0ইজিপ্টে বহু লোকের মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত লোকের সঙ্গে পুলিশের সঙ্ঘর্ষ আবারও নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমন ছিল এক বছরের কিছু আগে. এই কয়েকদিন আগেও মনে হয়েছিল যে, ইজিপ্টের জন্য পরীক্ষার সময় বুঝি বাস্তবে পিছনেই রয়ে গিয়েছে, কিন্তু এখন এমন একটা ধারণা হচ্ছে যে, দেশ আবার এক বিপজ্জনক গণ্ডীর কাছে পৌঁছচ্ছে.

পিরামিডের দেশে কি হচ্ছে? পর্যবেক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ যেমন মনে করেছেন যে, ইজিপ্ট – এটা শুধু একটা প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র, যা সমস্ত এলাকাকেই জুড়ে রয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

“এই এলাকার বহু দেশেই ক্ষমতার জন্য লড়াই চলছে. ইজিপ্টের “মুসলমান ভাইদের” দল চেষ্টা করছে তাদের এমনিতেই যা মনে হচ্ছে, সেই যথেষ্ট মজবুত অবস্থানকে আরও পোক্ত করতে. তাদেরই সহোদর সব দল গুলি মরোক্কো ও লিবিয়ার ক্ষমতার অলিন্দে উপস্থিত হয়েছে ও তারা এমনকি জর্ডনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরেও প্রভাব ফেলছে. কিন্তু এই সব দেশে, তার ওপরে এই এলাকার আরও অন্যান্য দেশে “ভাইদের” আরও অনেক দিন সেই সাফল্য পেতে দেরী হবে, যা তারা ইজিপ্টে অর্জন করতে পেরেছে”.

এখানে বাস্তবে একটা আকর্ষণীয় পরম্পরা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. আপাততঃ, “ভাইয়েরা” অথবা তাদেরই সাঙ্গোপাঙ্গোদের সব দল বিরোধী পক্ষে যতদিন থাকছে, তত দিনই জনতার মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে. আর যখনই তারা ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিচ্ছে, যেমন ইজিপ্টে, তখনই শুরু হচ্ছে সমস্যা. তার কারণ কি? ধরে নিতে হবে, এই ধরনের কারণ – বেশ কয়েকটা.

প্রথমতঃ, যে সব প্রশাসন ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের খামতি যেগুলি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তার কুত্সা গাওয়া – এটা একটা ব্যাপার, কিন্তু কোন প্রশাসন তৈরী করা, যাতে সকলেই একেবারে খুশী হবে – এটা একেবারেই অন্য ব্যাপার. এই লক্ষ্য – সম্ভবতঃ, ধারণা অনুযায়ী অসম্ভব. যদি এই বিষয়ে শুধু সমাজে যেমন নির্বাচনের আগে, তেমনই নির্বাচনের পরেও আগ্রহ নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে, তবে কোন না কোন ভাবে সমস্যা গুলির সমাধান হতে পারে. কিন্তু যদি আবেগ একেবারেই উথলে ওঠে, যদি এক দল, অন্য দলকে শুনতে না পায়, তবে যে কোই এমনকি সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রশ্নও খুব কড়া বিরোধের জন্য কারণ হতে পারে.

আর কেনই বা এই ভাবে আবেগ বেড়ে ওঠে? কারণ সত্যই এই এলাকার মানুষদের জীবনযাত্রা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে. এই এলাকায় কয়েক দশক ধরে সমাধান না হওয়া সমস্যা জমে পাহাড় হয়ে উঠেছে. চোখের সামনেই রয়েছে – সামাজিক জীবনের সমস্যা: কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ক্রয়যোগ্য বাসগৃহ. কিন্তু এই সব সমস্যার ভিত্তিতে রয়েছে – পিছিয়ে পড়া অর্থনীতি, যা আধুনিকীকরণের জন্য জাতীয় বাজেটে একটানা ভাবেই অর্থের অভাব চলে এসেছে. আর এই সামাজিক ঝঞ্ঝার সময়ে অর্থ নিশ্চয়ই বেশী করে পাওয়া হয় নি.

তাই, দুঃখের হলেও, বলতেই হচ্ছে যে, এলাকা এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে এসে পড়েছে. জাতীয় বাজেট সঙ্কুচিতই হচ্ছে, জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে – এই রকমের পরিস্থিতিতে সমস্ত সমস্যার আশু সমাধান শুধু জাদুকরের পক্ষেই করা সম্ভব. সুতরাং এখন এই বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই, বরং সেই পরিস্থিতি সৃষ্টির দরকার, যখন কম বেশী শান্ত পরিস্থিতিতে এই সমস্ত নিত্য বেড়ে ওঠা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব.

এই লক্ষ্য – নীতিগত ভাবে অর্জনের যোগ্য. কিন্তু বাস্তবে এত জটিল অবস্থায় এটা খুব কম লোকেরই পক্ষে করা সম্ভব. তাই বাস্তবে এই এলাকা এক বড় বিস্ফোরণের সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে.

আমাদের অনুষ্ঠানের অন্য এক অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ ভিক্টর নাদেইন- রায়েভস্কি মনে করেন যে, এই এলাকা ইতিমধ্যেই এই গণ্ডী পার হয়ে গিয়েছে. তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিকে তীক্ষ্ণ করার বিষয়ে শুধু আভ্যন্তরীণ বিরোধই নয়, বরং বাইরে থেকে করা নেতিবাচক প্রভাবও কাজ করছে, তাই তিনি বলেছেন:

“কয়েক দশক ধরে সব হয়েছে যেন, কোন আগে থেকেই করে রাখা রাস্তা দিয়ে, পশ্চিমের দেশ গুলিকে এই এলাকার দেশ গুলি নিয়মিত ভাবেই খনিজ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করে গিয়েছে. আর সেখানে যে সমস্ত প্রশাসন কাজ করেছে, তারা সব মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপের সঙ্গীদের পছন্দসই ছিল. আগেও এই এলাকাতে বিরোধের পরিস্থিতি ছিল, কিন্তু তা এত বিস্ফোরক, আর মোদ্দা কথা হল যে, চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া বর্তমানের অবস্থার মত ছিল না. কিন্তু এই কাঠামোয় এক নতুন কারণ যোগ হয়েছে: পশ্চিমের অর্থনীতিতেই সব মিলিয়ে সুদূর প্রসারিত কাঠামোর সঙ্কট”.

পশ্চিম দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর এর অর্থ হল, তারা এই এলাকায় কম প্রভাব ফেলতে পারছে, যে এলাকাকে তারা মনে করে এসেছে নিজেদের বাঁচার স্বার্থের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে. তারই মধ্যে সেই সব দেশের জন্য, যা পশ্চিম মনে করেছে নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক প্রতিদ্বন্দ্বী বলে, সঙ্কট আপাততঃ পৌঁছতে পারে নি, আর হতে পারে যে, এই ভাবেই আরও পৌঁছতে পারবে না.

0এখানে কথা হচ্ছে প্রাথমিক ভাবে চিনের, যদিও শুধু তাকে নিয়েই নয়. বর্তমানের পরিস্থিতিতে নিকটপ্রাচ্যে ও উত্তর আফ্রিকাতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার জন্য পশ্চিমের প্রয়োজন পড়েছে, এখানের প্রশাসন গুলিকে একের পর এক করে দুর্বল করে দেওয়া – প্রসঙ্গতঃ, এটা দরকার ছিল তার আগেই, যতক্ষণ না সকলের নজরে পশ্চিমের দুর্বলতাই ধরা পড়তে শুরু করে. কিন্তু একের পর এক করে করাটা সম্ভব হয় নি- একটা সংশোধন করে দিয়েছে আরব বসন্ত নিজেই. তার খুবই উত্তাল প্রধানতঃ পশ্চিম বিরোধী শুরুই পশ্চিমে সত্যিকারের আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল. তাই পশ্চিমের দেশ গুলি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দ্রুত ও রুক্ষ ধরনের. এখন বুঝতে হবে যে, পশ্চিমের এই এলাকায় বাকী পড়ে থাকা সমস্ত প্রভাব খাটানোর ব্যবস্থাকেই কাজে লাগানো হয়ে গিয়েছে, যাতে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে দেওয়া যায় খুব দ্রুত ও অনেক দিনের জন্যই, যাতে সকলেই সকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়. আর আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে, তার কিছুটা বাস্তবে করা সম্ভবও হয়েছে.