ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের প্রথম দল মস্কো এসে পৌঁছেছে রাশিয়ার সহকর্মীদের সঙ্গে রুশ ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মীয়মান পরিবহন বিমান এমটিএ নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য. স্ট্র্যাটেজি ও টেকনলজি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন মনে করেন যে, দুই দেশের পক্ষে খুব কম শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না যাতে মাঝারি পাল্লার পরিবহন বিমানের খুবই কড়া প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের জায়গা পাওয়া যায়.

রাশিয়াতে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের আসার মানে হল যে, বহু বছর ধরে হওয়া পরিবহনের বিমান নিয়ে আলোচনা অবশেষে একটা বাস্তব ফলে উপনীত করেছে. ভিত্তি মূলক চুক্তি, যা এই বিমান নির্মাণ নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে করা হয়েছিল, তা হয়েছিল ২০১০ সালে বহু দিন ধরে আলোচনার পরেই. ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে এর প্রথম দফার প্রকল্পের কাজের জন্য চুক্তি করা হয়েছিল. মাল্টিরোল ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্র্যাফ্ট বা বহুমুখী পরিবহন বিমান, সংক্ষেপে এমটিএ, দুই দেশেই ২০ টন অবধি ওজন বহনে সক্ষম আন – ১২ মার্কা বিমানের বদলে আসবে. তা একই সঙ্গে তৃতীয় দেশ গুলিতে রপ্তানীর জন্যও পাঠানো হবে, বিশেষ করে সেই সব দেশে যেখানে এখন সোভিয়েত দেশে নির্মিত আন – ১২ ব্যবহার করা হচ্ছে.

ভাসিলি কাশিনের মতে রপ্তানীর জন্য বিমান হিসাবে এমটিএ সরাসরি ভাবেই চিনের বর্তমানের এই জাতের পরিবহন বিমান Y-8C, যা আবার কিছুটা পরিবর্তন করে Y-9 নাম দিয়ে বাজারে আনা হচ্ছে আর আসলে যেটা সেই সোভিয়েত আন- ১২ বিমানেরই চিনাদের করা নকল মাত্র. এই বিমানের উত্পাদক – শাংখি এয়ারক্র্যাফ্ট ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন এর আগে তাদের পুরনো বিমানের নবীকরণ ও সারা পৃথিবী জুড়ে সক্রিয় ভাবে প্রসারের কথা ঘোষণা করেছে. এই গোষ্ঠী এখন প্রচুর বিনিয়োগ করছে উত্পাদনের কারখানা গুলিতে ও নিজেদের ডিজাইন ব্যুরোর সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে – অংশতঃ যথেষ্ট পুরনো এই বিমানের সমস্ত দলিল পত্রকে বর্তমানে ডিজিট্যাল ফর্মে তৈরী করেছে.

রাশিয়ার বর্তমানে নিজেদের এই বিশ্বের কুড়ি টন অবধি সবচেয়ে চালু ওজন বহনে সক্ষম সামরিক পরিবহন বিমান নির্মাণের কোন কারখানা নেই. ভারী সামরিক পরিবহন বিমান ইল – ৭৬, যে গুলি উলিয়ানভস্ক শহরে আবার করে তৈরী করা শুরু হতে চলেছে আর প্রচুর পরিমানে রাশিয়ার বিমান বাহিনীতে রয়েছে, তা ভীষণ দামী ও জটিল. এই ধরনের বিমান শুধু তুলনা মূলক ভাবে বড় দেশ গুলিই কিনতে পারে, যাদের সামরিক বাহিনীতে লোক সংখ্যা অনেক ও এলাকাও বিরাট.

এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশীর ভাগ উন্নতিশীল দেশের পক্ষে ইল- ৭৬ বা আমেরিকার কুড়ি টন অবধি ওজন নিতে সক্ষম সামরিক পরিবহন বিমান সি- ১৩০জে হয় খুবই দামী নয়তো রাজনৈতিক কারণেই কেনার অযোগ্য. এই দেশ গুলিতেই বহু পুরনো আন – ১২ এখনও কাজ করছে, তার মধ্যে প্রায় সব গুলিই আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পাল্টানোর দরকার পড়বে.

মনে করা হয়েছে যে এই এমটিএ বিমান কম করে হলেও ২০০০ কিলোমিটার দূরত্ব অবধি ২০ টন মাল নিয়ে উড়তে পারবে ও ৪৭০০ কিলোমিটার অবধি ১২ টন মাল পৌঁছে দিতে পারবে. বিমান এমনকি মাটির রানওয়ে থেকেও ওঠানামা করানো যাবে, তার ওপরে যে গুলি আবার সমুদ্র পৃষ্ঠের চেয়ে তিন হাজার মিটারের চেয়েও উঁচু পাহাড়ী জায়গায় রয়েছে এমন সব বিমান বন্দরেও এই বিমান নামতে পারবে. প্রয়োজনে তা আকাশেই জ্বালানী ভর্তি করা যাবে. এমটিএ বিমানের জন্য আধুনিক টারবাইন-ভেন্টিলেটর ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে.

২০১৯ সাল অবধি রাশিয়া ও ভারত পরিকল্পনা করেছে যে, এই বিমান নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৬০ কোটি ডলার খরচ করা হবে, দেখাই যাচ্ছে যে, বহু বছর ধরে দড়ি টেনে যাওয়ার পরে তারা এবারে দুই পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে এই প্রকল্পকে যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে. যাতে আন- ১২র বদলে মাঝারি পাল্লার পরিবহন বিমানের বাজার হাত ছাড়া না হয়ে যায়.