সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগিতা করার জন্য রাশিয়ার মন্ত্রীসভার প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ সহকর্মীদের আহ্বান করেছেন. এই ঘোষণা তিনি করেছেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মন্ত্রীসভা গুলির প্রধানদের কিরগিজিয়ার রাজধানী বিশকেক শহরের বৈঠকে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যে, সদস্য দেশ গুলির কাজকর্মের বিষয়ে যোগাযোগের বিষয়টি আরও ভাল করা দরকার, তার মধ্যে অর্থনৈতিক নীতির ব্যাপারেও.

বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের মতই সহজ নয় এমন অবস্থায় রয়েছে, কিন্তু সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির পক্ষে এর সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সঙ্কট মুহূর্ত গুলির মোকাবিলা করা সম্ভবপর হয়েছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির জন্য প্রধান কাজ হবে অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে শক্তিকে একজোট করা ও সহমতে কাজ করা. এই বিষয়ে বিশকেক শহরে রাশিয়ার মন্ত্রীসভার প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

“আমরা আশা করব যে, সহকর্মী দেশ গুলির কাছে আগ্রহের বিষয় হবে রাশিয়া ও চিনের প্রস্তাবিত চলমান ব্যক্তিগত উপগ্রহ মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা সৃষ্টি. এর ব্যবহারের ফলে মোবাইল টেলিফোন যোগাযোগের ব্যাপারে যেমন বাড়তি সম্ভাবনা যোগ হবে, তেমনই দূর থেকে শিক্ষা ও চিকিত্সা সংক্রান্ত কাজকর্মের ও সুবিধা হবে. এখানে গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে আধুনিক ভরসাযোগ্য ও শৃঙ্খলা বদ্ধ পরিবহন ব্যবস্থা তৈরী করা, যা আমাদের দেশ গুলির মধ্যে মাল পরিবহনের ক্ষেত্রে সময় কমাতে সাহায্য করবে. খুবই ভাল রকমের প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় আরামদায়ক পরিস্থিতি তৈরী করা নিয়ে চুক্তি. আমরা তারই সঙ্গে সক্রিয় ভাবে সাহাই সহযোগিতা সংস্থার পরিসরে জ্বালানী ক্লাবের সমর্থক, যা প্রশাসন, বৈজ্ঞানিক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর জন্য একটি ফলপ্রসূ মঞ্চ হওয়া উচিত্. এই কাজ সকলের জন্যই, যা বিশ্বে জ্বালানী শক্তি নিরাপত্তার বিষয়ে সুবিধা করে দিতে পারে”.

এছাড়া রাশিয়া সহকর্মীদের কাছে প্রস্তাব করেছে সেই ধারণাকে বাস্তবায়ন করতে, যা রাশিয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার সভাপতিত্বের সময়ে তৈরী করেছিল. এখানে কথা হচ্ছে রাশিয়ার ট্রানজিট ক্ষমতাকে ব্যবহার করা, আর তারই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিকে নিরবছিন্ন পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা.

অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার জন্য কথা বলেছেন চিনের রাষ্ট্র সভার প্রধান ভেন ঝিয়াবাও. তাঁর কথামতো যৌথ প্রকল্প ও কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি করা দরকার, আর তারই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির সংস্থান গুলির জন্য ঋণ ও বিনিয়োগের ব্যবস্থাও করা দরকার. একটি প্রধান কাজ হিসাবে তিনি খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সকলে মিলে কাজ করাকে একটি প্রাথমিক কাজ বলেছেন এবং যোগ করেছেন:

“সহযোগিতা খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সক্রিয় ভাবে করা দরকার. বিশ্বের দানাশষ্যের বাজারে যোগ সাজশের ব্যাপারটা একটি প্রধান কারণ যা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ও এমনকি সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও নষ্ট করে, তাই এটা বাড়তি মনোযোগের বিষয় হওয়ার দাবী করে. চিনের পক্ষ থেকে কাজাখস্থানের সহকর্মীদের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়ে সহযোগিতার বিষয়ে ব্যবস্থা তৈরী করার উদ্যোগকে সমর্থন করা হয়েছে”.

কিন্তু এই সকল কাজের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না, যদি না আর্থিক ভাবে সমর্থন করা হয়. বিশকেক শহরের মন্ত্রীসভার প্রধানদের বর্তমানের অধিবেশনে একটি দলিলে স্বাক্ষর করা হয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার উন্নয়নের তহবিল (বিশেষ অ্যাকাউন্ট) সৃষ্টি করা নিয়ে ও এই সংস্থার উন্নয়ন ব্যাঙ্ক তৈরী করা নিয়ে. এই গুলির লক্ষ্যই হবে সংস্থায় অংশগ্রহণকারী দেশ গুলির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও অর্থবহ প্রকল্প গুলিকে আর্থিক ভাবে সহায়তা করে বাস্তবায়ন করা.

২০০১ সালে তৈরী হওয়া এই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলি হল, রাশিয়া, চিন, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান. পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা পেয়েছে ইরান, পাকিস্তান, ভারত, মঙ্গোলিয়া ও আফগানিস্তান.