বিশকেকে গত ৫ই ডিসেম্বর শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকে সংস্থার কর্মকান্ডের আর্থিক বুনিয়াদ গড়া হয়েছে. সংস্থাটির উন্নয়ন তহবিল ও বিকাশ ব্যাঙ্ক সম্পর্কিত দলিল স্বাক্ষর করেছেন সদস্য দেশগুলির প্রধানমন্ত্রীরা. বিশেষজ্ঞেরা বিশেষ করে উল্লেখ করছেনঃ সদস্য রাষ্ট্রগুলির এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা মজবুত করতে চাওয়া কাকতালীয় নয়. বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে.

এ বারে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল কির্গিজিয়ার রাজধানীতে. সংস্থার সদস্য দেশগুলির প্রধানমন্ত্রীরা আগামী ৪ বছরের জন্য সংস্থার কর্মকান্ডের পরিকল্পনার খসড়া স্বাক্ষর করেছেন. তাছাড়া ২০১৩ সালের জন্য সংস্থার বাজেট পাশ হয়েছে. বিশকেকে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী দমিত্রি মেদভেদেভ. মস্কো আশা করে, যে সদস্য দেশগুলি নিজস্ব চলমান ওয়ারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ার জন্য রুশী-চীনা প্রস্তাবে সাড়া দেবে. গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে আস্থাজনক আধুনিক পরিবহন চেন তৈরি করা, যার সুবাদে সময় ও অর্থব্যয়- দুটোই কমবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে. শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কর্মকান্ডের আরও একটা দিক হবে জ্বালানী ক্লাব. দমিত্রি মেদভেদেভের মতে, তা বিশ্বে জ্বালানী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে.

বিনা কারনে ইদানীং এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ওপর গভীর মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে না. বিশ্বে মন্দার আমলে এই এলাকা হচ্ছে স্থিতিশীলতার মরুদ্যান. তাই শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি তাদের কর্মকান্ডের সমন্বয় ঘটাচ্ছে. এই প্রসঙ্গে সংস্থার ব্যবসায়িক ক্লাবের ডিরেক্টর দেনিস তুরিন বলছেন ---

বিশ্বজুড়ে ব্যাপক অর্থনৈতিক সমস্যার প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চল, বিশেষতঃ চীন তীব্র উন্নয়নের হার প্রদর্শন করছে. সেজন্য রাশিয়া সহ ভূতপূর্ব সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সব দেশের চীনের সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর তীব্র আগ্রহ.

শুরু থেকেই শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার লক্ষ্য ছিল সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা. কিন্তু বিশ্বে পরিস্থিতি এমন ছিল, যে দীর্ঘকাল সেটা ছিল রাজনৈতিক মঞ্চ. অতঃপর পরিস্থিতি বদলেছে, বলছেন হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই মাসলভ. ---

গত ৩-৪ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক দিকটার দিকেই পাল্লা ঝুঁকেছে. শুল্ক করিডরের সম্প্রসারন, সম্মিলিত প্রকল্পাবলী নিয়ে কাজকর্ম. বড় প্রাপ্তি হল সম্মিলিত তহবিল গঠন ও বিশেষ বিশেষ এ্যাকাউন্ট খোলা. সত্যি বলতে কি, বর্তমানে সব মুখ্য প্রকল্পগুলির আর্থ-সাংগঠনিক বুনিয়াদ গড়া হচ্ছে.

শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার গোড়াপত্তন হয় ২০০১ সালে. রাশিয়া, চীন, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, কির্গিজিয়া ও তাজিকিস্তান এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত.