দামাস্কাসের উপকন্ঠে সরকার ও বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে. অন্য দিকে সিরীয়-তুরস্ক সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে.

সিরীয় সীমান্তে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তাব ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছে ন্যাটো. ন্যাটোর এ সিদ্ধান্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মস্কো সতর্ক করেছে.

দামাস্কাসের উপকন্ঠে শুক্রবার ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ তা এ সপ্তাহের সবচেয়ে উত্তেজনাকর দিনে পরিনত হয়েছে. দামাস্কাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বন্ধুকধারীরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিণত করেছে. দামাস্কাসের অনেক উপশহরের সরকারি স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রয়েছে. এদিকে বার্তাসংস্থা সানা জানিয়েছে, একটি স্কুলে বন্ধুকধারীদের হামলায় ২৯ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে. পশ্চিমা জোট বিরোধী দলের এ ঘটনায় কোন প্রতিক্রিয়া জানায় নি.

সামরিক হস্তক্ষেপকে সিরীয় সরকার ‘আসক্ততা’ বলে অভিহিত করেছে. গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যমে পাওয়া খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটন এ ধরণের হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত রয়েছে. জার্মান পত্রিকা ফ্রাংফ্রুটার রান্ডএসাউ মার্কিনী সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে জানায়, সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য পেন্টাগন সামরিক মহড়া শেষ করেছে. সিরীয় ভূখন্ডে বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সমন্বকারী হিসেবে কাজ করছে. এদিকে তুরস্কের আনতালিতে সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বিরোধী দলের নতুন অস্ত্রধারী দল গঠন করা হয়েছে এবং তা গঠনে সহায়তা করেছে পশ্চিমা জোট, তুরস্ক ওরাজতন্ত্র দ্বারা শাসিত আরব দেশগুলো.

আংকারার প্রস্তাবের পরই ন্যাটো যখনসিরীয় সীমান্তে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় তার পরই নতুন অস্ত্রধারী বিরোধী দল গঠন করা হয়েছে.

এদিকে গত সপ্তাহে তুরস্ক ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়.

আংকারায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমীর পুতিন ওতুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েব এরদোগানের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় এক সাংবাদিক পুতিনের কাছে জানতে চান, কেন রাশিয়া ন্যাটোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আসাদ যে তুরস্কের বিরুদ্ধে পারমানবিক হামলা চালাবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই. এর উত্তরে রুশ রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “আপনি কি ঠাট্টা করছেন?. সিরিয়ার কি পারমানবিক অস্ত্র আছে?.হয়ত এটি সঠিক অনুবাদ হয় নি. সিরিয়া পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র নয়. আরপ্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ে আমি যা বলতে চাই তা হল- সীমান্তে যা ঘটছে তা নিয়ে তুরস্কের মত আমরাও উদ্বিগ্ন. আমরা সিরিয়ার স্বার্বভৌম রক্ষাকারী নই. তবে ভবিষ্যতে কি হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত. কোন পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বে ভাল করে ভেবে দেখা উচিত যে এর ফলশ্রুতিতে কি ঘটতে পারে”.

তা সত্তেও সিরিয়ার সংকট রাজনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া ও জাতিসংঘ. গত সপ্তাহে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভের সাথে সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়. এ সময় উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন. চুড়ান্ত বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করে বলেন, যে কোন পদক্ষেপ তা অবশ্যই জেনেভা কনভেনশনের সাথে সংঘতিপূর্ণ থাকতে হবে. রাশিয়া শুরু থেকেই দুই পক্ষে মধ্যে আলোচনা শুরু করার কথা বলে আসছে, কিন্তু সিরিয়ার সংকট একটি রাজনৈতিক সংলাপের মধ্য দিয়ে সমঝোতায় উন্নীত হোক তা অনেকেও চায় না.