উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অবস্থিত সে দেশের নেতা কিম জং উনের বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় ভবনের সামনে অন্তত ১০০টি ভারী ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে. কোরিয়ার নেতাঅস্ত্রধারীদের হামলা অথবা জনসাধারণের আন্দোলনের আশংকা করছেন.

পিয়ংইয়ংয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ান পত্রিকা ‘চোসোন ইলবো’ এ সংবাদ জানিয়েছে.পত্রিকাটি আরও জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা নিজের নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা দেওয়ার জন্য সম্প্রতি আমলাদের নির্দেশ দিয়েছেন. যে কোন অনুষ্ঠানেকিম জং উনকে নিরাপত্তার জন্য তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেহরক্ষী ও ভারী সাঁজোয়া যান.

 

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরণের পদক্ষেপ কিম জং উনের প্রতি উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিবিদ ও সাধারণ জনসাধারনের ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে. দক্ষিণ কোরিয়ার সূত্র থেকে পাওয়া খবরে বলা হয়, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রনালয়কে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন.

তবে সেনাবাহিনীতে কিম জং উন হয়ত এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন না. তাছাড়া উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সোনাবাহিনীর রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে ভাইস মার্শাল চেখাভে খেইয়েকে নিয়োগ করা নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে. সেনাবাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তার সামরিক অভিজ্ঞতাই নয় বরং কোরিয়ার নেতা নিজের পরিচিত অঙ্গন থেকে সামরিক বিভাগে নিয়োগ দিচ্ছেন.

উত্তর কোরিয়ার সমাজে নিজের ভাবমূর্তি বাড়িয়ে তোলার জন্যই কিম জং উন অতি শিঘ্রই রকেট উৎক্ষেপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে ‘চোসোন ইলবো’ পত্রিকা. অন্যদিকে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ একে ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন. উৎক্ষেপন থেকে হয়ত আশানুরুপ ফলাফল পাওয়া যাবে না এবং তা কিম জং উনের জন্য ভয়ানকই হবে.

কিন্তু যদি রকেট উৎক্ষেপন সফল হয় তাহলে উত্তর কোরিয়ার জন্য অনেক সমস্যাই অপেক্ষা করছে. রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন রকেট উৎক্ষেপন না করার জন্য উত্তর কোরিয়ার নেতাকে অনুরোধ করেছে. রাশিয়ায় নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাময়িক দায়িত্ব পালন করা লি সোক পিইয়ে রকেট উৎক্ষেপনক করা হলে তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনকে ভঙ্গ করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেছেন, “রকেট উৎক্ষেপন করে উত্তর কোরিয়া মূলত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জন্য হুমকি তৈরী করবে. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনের শর্তাবলী অমান্য করে পিয়ংইয়ংয় এই সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে”.

 

দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনীতিক আরও উল্লেখ করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যদি রকেট উৎক্ষেপন করে থাকে তাহলে এই প্রশ্ন স্বভাবতই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা করা হবে.

উত্তর কোরিয়ার জন্য নিরাপত্তা পরিষদ কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তা এখনও বলা যাচ্ছে না, তবে রুশী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হয়তবা বাড়তি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে. যখন উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি মন্দার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে সেই মুহূর্তে বাড়তি নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতির পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলতে পারে.