২০১২ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান নিয়ে স্ক্যান্ডাল তৈরী হয়েছে. ইউরোপীয় সঙ্ঘ এই পুরস্কার পেয়েছে “ইউরোপের ঐক্য সাধন ও এক যুদ্ধের মহাদেশ থেকে শান্তির মহাদেশে পরিণত করার কাজের” জন্য. বিশেষজ্ঞরা এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তে চমকে উঠেছেন.

আলফ্রেড নোবেলের উইলে বলা হয়েছে যে, প্রতি বছরে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হবে তাকে, “যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পেরেছে জাতির ঐক্যের জন্য, দাসত্বের অবসানের জন্য, বর্তমানের সামরিক বাহিনীর সংখ্যা কম হওয়ার জন্য ও শান্তি চুক্তি করায় সাহায্যের জন্য”. এই সংজ্ঞা থেকে ইউরোপীয় সঙ্ঘকে এই পুরস্কারের উপযুক্ত মনে হয় নি. তা তৈরী হয়েছিল ছোট একদল দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য তৈরী “কয়লা ও ইস্পাতের জোট” থেকে, তা মোটেও সারা বিশ্ব জুড়ে শান্তির প্রয়াসে তৈরী করা হয় নি. আর সামরিক কাণ্ড কারখানা নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘের সদস্য দেশ গুলি খুবই সক্রিয়ভাবে তাতে অংশ নিচ্ছে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাশিয়ার “নাগরিক সমাজ” পরিষদের সভাপতি স্ভেতলানা গান্নুশকিনা বলেছেন:

“আমি একেবারেই অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে. আর এটা আমাদের চোখের সামনেই একাধিকবার হয়েছে – তা যেমন আফগানিস্তানে, তেমনই ইরাকে, লিবিয়াতে, যুগোস্লাভিয়াতে. তাই আমিও ইউরোপীয় সঙ্ঘকে শান্তির জন্য যোদ্ধা হিসাবে মানতে পারছি না. আমার ভয় হচ্ছে এবারে বিশ্বের মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের উর্দ্ধে পাত্তা দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থকেই”.

২০১২ সালের নোবেল পুরস্কার, যা অন্যান্য সব বিষয়ে সাফল্যের জন্য দেওয়া হয়েছে, তা বরং বিশেষজ্ঞরা বলছেন একেবারেই যুগান্তকারী ও ভবিষ্যতের দিকেই লক্ষ্য করে হয়েছে.পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও চিকিত্সায় গবেষণা গুলি শুধু তত্ত্ব গত ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তা বাস্তবায়ন করা হলে সেগুলি আমাদের জীবনকেই পাল্টে দিতে পারে. এই রকম পরিস্থিতিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার অদ্ভুত লেগেছে, আর মনে হয়েছে, তা যেন পিছিয়ে যাওয়াই হল. কিছুদিন আগের উদাহরণ – ২০০৯ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাকে দেওয়া হয়েছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁর একেবারেই “অভূতপূর্ব আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভাবে বিভিন্ন দেশের জনগনের মধ্যে সহযোগিতা মজবুত করার” জন্য. এই রকমের “অভূতপূর্ব শক্তি প্রয়োগের” ফল আমরা এখনই দেখতে পাচ্ছি, তার জন্য বিভিন্ন মহাদেশের দিকে তাকালেই যথেষ্ট হয়.