই এই দলের আগামী লোকসভায় বিজয়ের পরের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী রাহুল গান্ধী. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কির মতে, “ক্ষমতাসীন দলের এত উচ্চ স্তরের নেতাদের অংশগ্রহণের ফলে রাজ্যের নির্বাচনে একটাই খালি বার্তা পড়তে পারা যাচ্ছে: নরেন্দ্র মোদীকে থামাও!” ভলখোনস্কি যোগ করেছেন:

“সম্ভবতঃ, এই বিতর্কিত রাজনীতিবিদের বিজয়ের সম্ভাবনা খুবই বেশী করে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতাদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে. আর তা শুধু তাদেরই নয়: এখানে মোটেও আচমকা বলে মনে করা ঠিক হবে না যে, গত সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে একসাথে মার্কিন কংগ্রেসের ২৫ জন সদস্য মন্তব্য করেছেন, যারা প্রশাসনকে মোদীর প্রতি মনোভাব না বদলাতেই আহ্বান করেছেন. মনে করিয়ে দিই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নরেন্দ্র মোদীকে এখনও ২০০২ সালের গুজরাটে মুসলমান ধ্বংস করার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয় ও এই ভিত্তিতে প্রশাসন তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিতেও অস্বীকার করেছে”.

বিগত সময়ে এমন একটা ইঙ্গিতের উদয় হয়েছে যে, পশ্চিম বুঝি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার কথা ভাবছে – যত না তার বর্তমানের পদাধিকারের জন্য, তার চেয়েও বেশী করে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বলেই. আর যদি পশ্চিমের প্রতিষ্ঠানরা তাদের রাগকে দয়াতে পরিণত করতে রাজী থাকেন স্রেফ রাজনৈতিক লাভের কারণে, তবে সেই ধরনের সম্ভাবনা ভারতের বর্তমানের প্রশাসনিক উচ্চ কোটির লোকদের জন্য মোটেও চলতে পারে না. এখান থেকেই ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এত প্রতিনিধিত্ব মূলক শক্তি বাহিনীর আবির্ভাব হয়েছে একটি আলাদা করে নেওয়া রাজ্যে.