রাশিয়া ও চিন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকস সংস্থার ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা নিয়ে আর্থ- বাণিজ্য বিষয়ে ভিত্তি তৈরীর কাজকর্ম ত্বরাণ্বিত করতে আহ্বান করেছে. এই প্রকল্প গুলি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির মন্ত্রীসভার প্রধানদের বিশকেক শহরে ৫ই ডিসেম্বরের আলোচনা সভায় ও প্রিটোরিয়া শহরে মার্চ মাসের সভায় প্রাথমিক আলোচ্যের তালিকায় রয়েছে.

এই সাক্ষাত্কারের আগে, বিশকেক শহরে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ ঘোষণা করেছেন যে, এই দুটি ব্যাঙ্কের অংশীদার দেশ গুলির পরিকাঠামোতে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হওয়া উচিত. রাশিয়া ও চিন ছাড়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য মধ্য এশিয়া চারটি দেশে, আর ব্রিকস সংস্থায় – ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা. যদি বিনিয়োগের জন্য অর্থ পাওয়া যায়, তবে দুটি ব্যাঙ্ক সৃষ্টির কাজই বাকী থাকবে শুধু বাস্তবায়নের পর্যায়ে, এটাই আন্তন সিলুয়ানভ বুঝতে দিয়েছেন.

চিনের অর্থ মন্ত্রী সে সুইঝেন তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন. মস্কো শহরে গত কালের সাক্ষাত্কারের নেপথ্যে থাকা উত্সরা বুঝতে দিয়েছেন যে, রাশিয়া ও চিন দুটি প্রকল্পেই চালিকা শক্তির কাজ করবে. তাদের জন্য অর্থ খুঁজে বের করা সমস্যা নয়, বরং তা সফল ভাবে বিনিয়োগের বিষয়ে ভিত্তি তৈরী করাই বর্তমানে রয়েছে. অংশতঃ, মস্কো ও বেজিং ঠিক করেছে এক হাজার ও সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও ইউরো এলাকার জন্য বিনিয়োগে তৈরী, যদি ইউরোপের সহকর্মীরা এই পাওয়া অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহারের কাঠামো সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়. আর এই ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চিন, দেখাই যাচ্ছে যে, যেমন বিশকেক শহরে পরিস্কার করে বুঝতে চায়, তেমনই প্রিটোরিয়া শহরে তাদের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের সহকর্মীদের কাছ থেকে বুঝে নিতে চায়, তারা কিভাবে ঋণ নেবে ও তা খরচ করবে.

এই প্রকল্প গুলি খুবই লাভজনক, তার মধ্যে এমনকি ভূ- রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও, কারণ তা তৈরী হবে একে অপরের সঙ্গে বিনিময়ের ক্ষেত্রে একেবারেই শুধু জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার করে. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক একাডেমীর বিশেষজ্ঞ বরিস শ্মেলেভ, তিনি বলেছেন:

“এই সব দেশের অর্থনীতি যথেষ্ট বড়, তাদের উন্নতির ক্ষমতাও শক্তিশালী. এর ফলে জাতীয় মুদ্রার ভিত্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনাই বৃদ্ধি পাবে. জাতীয় মুদ্রা গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের এককে পরিণত করা হলে এই দেশ গুলির মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমানও বাড়বে অনেক গুণে, তাদের বিশ্ব অর্থনীতিতেই অবস্থান অনেক বদলে যাবে, আর তার অর্থ হল বিশ্ব রাজনীতিতেও”.

দুটি ব্যাঙ্ক প্রকল্পই তৈরী করা হচ্ছে বিশ্বে সম্ভাব্য বিনিময় মুদ্রা সংক্রান্ত সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে. আর সেটা খুবই বাস্তব সম্ভব, কারণ ডলার ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বিদেশী মুদ্রা নিয়ে যুদ্ধ আহ্বান করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সিস্টেম নভেম্বর মাস থেকেই ডলারের জোগান বজায় রাখার জন্য ছাপা খানার কলের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে. প্রত্যেক মাসেই বাজারে ছাড়া হচ্ছে চার হাজার কোটি “ফাঁকা” ডলার, যাতে আমেরিকার অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়. সস্তা ডলারের বৃষ্টি বিনিয়োগের জন্য জায়গা রয়েছে এমন সব তৈরী হতে চলা বাজারে প্লাবন সৃষ্টি করেছে. তার মধ্যে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকস গোষ্ঠীর বেশ কিছু দেশের বাজারও রয়েছে. বিশেষজ্ঞরা হিসাব করেছেন – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তোলা বিদেশী মুদ্রার মহা প্লাবনে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই স্থানীয় মুদ্রা গুলি প্রায় বিশ শতাংশ দামী হয়ে যাবে. আর এটা – একটা ভারত, রাশিয়া, কাজাখস্থান ও চিনের মত বিশ্বের নেতৃস্থানীয় রপ্তানীকারক দেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল আঘাত. নতুন ব্যাঙ্ক এই সংস্থা ও গোষ্ঠীর দেশ গুলির জন্য একটা বর্মের কাজ করতে পারে, যা নতুন করে বিদেশী মুদ্রার যুদ্ধের ঘা সামলাতে সক্ষম হবে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের উপাচার্য লেভ লিউবিমভ বলেছেন:

“আরও কয়েক বছর সম্ভবতঃ দশ বছরের বেশী নয়, চিন বিশ্বের প্রথম অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে. তার পরে থাকবে ভারত. কিন্তু তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন এই বল নাচের আসর চালাবে? ব্রিকস দেশ গুলি বর্তমানে সক্ষম নিজেদের কিছু নীতি, যা তাদের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত, তা চালু করতেই পারে, যার ফলে তারা ডলারের প্রয়োজন ছাড়াই চলতে পারবে. এখন এটাই শুরু হতে চলেছে”.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বিশ্বের গড় বার্ষিক উত্পাদনের শতকরা পনেরো ভাগ উত্পাদন করে থাকে, ব্রিকস গোষ্ঠীর ভাগ পড়ে শতকরা কুড়ি ভাগ. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অঞ্চলে থাকে বিশ্বের শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ ও ব্রিকস এলাকায় শতকরা চল্লিশ ভাগ. তারা যদি দুটি নতুন আর্থ বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক তৈরী করে, তবে বিশ্বের আর্থ বিনিয়োগ প্রবাহের ধারা বদল হয়ে যাবে. আর এই এলাকা থেকে ডলারকে ঠেলে বার করে দেওয়ার ফলে এমন একটা জায়গা তৈরী হবে, যেখানে নতুন বিদেশী মুদ্রা যুদ্ধের ভয় থাকবে না.