রাশিয়ার রাজধানী আরও বেশী করেই পর্যটকদের জন্য বিশ্বের এক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে. মস্কো শহরে ডিসেম্বর মাসেই প্রথম ডিসকাউন্ট কার্ড বিক্রী করা শুরু হবে রুশ ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য. নাম দেওয়া হয়েছে মস্কো পাস. এই কার্ড অনেক জাদুঘর, প্রদর্শনী, শহরে নানা এক্সকারশন ও মস্কো নদীতে ক্রুইজ করার জন্য ব্যবহার করা যাবে, তার সঙ্গে শহরের ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও বার গুলিতে এই কার্ড ব্যবহার করলে কিছু আকর্ষণীয় ছাড় ও পাওয়া যাবে.

মস্কো শহরে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে, রাশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পদের অনেক বিষয়ই মস্কো শহরে জমা রয়েছে: ক্রেমলিন ও হীরের জাদুঘর সহ ত্রেতিয়াকভস্কি গ্যালারি ও পুশকিন মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস, এছাড়া আরও অসংখ্য দারুণ সব দেখার মতো জায়গা. যার মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের স্থাপত্য ও উদ্যানের নিদর্শন, গির্জা, মন্দির ও মসজিদ ও আরও অনেক কিছু.

শহরের প্রশাসন অনেক কিছুই করছেন, যাতে রাশিয়ার রাজধানীতে রুশ ও বিদেশী অতিথিদের থাকা আরও আরামদায়ক হয়. আর এই ডিসকাউন্ট কার্ডের উদয় হওয়া এই দিকেই আরও একটা পরম্পরা মেনে পদক্ষেপ. এই প্রসঙ্গে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধান ক্সেনিয়া জেমস্কোভা বলেছেন:

“আমাদের মুখ্য লক্ষ্য হল – মস্কো শহরে পর্যটকদের এই কার্ড নিয়ে থাকা সহজ হয়, আরামের হয় ও আগ্রহের সঞ্চার করে. এই কার্ডে এখন সাতটি জাদুঘর ও দুটি এক্সকারশন রয়েছে – একটি দ্বিতল বাসে চড়ে শহর দেখার জন্য ও অন্যটি মস্কো নদীতে স্টীমারে চড়ে এক্সকারশন, আর তারই সঙ্গে রয়েছে বিনা মূল্যের পায়ে হাঁটা এক্সকারশন. এছাড়া পর্যটকরা আমাদের সহকর্মী রেস্তোরাঁ ইত্যাদি, প্রমোদ কেন্দ্রে ছাড় পাবেন, তাছাড়া থাকছে কয়েকটি রুশ রান্না শেখার পেশাদার রাঁধুনীদের কাছ থেকে পাঠ, মস্কোর মেট্রো ও রেড স্কোয়ারের এক্সকারশনের জন্যও ছাড়”.

মস্কো পাস – তা চালু করার পর থেকে কাজ করবে তিন দিন. তা কিনতে পাওয়া যাবে যেমন রাশিয়াতে এসে, তেমনই বিদেশেও, যার দাম ষাট ইউরোর সমান. এই কার্ডে আরও বাড়তি যোগ করা থাকছে শহরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ট্যুরিস্ট ম্যাপ, যার সঙ্গে থাকবে ট্যুরিস্টদের জন্য নানা উপকারী পরামর্শ ও রাজধানী সংক্রান্ত তথ্য. খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে এই কার্ডের সঙ্গে সহযোগিতা করা সংস্থার সংখ্যা বাড়বে, এই রকম ভরসা নিয়ে ক্সেনিয়া জেমস্কোভা বলেছেন:

“আমরা জাদুঘরের সংখ্যা বাড়াতে চাই, যা পর্যটকরা এই কার্ড দিয়ে যেতে পারবেন, তার সংখ্যা প্রায় ১৫- ২০টা হবে. তাছাড়া আমাদের সহকর্মীদের তালিকাও বাড়বে, যারা এই প্রকল্পের জন্য আলাদা করে ছাড় দেবেন. আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে ট্যাক্সি পরিষেবা যোগ করার, কথা হচ্ছে মস্কোর থিয়েটার গুলির সঙ্গে, তাছাড়া নানা কনসার্ট ও শো দেখার ব্যবস্থাও করা হবে. আর অবশ্যই আলাদা করে উল্লেখ করা দরকার, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল যে, যাতে এই কার্ড দিয়ে শহরের বাস ট্রামে ও এয়ারপোর্ট পৌঁছনোর এক্সপ্রেস ট্রেনেও চড়া যায়”.

তাছাড়া, পরিকল্পনা রয়েছে মস্কো পাস ও কোন একটি ব্যাঙ্কের কার্ডের সঙ্গে যোগ করার, মোবাইল পরিষেবার অপারেটর যোগ করাও যেতে পারে, তার সঙ্গে ছাড় দেওয়ার সময় সীমাও বাড়ানো হতে পারে.

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, রাশিয়াতে এই রকমের কার্ড নতুন নয়. একই ধরনের কার্ড দিয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের অতিথিরা গত দুই বছর ধরে যাতায়াত করছেন. সম্ভবতঃ, এই পরিষেবা রাশিয়ার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রেও শুরু হবে. রাশিয়াতে পর্যটন আরও বেশী করেই এখন লোকের কাছে নতুন ব্যাপার হচ্ছে. এই কয়েকদিন আগেও বিদেশী পর্যটকদের আগ্রহ শুধু মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর দুটিতেই সীমাবদ্ধ ছিল, খুব বেশী হলে “স্বর্ণ বলয়ের” শহর গুলি পর্যন্ত. কিন্তু কিছু দিন হল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, লোকে এবারে রাশিয়ার অন্যান্য জায়গাতেও যেতে চাইছেন, যেমন ভলগা নদীর তীরের অপূর্ব সুন্দর শহর গুলিতে, রুশ উত্তরে ও সুদূর প্রাচ্যের শহর গুলিতে.