রাশিয়া “সিরিয়ার মিত্র গোষ্ঠীর” আরও একটি বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছে না, যা হতে চলেছে ১২ই ডিসেম্বর মরক্কোর রাজধানী মারাকেশ শহরে. আগামী বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “এই বিরোধের শুধু একটি পক্ষের প্রতি সমর্থন জানানো, তাকে কৃত্রিম ভাবে “আন্তর্জাতিক স্বীকৃতী” দিয়ে আইন সঙ্গত করার চেষ্টা বাস্তবে সিরিয়ার প্রশাসনকে বয়কট করার মাধ্যমে মোটেও এই সঙ্কটের সময়ে প্রধান কাজ – যে কোন ধরনের সামরিক সশস্ত্র হিংসা প্রয়োগকে বন্ধ করা ও প্রসারিত ভাবে আলোচনার শুরু করার জন্য কাজে সহায়তা করে না”.

এরই মধ্যে মরক্কোর পররাষ্ট্র ও সহযোগিতা মন্ত্রী সাদ আদ-দিন আল-ওসমানি মন্তব্য প্রকাশ করেছেন যে, “আগামী সাক্ষাত্কারে সিরিয়ার বিরোধী ও বৈপ্লবিক শক্তির জাতীয় জোটকে আন্তর্জাতিক সহায়তা দিয়ে পরবর্তী সময়ে মজবুত করার জন্য একটা সম্ভাবনা হতে চলেছে”.

এখানে একটা প্রশ্নের উদয় হয়: আসলে কাদের বন্ধু এই আগামী বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা - সিরিয়ার, নাকি তাও সেই সমস্ত লোকদের, যাদের শক্তিতে বিগত প্রায় দুই বছর সময় ধরে দেশ একটা সম্পূর্ণ যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে?

এখানে উত্তর এমনিতেই চলে আসে. তার ওপরে আবার সিরিয়ার জন্য তা ভাল কিছু মোটেও বলে না, - এই রকম মনে করে ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর উপ সভাপতি কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

“আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি বাশার আসাদের আইন সঙ্গত প্রশাসনের উপরে সমস্ত দিক থেকে কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে উত্খাত করে, তার জায়গায় একটা হাতের পুতুল মার্কা সরকার স্থাপনের প্রচেষ্টা. আর আমার এই বিষয়ে কোন সন্দেহই নেই যে, সেই সব সিরিয়ার এই নতুন জোটের লোকজন, যাদের আজ পশ্চিমের দেশ ও কিছু আরব দেশের পক্ষ থেকে সিরিয়ার জনগনের একমাত্র আইন সঙ্গত প্রতিনিধি বলে স্বীকার করা হচ্ছে, - এটা আসলে হাতের পুতুল মাত্র. অর্থাত্ এখানে কথা হচ্ছে সিরিয়ার বর্তমানের প্রশাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে অধিকারের প্রশ্নে একটা একঘরে করে রাখা ও দামাস্কাসের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় না রেখে বিশ্ব সমাজকে প্রস্তাব করা এই হাতের পুতুল জোটের সঙ্গে সিরিয়ার বিষয়ে আলোচনা করা. সিরিয়ার বিদ্রোহীদের স্বীকৃতী দেওয়ার একটা একেবারেই বাস্তব দিক রয়েছে, এটা বিদ্রোহীদের অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য করার জন্য একটা অধিকার দেয়. অর্থাত্ সিরিয়ার বিরোধে পশ্চিমের হস্তক্ষেপের পক্ষ নেয়”.

কিন্তু এমনকি যদি ঘটনা সত্যই এই চিত্রনাট্য অনুযায়ী চলতে থাকে, তবে পশ্চিমের পক্ষ থেকে আসাদকে ফেলে দেওয়া আসন্ন সময়ে সম্ভব হবে না. বিদ্রোহীরা আপাততঃ সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু দাঁড় করাতে পারছে না, আর মনে তো হয় না যে, এমনকি বহুল পরিমানে অস্ত্র সাহায্য, যা এমনিতেই এখন জঙ্গীদের হাতে বিশাল পরিমানে গিয়ে পৌঁছচ্ছে, তা একেবারে গোড়াতেই পরিস্থিতিকে বদলাতে সক্ষম হবে.

খুব সম্ভবতঃ, কিছু “মাথা গরম” লোক বেশী দেরী করতে চাইছে না. হঠাত্ করেই আমেরিকার সেনেট রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাকে সিরিয়া বিরোধে সামরিক অনুপ্রবেশের সম্ভাবনার কথা চিন্তা করতে বলে নি. পেন্টাগনের কাছে এই ধরনের পরিকল্পনা যে রয়েছে, তা অনেক বেশী সম্ভাবনা রয়েছে মনে করেই জোর দিয়ে বলা যেতে পারে. এখানে আপাততঃ সব কিছুই বেশী করে আমেরিকার নেতার উপরে নির্ভর করে রয়েছে, যিনি আপাততঃ অনুপ্রবেশের সম্ভাবনাকে বাতিল করে রেখেছেন. একই সঙ্গে, এমন কিছু হওয়া দরকার, যাতে তার অবস্থানকে একেবারেই আমূলে পরিবর্তন করতে পারে – এই রকম মনে করে জর্ডনের রাজনীতিবিদ সামিখ হ্রেস বলেছেন:

“এখানে চিন্তা করা দরকার যে, আগামী সিরিয়ার মিত্রদের বৈঠকের পরিনামে যে দলিল থাকবে, তা রাসায়নিক অস্ত্রের কথাই আগে তুলবে. এখানে, আমার মনে হয়েছে যে, আবার করেই ইরাকের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে, যখন আমেরিকার লোকরা ঘোষণা করেছিল যে, সাদ্দাম হুসেইনের কাছে গণহত্যার অস্ত্র রয়েছে, এই ছুতোর মাধ্যমে এই দেশে বোমা ফেলা হয়েছিল, আর পরে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, এই ধরনের আঘাতের অস্ত্র বাগদাদের কাছে ছিলই না. আর সিরিয়া নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল, তাতে কঠিন হবে না উল্লেখ করতে যে, এই রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যাপারটা বিগত কিছু দিন ধরেই প্রথম স্থানে রয়েছে. এখন এই ধরনের তথ্যের পারিপার্শ্বিক তৈরী করা হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য প্ররোচনা দেওয়া সম্ভব হয়. সিরিয়াতে আমেরিকার “ব্ল্যাক ওয়াটার” নামের সংস্থার ভাড়াটে সেনারা রয়েছে. আর আমি বাদ দিতে পারছি না, সেই সম্ভাবনাও যে, তাদের হাত দিয়েই রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়ে প্ররোচনা দেওয়া হবে, যাতে পরে এর সব দায়িত্ব সিরিয়ার সেনা বাহিনীর ঘাড়ে তুলে দেওয়া যায়. অর্থাত্ আমি আগেই যেমন বলেছি, “সিরিয়ার মিত্রদের” বৈঠকে সেই কমিউনিকে সমর্থন করা হবে, যাতে এই সব ক্ষেত্রে যে রকম করা হয়ে থাকে, সেই রকমের খুবই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হবে যে দামাস্কাস ইতিমধ্যেই রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে অথবা তা ব্যবহারের ভয় দেখাচ্ছে. এখানে বলার কি আর দরকার আছে যে, একটা বিষাক্ত পদার্থ সংক্রান্ত ঘটনার শুধু অপেক্ষা বিদেশী অনুপ্রবেশ শুরু করার জন্য. এই ধারণার স্বপক্ষে সেই বাস্তবই রয়েছে যে, কিছু দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্ডনের সেনা বাহিনীকে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের যুদ্ধে প্রশিক্ষণ নিতে আহ্বান করেছেন. তাছাড়া, আরও জানা গিয়েছে যে, জর্ডনের উত্তরে হাল্কা সাঁজোয়া গাড়ী আমেরিকা থেকে আনা হয়েছে. এবারে এই সব বাস্তব ঘটনাকে সাজিয়ে দেখা যাক: আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ঘোষণা, ট্যাঙ্ক, রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত কথাবার্তায় অতিরিক্ত আবেগ, সিরিয়াতে যুদ্ধের তেজ বেড়ে যাওয়া ও আগামী “সিরিয়ার মিত্রদের” বৈঠক. আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে এটা সেই ধারণাতেই পৌঁছে দেয় যে, শীঘ্রই বিদেশী অনুপ্রবেশ হতে চলেছে”.

অবশ্যই পরের এই সব ঘটনাকে হঠাত্ করে একসাথে হয়েছে বলেও চালানো যায়. কিন্তু এই সম্মেলনের জন্য এখনও এক সপ্তাহ বাকী রয়েছে. আর একেবারেই বাদ দেওয়া যায় না যে, এই সাত দিনের মধ্যেই সিরিয়াতে এমন কিছু ঘটে যেতে পারে, যা অনুপ্রবেশের জন্য একটা কারণ বলে দেখানো যাবে.