বিখ্যাত পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ ও পারমানবিক বিজ্ঞানী (যিনি চুরি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগ সাজশে এই প্রযুক্তি পাকিস্তানে নিয়ে এসেছিলেন), আবদেল কাদের খান নিজের এক রাজনৈতিক দল তেহরিক এ তহফ্ফুজ পাকিস্তান (পাকিস্তান রক্ষা আন্দোলন) নথিভুক্ত করেছেন. এখন এই দলের থেকে প্রার্থীরা আগামী বছরের বসন্তে পাকিস্তানের সর্বজনীন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে. মঙ্গলবারে আবদেল কাদের খান ঘোষণা করেছেন যে, তিনি নিজে এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাবেন না, কিন্তু নিজের প্রবল খ্যাতি দলের লোকদের জয়ের জন্য ব্যবহার করবেন. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার এক বিশেষজ্ঞ ও রুশ স্ট্র্যাটেজি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মী বরিস ভলখোনস্কি তার মত ব্যক্ত করে বলেছেন:

“আবদেল কাদের খানকে পাকিস্তানে পারমানবিক বোমার জনক বলে মনে করা হয়, তিনি নিজের দেশে এক জাতীয় বীর ও পাকিস্তানের ত্রাণকর্তা বলে পরিচিত (মহসিন এ পাকিস্তান). পাকিস্তানের বাইরে তাকে সকলেই অন্য চোখে দেখে থাকে, তিনি নিজে শুধু ২০০৪ সালে স্বীকার করেন নি যে, পারমানবিক বোমার প্রযুক্তি তিনিই ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে দিতে চেয়েছিলেন, বরং আরও এই কারণে যে, তার জন্যই পাকিস্তান অশান্ত ঐস্লামিক দুনিয়ার একমাত্র দেশ, যাদের হাতে এই মারণাস্ত্র রয়েছে. কাদের খান অবশ্য পরে নিজের স্বীকারোক্তি অস্বীকার করে বলেছেন যে, পারভেজ মুশারফ নাকি তাকে দিয়ে জোর করে এই কথা বলিয়েছেন, কারণ ইরানের কাছে পারমানবিক অস্ত্র থাকতে পারে বলে মার্কিন ধারণার প্রসার করানোর জন্য. যাই হোক, পাকিস্তানে বর্তমানে যখন মার্কিন বিরোধী মনোভাব খুবই বেড়েছে, তখনই প্রাক্তন এই মার্কিন অনুগামী নিজের দলের উপস্থিতির কথা প্রচার করেছেন, তার প্রসঙ্গে লোকে কথা বলতেও শুরু করেছে আরও বেশী করেই”.

নিজের দল আবদেল কাদের খান এই বছরের শুরুতেই তৈরী করেছিলেন. অনেক পর্যবেক্ষকই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এই তেহরিক এ তহফ্ফুজ পাকিস্তান দল কতটা বাস্তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে তা নিয়ে. এখন প্রধান প্রশ্ন এই নয় যে, এই দল থেকে কত জন সদস্য দেশের লোকসভায় যেতে পারবে, বরং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নির্বাচন সম্ভাবনায় তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে. তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই ধরনের দল, তারই সঙ্গে দেশের আরও একটি জনপ্রিয় প্রাক্তন ক্রিকেট খেলোয়াড় ইমরান খানের দল তেহরিক এ ইনসাফ বা ন্যায়ের দল পাকিস্তানে উদয় হয়েছে. এই তো কয়েক মাস আগেই রাজনীতিবিদরা বলছিলেন এই দলের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নিয়ে. কারণ বাস্তবে দুই প্রধান দল বর্তমানের পিপলস্ পার্টি ও বিরোধী মুসলিম লীগ বিগত বছর গুলিতে জনগনের চোখে অনেক নীচে নেমেছে, তাদের দুর্নীতির জন্যই, আর দেশে একটা “তৃতীয় শক্তির” প্রয়োজন পড়েছে, যারা আজকের পাকিস্তানের এই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে দেশকে একটা স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মর্যাদা পেতে সাহায্য করবে, যা পাকিস্তানের আজও নেই, কারণ তাদের সব সময়েই আমেরিকার দিকে হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, আর তাদেরই কথামতো চলতে হচ্ছে.

কিন্তু মনে হয় যে, ইমরান খান তার মতো লোকের যখন উচিত্ ছিল, তার থেকে অনেক আগেই রাজনীতির বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন, তাই তার দলও জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছে. তার দলের একটা নির্দিষ্ট নেতিবাচক পরিকল্পনা রয়েছে – যা সকলেই জানেন, তিনি কিসের বিরুদ্ধে কথা বলছেন: দুর্নীতি ও ব্যুরোক্র্যাসীর বিরুদ্ধে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ অনুসরণ করার বিরুদ্ধে ইত্যাদি. কিন্তু ইতিবাচক পরিকল্পনা খুব কমই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, আর শুধু জনপ্রিয় স্লোগান দিয়েই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে বসে থাকা যায় না. আর এবারে আবার নতুন দলের আবির্ভাব হয়েছে, বাস্তবে, তাদেরও একই রাস্তা ধরতে হয়েছে”.

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, যদিও আবদেল কাদের খান বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একজোট হতে আহ্বান করেছেন(মুখ্যতঃ, দক্ষিণের গোষ্ঠীর থেকেই) আর এমনকি জামাত- এ – ইসলামি দলের সঙ্গেও আঁতাতের চেষ্টা করছেন, তবুও ইমরান খানের দলের সঙ্গে কোন গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের বিষয়ে এখনও শুনতে পাওয়া যায় নি.

আর এখানেই প্রশ্নের উদয় হয়: নতুন আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য কি? আবদেল কাদের খান কি সত্যই দেশের ক্ষমতার ব্যবস্থা আমূলে বদল করতে চান? নাকি তিনি বিরোধী পক্ষের ভোট কেড়ে বর্তমানের প্রধান দুই দলের অস্পৃশ্যতাকেই বজায় রাখতে চান? মুসলিম লীগ ও পিপলস্ পার্টির ক্ষমতা বজায় রাখার জন্যই তিনি আসেন নি তো? এই প্রশ্নের উত্তরও শীঘ্রই পাওয়া যাবে – নির্বাচন মার্চ মাসে হতে চলেছে, আর, সম্ভবতঃ, আগামী বছরের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, কার বিরুদ্ধে তেহরিক এ তহফ্ফুজ দল ও তার নেতারা বক্তৃতা দিচ্ছেন. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞও এই রকমই মনে করেছেন.