আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি সাময়িক ভাবে ভারতের জাতীয় অলিম্পিক কমিটিকে সাসপেণ্ড করেছে নিজেদের সংস্থার তালিকা থেকে. এই ধরনের সিদ্ধান্তের কারণ হয়েছে ভারতীয় প্রশাসনের জাতীয় অলিম্পিক কমিটির কাজকর্মে নারক গলানো. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

ভারতের খেলোয়াড়রা নিজেদের দেশের পতাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির পরিচালিত কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না, তার মধ্যে অলিম্পিকের খেলাও রয়েছে. যদি এই সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে তাদের আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির পতাকা নিয়েই প্রতিযোগিতায় নামকে হবে. তাছাড়া ভারতের জাতীয় অলিম্পিক কমিটি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তরফ থেকে আর্থিক সহায়তাও আর পাবে না ও ভারতীয় কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আয়োজিত কোনও প্রতিযোগিতাতেও যেতে পারবেন না.

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির খবরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় অলিম্পিক কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়াতে হস্তক্ষেপ করার জন্য. আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি একাধিকবার ভারত সরকারকে সমালোচনা করেছে জাতীয় অলিম্পিক কমিটির কার্যকরী কমিটির সদস্য সুরেশ কালমাদীকে গ্রেপ্তারের কারণে, যিনি ২০১০ সালের দিল্লী কমনওয়েলথ গেমসের দায়িত্বে ছিলেন. ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে কালমাদী দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, কিন্তু ২০১২ সালের জানুয়ারী মাসে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল. কালমাদী ভারতের জাতীয় অলিম্পিক কমিটির সভাপতির পদের জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, কিন্তু সরকার এই দুর্নীতির অভিযোগে চিহ্নিত হওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে.

সেই নভেম্বর মাসের শেষে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এক সরকারি চিঠি পাঠিয়েছিল, যাতে খুবই গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় অলিম্পিক কমিটির আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য. অংশতঃ, এখানে মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছিল যে, নির্বাচন সেই সব নিয়ম মেনে করা হচ্ছে, যা সরকার ঠিক করে দিয়েছে, জাতীয় অলিম্পিক কমিটির নিয়ম মেনে নয় আর তা অলিম্পিকের সনদ মেনে করা হচ্ছে না. লুসানের সদর দপ্তর থেকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি উল্লেখ করেছে যে, ভারতের জাতীয় অলিম্পিক কমিটি অংশতঃ, এমনকি নির্বাচনও করতে পারবে না, যতদিন পর্যন্ত অসমাধিত প্রশ্নাবলী রয়ে গিয়েছে.

এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির পক্ষ থেকে এই ধরনের নিয়ম ভঙ্গের জন্য কুয়েতের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল, কিন্তু তা নেওয়া হয় নি, কারণ সেই দেশের প্রশাসন সময় মতো জাতীয় আইনে সংশোধন করতে পেরেছিল, যা এই ধরনের বিরোধের অবসান করতে সাহায্য করেছিল.

ভারতের ক্ষেত্রে বিরোধ এখন তীক্ষ্ণ হয়েছে. রাশিয়ার রাজনীতিবিদ সের্গেই মারকভ এই বিরোধের মধ্যে আর্থিক কারণই দেখতে পেয়েছেন, তিনি বলেছেন:

“বলা যেতে পারে যে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ও ভারত সরকারের মধ্যে বিরোধ – এটা এক দিকে আন্তর্জাতিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলির মধ্যে এক খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সঙ্গে অন্যদিকে ভারত সরকারের মত এক খুবই গণতান্ত্রিক সরকারের বিরোধ বলে. এটা বিশাল রাজনৈতিক রসদের জন্যই করা হচ্ছে, যার উপরে নিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েক হাজার কোটি ডলারের উপরে নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যাপার. এটা কি ভাবে শেষ হবে, তা বলা কঠিন. কিন্তু আমি মনে করি যে, শেষ অবধি একটা বোঝাপড়ার মাধ্যমেই শেষ হবে”.

এখানে মনে করা যেতে পারে ভারতের পক্ষ থেকে লন্ডন অলিম্পিক বয়কটের জন্য আহ্বানকেও. যা করা হয়েছিল ভারতের মধ্য প্রদেশ রাজ্যে ১৯৮৪ সালে ঘটা ইউনিয়ন কারবাইডের কারখানার বিপর্যয়ের ফলে বহু সহস্র মানুষের মৃত্যু সংক্রান্ত মামলায় মার্কিন আধিকারিক সংস্থা ডো কেমিক্যালসের ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করার প্রতিবাদে. এই কর্পোরেশন লন্ডন অলিম্পিকের এক স্পনসর হওয়াতে ভারতের পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছিল যে, খুনীদের অলিম্পিকের মতো পবিত্র বিষয়ে হাত দিতে দেওয়া হয়েছে. তখন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এটা না করে ভারতকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিল ও তার ফলে, সেই সময়ে বহু আর্থিক বিরোধ প্রকট হয়ে পড়েছিল ভারত সরকার ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির মধ্যে. এটাকেই মনে করা যেতে পারে বর্তমানের আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া এই ধরনের সিদ্ধান্তের একটা কারণ.