রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মেক্সিকোর কাছ থেকে “জি-২০” গ্রুপের সভাপতির পদ এক বছরের মেয়াদের জন্য গ্রহণ করেছে. এই ঘটনার পরিপেক্ষিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনকালে রাশিয়ার প্রধান কর্তব্য হবে বিশ্ব অর্থনীতি ও এর উন্নয়ন সংক্রান্ত সমস্যাবলীর সমাধান করা. আর এর জন্য বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হবে.

বিশ্বের ১৯টি শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে জি-২০ গ্রুপ সংগঠিত হয়েছে. বিশ্বে প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে ৯০ ভাগ ও বিশ্ব বানিজ্যের ৮০ ভাগ কার্যক্রম হয়ে থাকে জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর কারণে. বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা থেকে পরিত্রানের জন্য জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে মিলিত হয়েছিল.

নিজেদের সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহনের অংশ হিসেবেই মস্কো জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বেশ কয়েকটি বৈঠকের আয়োজন করবে. সংস্থাটির অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বাংকের প্রধানদের নিয়ে এ ধরণের প্রথম সম্মেলন আগামী ২০১৩ সালের ১৫-১৬ ফেব্রুয়ারী মস্কোতে অনুষ্ঠিত হবে. এ দিকে আগামী ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর সেন্ট-পিটার্সবার্গে জি-২০ এর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে.

১ ডিসেম্বর থেকে উদ্বোধন করা হয়েছে জি- ২০ এ রাশিয়ার সভাপতি পদে দায়িত্ব নিয়ে তৈরী করা বিশেষ ওয়েবসাইট. এ সংস্থাভুক্ত প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশের উদ্দ্যেশ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের একটি ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে.

ভিডিও বক্তব্যে পুতিন বলেন, “জি-২০ এর সভাপতির দায়িত্ব থাকাকালিন রাশিয়ার প্রধান মনোযোগ থাকবে জি-২০ এর কার্যকারীতা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্র বাড়ানো ও অর্থনীতির সূচক বৃদ্ধি করা. এর জন্য কি করা উচিত?. আমাদের জন্য এর উত্তর পরিষ্কার. বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, বিশ্বাষ ও বাজার সম্প্রসারন এবং তার কার্যকরী নিয়ন্ত্রন”.

রাশিয়া যে সব বিষয়ের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিবে তার মধ্যে রয়েছে- মূদ্রা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, অর্থনৈতিক পদ্ধতিতে সুনিয়ন্ত্রন, বিশ্ব জ্বালানী বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা, বিশ্ব উন্নয়নে অংশগ্রহণ,বানিজ্য বৃদ্ধি ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম.

জি-২০ সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রাখার এক সুযোগ পাবে রাশিয়া. দুমার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সহকারী প্রধান ভিয়াচেসলাভ নিকোনাভ রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এমনটিই বলেছেন. তিনি আরও বলেন, ''যখন ইউরোপের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশগুলো চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, সেক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রভাব অনেক বেশী. তাছাড়া রাশিয়া জি-২০ এর সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছে সবকটি ব্রিকস দেশের( ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) পক্ষ থেকে. আর এ সব দেশ বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে".

জি-২০ এর প্রতিটি সভাপতিত্বের দায়িত্বে থাকা দেশের প্রধান কাজ হচ্ছে ফোরামে যে সব নির্দিষ্ট বিষয়বলী নিয়ে আলোচনা করা হবে তার গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করা. বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক ফেওদার লুকিয়ানোভ বলেন, রাশিয়ার প্রধান কাজ হবে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা. তাছাড়া অর্থনীতির বৃদ্ধি ও চাকুরির বাজার বাড়ানো. রাশিয়া জ্বালানী প্রসঙ্গ তুলে ধরবে. গরীবদের সাহায্য নিয়ে সবসময়ই আলোচনা করা হয়.

আগামী ২০১৪ সালে জি-২০ এর সভাপতির দায়িত্ব অষ্ট্রেলিয়াকে দেওয়া হবে.