বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে সহমত না থাকলেও রাশিয়া ও তুরস্ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে ভারসাম্যে রয়েছে বলেই সমর্থন জানিয়েছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের ইস্তাম্বুল সফরের এইটি হল প্রধান ফল.

এইবারের সাক্ষাত্কারের সময়ে প্রধান জোর দেওয়া হয়েছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়েই. দুই দেশের নেতারাই সন্তোষের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, আর্থ- বাণিজ্য সম্পর্ক এবারে গুণগত ভাবেই নতুন স্তরে পৌঁছেছে, যা বলা যেতে পারে বহুমাত্রিক ও এক এগিয়ে থাকা সহযোগিতা.

রাশিয়া তুরস্কের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রধান সহকর্মী দেশ গুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে. এই বছরের ফলাফল অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমান হতে চলেছে প্রায় তিন হাজার পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলারের সমান. ভবিষ্যতের জন্য কাজ হল এটাকেই বাড়িয়ে বছরে ১০ হাজার কোটি করা.

ইস্তাম্বুলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির আলোচনার একটি বিষয় হল – জ্বালানী ক্ষেত্রে সহযোগিতা. রাশিয়া তুরস্কের জন্য প্রধান ও ভরসাযোগ্য খনিজ গ্যাসের রপ্তানীকারক দেশ. দুই পক্ষই আলোচনা করেছে তুরস্কে প্রথম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র “আকুউ” নির্মাণ প্রসঙ্গে. এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমান দুই হাজার কোটি ডলার, এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“সব কিছুই চলছে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে, কোন রকমের দেরী বা বন্ধ হয়ে থাকার সমস্যা নেই. আশা করি, আমাদের তুরস্কের সহকর্মীরা যোগ্য মর্যাদা দিয়েই সমস্ত ঝুঁকির মুল্য দেবেন, যা রুশ পক্ষের উপরে বর্তেছে. আমরা সম্পূর্ণ ভাবেই নিজেদের উপরে এই দুই হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের দায়িত্ব নিয়েছি, আশা করব তুরস্কের প্রশাসনও এই বিষয়ে আমাদের সমর্থন করবেন. আমি আপাততঃ কোন রকমের বিপদ এই প্রকল্পের জন্য দেখতে পাচ্ছি না”.

গত আট বছরের মধ্যে এই ইস্তাম্বুলের সাক্ষাত্কার নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেঝেপ তৈপ এরদোগানের তিরিশতম সাক্ষাত্কার. শুধু এই বছরেই রাশিয়া ও তুরস্কের শীর্ষ নেতারা দুই বার দেখা করেছেন. তবে এটাও সত্য যে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির এই বারের সফরে বিশেষ করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে. সিরিয়ার সমস্যা সমাধানে মস্কো ও আঙ্কারার অবস্থান খুবই আলাদা রকমের. তুরস্ক সিরিয়ার সঙ্কটের সমাধানে বাইরে থেকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে এক অন্যতম প্রকৃত বিশ্বাসী ও সক্রিয় সমর্থক দেশ. পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে তুরস্কের জমিতে সিরিয়া সীমান্তের কাছে রকেট ব্যবস্থা “প্যাট্রিয়ট” বসানোর ফলে. তুরস্কের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, রাশিয়া ও তুরস্কের সম্পর্কে এর ফলে কোন রকমের পতন কি হতে যাচ্ছে না, তার উত্তরে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“আমরা তুরস্কের সীমান্তের কাছে যে ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে উদ্বেগ ভাগ করে নিয়ে থাকি. আমরা খুব ভাল করেই বুঝতে পারি তুরস্কের নেতৃত্ব ও জনগনের অনুভূতির কথা. আমরা সকলকেই আহ্বান করি ধৈর্য্য ধরার জন্য, কারণ সীমান্ত এলাকায় বাড়তি কোন সম্ভাবনা যোগ করে পরিস্থিতিকে হাল্কা করা যাবে না. বরং উল্টো, তা আরও জটিলই হবে. যেমন বলা হয়ে থাকে যে, যদি কোন নাটকের শুরুতে দেওয়ালে কোন আগ্নেয়াস্ত্র ঝোলানো থাকে, তবে নাটকের শেষে তা অবশ্যই গুলি ছোঁড়ার কাজে লাগবে. আমাদের সীমান্ত এলাকায় বাড়তি গোলা বর্ষণে কি কাজ? রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে যা বলা যেতে পারে, আমরা সিরিয়ার বর্তমানের প্রশাসনের কোনও রক্ষাকর্তা নই. আমরা বর্তমানের সিরিয়ার নেতৃত্বের কোন উকিলও নই, আমরা অন্য বিষয়ে উদ্বিগ্ন – ভবিষ্যতে কি হতে চলেছে. আমরা সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চাই না, যা অল্প কিছু দিন আগেই করা হয়েছিল. মনে করা যাক, পশ্চিমের সমাজ কত সক্রিয় ভাবে লিবিয়াতে জঙ্গীদের সহায়তা করেছিল. তখন কে ভাবতে পেরেছিল যে, এই লোকরাই পরিস্থিতিকে ট্র্যাজেডিতে পৌঁছে দেবে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মৃত্যু অবধি. কোন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, ভাবা দরকার, এর পরে কি হবে”.

নিজের পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেঝেপ এরদোগান সমর্থন করে বলেছেন যে, সিরিয়াতে সঙ্কটকে এর পরে আরও ঘণীভূত করার বিষয়ে তুরস্ক আগ্রহী নয়, যা থেকে মানবিক বিপর্যয় হওয়ার ভয় রয়েছে. তিনি বলেছেন:

“আমাদের খুবই আন্তরিক ইচ্ছা সিরিয়াতে রক্তপাত বন্ধ হোক. আমরা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের উপরে দায়িত্ব দেবো বাড়তি পরামর্শ করার জন্য. আমরা চাই, যাতে সব শেষে সিরিয়ার জনগনের ইচ্ছাই সবার উপরে থাকে, যাতে স্বাধীনতাই জয়ী হয়. আমরা সকলের ইচ্ছা ও লক্ষ্যের বিষয়েই মত দিয়েছি”.

0রাশিয়া তুরস্ক প্রমাণ করে দিয়েছে যে, অর্থনীতি রাজনীতির চেয়েও উপরে রয়েছে. কিছু আন্তর্জাতিক প্রশ্নে সহমত না থাকলেও মস্কো ও আঙ্কারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কোন ক্ষতি স্বীকার করতে রাজী নয়. এটা বিশেষ করেই মূল্যবান শুধু দুই দেশের দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যই.