মস্কোর ‘মার্জানি’ প্রকাশনালয় ডি.লিট বেটসি শিদফার অনূদিত পবিত্র কোরানের অনুবাদ প্রকাশ করেছে. গোটা বিংশ শতাব্দী ধরেই সোভিয়েত ও রুশী বিজ্ঞানীরা বহুবার মুসলমানদের জন্য এই পবিত্র গ্রন্থের অনুবাদ করেছেন.

সর্বাপেক্ষা নিখুঁত অনুবাদ হিসাবে স্বীকৃত অ্যাকাডেমিক ইগনাতি ক্রাচকোভস্কির করা অনুবাদ, যা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিন তার মৃত্যুর পরে ১৯৬৩ সালে. দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের প্রাচ্যচর্চা স্কুলের প্রতিনিধি নুরি ওসমানভ কোরান অলুবাদের পেছনে ২০ বছর ব্যয় করেছিলেন. আয়াতের ছন্দে পবিত্র কোরানের অনুবাদ করারও চেষ্টা করা হয়েছিল.

কিন্তু রুশী ভাষায় তর্জমা করা প্রায় ১০টি গ্রন্থের মধ্যে বেটসি শিদফারের করা অনুবাদ ব্যতীক্রমী স্থান অধিকার করে. এ কথা বলছেন ‘রেডিও রাশিয়া’র সংবাদদাতাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে প্রফেসর আন্না দোলিনিনা. আমার মতে ব্যতীক্রম হল এখানেই, যে বেটসি শিদফার কোরানের আবেগের দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন. দোলিনিনা বলছেন, যে অন্যান্য সব অনুবাদকরা মুখ্যতঃ মাথায় রেখেছিলেন মর্মবস্তু, অর্থ, যা কোরানে ব্যক্ত করা হয়েছে, সেটাই তর্জমার মাধ্যমে প্রকাশ করার কথা. শৈল্পিক দিকটা তাদের অনুবাদে দ্বিতীয় সারিতে চলে গেছে. শিদফারের ভাষাতত্ত্বের উপর দখল খুব ভালো, ভাষার ও ইসলাম ধর্মের সারবস্তু সম্পর্কে গভীর জ্ঞান তার. তাছাড়াও তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছেন, যে কোরান হল সাহিত্যিক রচনা. হজরত মহম্মদ যখন কোরান পাঠ করতেন, তখন তাঁর ইচ্ছা ছিল, যাতে লোকে তাকে বোঝে মগজ খাটিয়ে ও উপলব্ধি করে হৃদয় দিয়ে শৈলীর মুন্সীয়ানা ও ছন্দের জোরে. অন্যান্য অনুবাদকদের তুলনায় শিদফার আমার মতে কোরানের এই বিশেষ দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন.

দুর্ভাগ্যক্রমে কোরানের এই অনুবাদটির ভাগ্য ভালো ছিল না. ১৯৯৩ সালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করার পরে কেবলমাত্র ২০০৩ সালে যা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে বেশ কিছু সুরায় ভুলভ্রান্তি ছিল.

নতুন প্রকাশনার মুখ্য সম্পাদক রেনাত বেক্কিন বড়সড় মাপের কাজ করেছেন ঐ ভুলভ্রান্তি শোধরানোর জন্য. তিনি বেটসি শিদফারের আপন ছেলেকে খুঁজে বের করেন, যে অনুবাদের আসল পান্ডুলিপির খসড়া ও নথিপত্র তাকে দেয়. সেগুলোর মাধ্যমেই অনুবাদের নির্ভুল বয়ান উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে.

রাশিয়ার মুফতি পরিষদ ও ইউরোপীয় অংশের মুসলিমদের আধ্যাত্মিক পরিচালন সমিতি এই অনুবাদ অনুমোদন করেছে.

পাঠ করো! এই কথা দিয়ে পবিত্র কোরান প্রেরিত বার্তা শুরু হয়েছিল. মুসলমানদের সহ যে কোনো রুশভাষীর কাছে অতঃপর ‘মির্জানি’ প্রকাশনালয়ের দৌলতে আরও একবার এবং কিছুটা ব্যতিক্রমী কোরান পাঠ করার সুযোগ এসেছে.