যখন পরিচালক ও প্রযোজকেরা কি দেখিয়ে বোদ্ধা দর্শকদের চমকে দেওয়া যায়, কোন বিষয়বস্তু ও নতুন প্রযুক্তি দিয়ে তাদের মনযোগ আকৃষ্ট করা যায় – তাই নিয়ে ভাবনাচিন্তায় মগ্ন, সেইসময়ে বহু রুশবাসী পুরোনো সোভিয়েত ফিল্মই বেশি পছন্দ করে. সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও লাগামছাড়া গতির যুগে আমাদের হার্দিক উষ্ণতা, রোমান্টিকতা ও আন্তরিকতার বড় অভাব. তাই দর্শকরা ক্রমশঃই বেশি করে অতীতে তোলা সোভিয়েত ফিল্মের দিকে ঝুঁকছে. উপরন্তু রুশ দর্শকরা সোভিয়েত চলচ্চিত্রের অভিনেতাদের ভালোবাসে, তাদের অভিনয়ের মুন্সীয়ানাকে আজকের দিনের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বলিষ্ঠ বলে ধরে.

বহু রুশবাসী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বিদেশী চলচ্চিত্র সম্পর্কেও একই মত. বিরক্ত করে দেওয়া আমেরিকান মারামারির ও হাসির ফিল্মের তুলনায় তাদের পছন্দসই পুরনো ফরাসি ফিল্মগুলো. তবে হ্যাঁ, এ কথা প্রযোজ্য মধ্যবয়সী ও বেশি বয়সের লোকজনের সম্পর্কেই. যুবক-যুবতীদের পছন্দ অবশ্য অন্যরকমের. তারা পুরনো ফিল্ম পছন্দ করে না. প্রথমতঃ, ফিল্মগুলির সরলতার জন্য, দ্বিতীয়তঃ, তাদের প্রযুক্তিগত কলাকৌশল সাদাসিধে হওয়ার জন্য. যুব সম্প্রদায় যে হাই টেকনোলজি ও ডাইমেনশনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে. যুব সম্প্রদায় মুলতঃ দ্যাখে মারামারির কল্পকাহিনী, গোয়েন্দা ফিল্ম ও কমেডি পিকচার.

বর্তমানে রাশিয়ার শহরে শহরে অসংখ্য মাল্টিপ্লেক্স সেন্টার গজিয়ে উঠছে. প্রায়ই সেগুলি খোলা হয় বড় বড় শপিং মলে, যা খুবই সুবিধাজনক. প্রথমে সব শো-রুমে ঘোরাঘুরি, তারপরে কিছু খাওয়া, আর সবার শেষে ফিল্ম দেখতে ঢোকা. এভাবেই অনেক রুশবাসী অবসর সময় কাটায়.

রাশিয়ায় বিদেশের ঢংয়েই ফিল্ম রিলিজ করে. এটা মুলতঃ হলিউডের মারামারির বই, ফ্যান্টাসি ও রোমান্টিক কমেডি. এর প্রেক্ষাপটে বহুবছর পরে রুশবাসীদের স্বদেশীয় চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির ঘটনা আনন্দদায়ক না হয়ে পারে না. ফিল্মের উত্কর্ষতা বাড়ায় ও আগ্রহোদ্দীপক থিমের সংখ্যা বাড়ার ফলেই এটা ঘটছে. তদুপরি সাম্প্রতিককালে রাশিয়ায় নতুন প্রজন্মের বেশ কিছু প্রতিভাবান চলচ্চিত্রশিল্পীর উদয় হয়েছে.

রাশিয়ার চলচ্চিত্রশিল্পে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিষয়ে ফিল্মের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে. বিশেষতঃ কোনো কোনো সাহসী চিত্রপরিচালক যুদ্ধ বিষয়ক ফিল্ম নিয়ে নিরীক্ষা করছেন. যেমন কয়েক বছর আগে মুক্তি পেয়েছে ‘উই আর ফ্রম ফিউচার’ নামক ফ্যান্টাসি ফিল্ম. ঐ ফিল্মে যুবক-যুবতীরা একবিংশ শতাব্দী থেকে সরাসরি গতশতকের ৪০-এর দশকে গিয়ে হাজির হয়েছে. ঐ যুদ্ধ দেখানো হয়েছে এই প্রজন্মের যুবসম্প্রদায়ের চোখ দিয়ে, যারা ঐ যুদ্ধের ভয়াবহতার কাহিনী শুধু গল্পেই শুনেছে. উপরোক্ত ফিল্মটি বক্স-অফিসের আগেকার সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে. তার পরে পরেই ঐ ধরনের আরও কয়েকটি ফিল্ম মুক্তি পায় ও তারাও দর্শকদের খুশি করেছে.

রাশিয়ান ফিল্মের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় আমরা যারপরনাই খুশি. কারন সোভিয়েত ইউনিয়ন বহুভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পরে আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পে নেমে এসেছিল দৈন্যদশা. অতঃপর টিভি ও সিনেমা হলের পর্দায় আবার নতুন করে উঁচুমানের, গভীরতাসমৃদ্ধ ও স্থানীয় দর্শকদের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর মতো অনেক ফিল্ম মুক্তি পাচ্ছে.