বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঐস্লামিক দল জামাত এ ইসলামি মঙ্গলবারে সারা দেশ জুড়ে হরতাল ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, তারা প্রতিবাদ করছে তাদের সদস্য ও দেশের প্রাক্তন সব কর্ণধার, যাদের বিরুদ্ধে সামরিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচারের বিরুদ্ধে. এই বন্ধের সময়ে চলেছে পুলিশের সঙ্গেও তীব্র সংঘর্ষ. একজন নিহত হওয়ার ও জনা চল্লিশ গ্রেপ্তার হওয়া খবর পাওয়া গিয়েছে. এই হরতালে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বাড়তেও পারে. বিষয় নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

বন্ধ যারা ডেকেছে, তাদের দাবীর মধ্যে রয়েছে দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বরখাস্ত করে দেওয়া, দেশের বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের নেতৃত্বে মন্ত্রীসভার পদত্যাগ, দেশে অন্তর্বর্তী কালীণ সরকার গঠন ও নতুন করে নির্বাচনের ডাক, তার সঙ্গে যোগ করা হয়েছে মূল্যবৃদ্ধি রোধের প্রসঙ্গ. এই হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে জামাত এ ইসলামি দলকে রাজধানী ঢাকা শহরে মিটিং করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঠিক এক দিন পরেই.

আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে করা এই সমস্ত সামরিক অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের জন্য ২০১০ সালে বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে তৈরী করা হয়েছিল. এখানে যাদের সন্দেহ করা হয়েছে, সেই রকম লোকের সংখ্যা দুই হাজারের উপরে ও তাদের মধ্যে রয়েছে জামাত এ ইসলাম দলের বেশ কিছু বর্তমানের মুরুব্বী লোক. তাদের অভিযোগ করা হয়েছে পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য ও তারই সঙ্গে মানবিকতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ও জঘন্য সমস্ত অপরাধ সংঘটনের জন্য. তারা নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শিশু হত্যা, জেনোসাইড, হত্যা ও অত্যাচার করেছে নির্বিচারে ও গৃহযুদ্ধের দিন গুলিতে তিরিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে ও চার কোটি লোককে উদ্বাস্তু করে দিয়েছে. বিশ্ব এই কথা কখনও ভুলতে পারে না. আশা রয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় এই মাসের শেষেই বের হবে, আর হয়ত, তাই এই রকমের বিপুল প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে বাংলাদেশের ঐস্লামিক জঙ্গী লোকরা. এই হরতালকে আবার সমর্থন করেছে বাংলাদেশের এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রহমানের জাতীয়তা বাদী দল, তাই রাশিয়ার এক বিখ্যাত রুশ ভারত বিশেষজ্ঞ ফেলিক্স ইউরলভ বলেছেন:

“হাসিনা ওয়াজেদের গোষ্ঠী প্রধানতঃ ধর্ম নিরপেক্ষ মতাদর্শে চলেন. দেশের অন্য একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষ – প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল ঐস্লামিকদের উপরেই নির্ভর করে. বাস্তবে প্রধান লড়াই হচ্ছে এই দুই শক্তির মধ্যেই. কিছুদিন আগে হাসিনা ওয়াজেদের প্রশাসন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে করা মানবিকতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের সহায়তা নিতে শুরু করেছিল. তাছাড়া এক সারি আইন গৃহীত হয়েছে, যা স্থানীয় চরম পন্থী ঐস্লামিকদের অন্ধ বিশ্বাসের পরিপন্থী. এই সবই দেশের ঐস্লামিক রাজনীতি করা নেতাদের বিক্ষোভের কারণ হয়েছে”.

তা স্বত্ত্বেও, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে সামরিক অপরাধের বিষয় ও বাংলাদেশের জনগনের স্বার্থের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার কাজের বিচার বিষয়টি আজ খুবই বাস্তব প্রতিধ্বনি তুলেছে. ব্যাপার হল যে, পাকিস্তানের থেকে আলাদা হওয়ার যুদ্ধের সময়ে ও স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মাণের সময়ে, এই দেশেরই চরমপন্থী ঐস্লামিকেরা ছিল ঘোরতর প্রতিবাদী ও তারা ছিল পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর পক্ষে. এই সব দলের সদস্যরাই শান্তিপ্রিয় মানুষদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ ও নানা রকমের অত্যাচার করেছিল, লুঠ করেছিল, তারই সঙ্গে পূর্ব বঙ্গের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়কে ও তাদের মূল প্রতিনিধিদের হত্যা করেছিল.

বর্তমানের শাসক দল আওয়ামী লীগ, যার নেত্রী হাসিনা ওয়াজেদ, তিনি আজ দেশের পার্লামেন্টে বেশীর ভাগ সদস্যের নেত্রী. তাই ঐস্লামিক ও বিরোধী পক্ষের লোকরা আরও বেশী নিয়মিত ভাবেই চাইছে তাদের জন্য অসুবিধার প্রশ্ন পার্লামেন্টের কক্ষের বদলে রাস্তায় নিয়ে যেতে. মিছিল ও বড় জন সমাবেশ করিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে – তারা গণতন্ত্রের পক্ষে, এটা গণতন্ত্রের প্রতীক বলেই. শুধু এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল যে, রাজনৈতিক শক্তি গুলি আইনের কাঠামোর মধ্যেই থাকে, আর তারা যেন গণ হিংসার অবাধ প্রসার না করে.