গাজা সেক্টরে যুদ্ধ কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কোন কিছুই ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা পেতে আবেদনপত্র জমা দেওয়ায় বাঁধা দিতে পারে নি. সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি পর্বে ১৯৩টির মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে ১৩৮টি ভোট পড়ে. যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ আরও ৬টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়.

ভোট কার্যক্রমের শেষে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন ওই ভোট যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য এক প্রকারের সংকেত বলে উল্লেখ করেছেন. তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতে আজ বিশ্ব ক্লান্ত হয়ে পড়েছে. ওদিকে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন একে দুঃখজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন. তিনি বলেন, “এর ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে আরও বাড়তি সমস্যা সৃষ্টি করবে. শুধুমাত্র ইসরাইল-ফিলিস্তিন পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনাই শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে এবং আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গি অপরিবর্তিন রাখব. উভয় দেশই তা চাচ্ছে. যখন গনতান্ত্রিক ইসরাইলের কাছ থেকে ফিলিস্তিন বিশ্বে নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাস করতে পার”.

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়. এদিকে শুক্রবারই ইসরাইল ঘোষণা করেছে যে, অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ইসরাইল আরও ৩ হাজার বাড়িঘর তৈরী করবে. তা হবে জেরুজালিমের পূর্বে ও জর্দান নদীর পশ্চিম উপকূলে. জাতিসংঘ একই দিন একটি খসড়া সিদ্ধান্ত অনুমোধন করেছে. এতে ইসরাইলকে ১৯৬৭ সালে অধিগ্রহণ করা জেরুজালিমের নিয়ন্ত্রন ফিরিয়ে দিতে এবং ফিলিস্তিনিদের সাথে আলোচনা শুরু করার আহবান জানানো হয়.

১৯৬৭ সালের পর এ সংক্রান্ত ১৫ বার খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল জাতিসংঘ. তার কোনটিই নির্দিষ্ট আইনি শক্তিতে পরিণত হতে পারে নি এবং একটিও কার্যকর হয় নি. অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, ফিলিস্তিন সংক্রান্ত ওই খসড়া নিয়ে কিছু প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা পূর্বের মতই হারিয়ে যাবে. এখানে ইসরাইলের হাতে রয়েছে মূল চাবিকাঠি যা নিয়ে ফাতাহা ও হামাসের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে. তাছাড়া ফিলিস্তিন ভূখন্ডে তৃত্বীয় শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যাদের অর্থ যোগান দিচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ. তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট নিরসনে যে কোন পদক্ষেপ থেকে সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই. শুরুতে ফিলিস্তিনের নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমধান করা উচিত.

তবে অনেকে আবার আশাবাদীও. কয়েকজন রুশী বিশেষজ্ঞ ফিলিস্তিনের নতুন এ মর্যাদা সংকট নিরোসনে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন. এমনটি বলেছেন রাশিয়ার কলা-মানবিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক প্রাচ্য বিভাগের প্রফেসর গ্রিগোরী কাসাচ. তিনি বলেন, “এই মর্যাদা পাওয়ার ফলে হামাস গ্রুপ মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন প্রশাসনের কাছে নির্ভরশীল থাকবে. হামাস ফিলিস্তিন প্রশাসনের কাছে যেতে বাধ্য থাকবে. কারণ হচ্ছে নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধি করার তা প্রতিটি ফিলিস্তিনীদের দাবী”.

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা বিষয়ক আরেক রুশী বিশেষজ্ঞ সেমেন বাগদাসারোভ বলেছেন, ফিলিস্তিনীদের নতুন এ মর্যাদা সংকট নিরসনের জন্য আলোচনা শুরুর পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে.

তিনি আরও বলেন, “প্রথমত, ইসরাইলের সাথে আলোচনা করার জন্য এটি ফিলিস্তিনের মর্যাদা বাড়িয়ে তুলবে. দ্বিতীয়ত, ইসরাইলীদের বুঝতে হবে যে, তাদের একসারি সমস্যা সমাধান করতে হবে. এ কথা ঠিক যে, ইসরাইলে আসন্ন নির্বাচনের ওপরই অনেক কিছুই নির্ভর করছে এবং তাতে কে বিজয়ী হবেন. বামপন্থি জয়ী হবে যারা আলোচনার পক্ষে এবং ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে নাকি ডানপন্থি লিকুদ. তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে রুপ নিবে. পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে. সেক্ষেত্রে অনেক কিছুই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক কমিউনিটির ওপর”.

নতুন মর্যাদা পাওয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে এখন উল্লাস চলছে. যদিও এই উল্লাস কিছুটা হলেও সম্প্রতি গাজা ভূখন্ডে ঘটে যাওয়া গত ১৪ থেকে ২১ নভেম্বর যুদ্ধের কিছু তথ্য সবাইকে শংকিত করেছে. হামাসের মুখপাত্র তাহের আন-নুনু বলেন, ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজা সেক্টরে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও অধিক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে.